মহেশখালীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

মফিজুর রহমান | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৬:১৫:৩৯ পিএম
মহেশখালীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি কক্সবাজারের মহেশখালীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুঠেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক পরিচর্যায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এ জাতের ধানের ফলনে অন্য কৃষকরাও আশার আলো দেখছেন।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলা জুড়ে ১৮ হাজার ১০১ হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। এর মধ্যে এবছর ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এধরনের জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-৭১, ব্রিধান-৭২, ব্রিধান-৭৪, ব্রিধান-৮৭, বিনা-৭ ও ১৬ জাতের ধান।

সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। গাছের শীষ ধানে নুইয়ে পড়ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। যদিও এরই মধ্যে কোন কোন এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে।

কৃষকরা জানান, এই ধানের রোগবালাই খুব কম। ফলন আশার চেয়ে বেশি হয়েছে। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিকে ধান কাটা হয়। এবার মাস দেড়েক আগেই এই ধান পাকতে শুরু করেছে। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা।

শাপলাপুরের কৃষক আলী হোসেন বলেন, এবার ৩ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে এবং আগামীতে আরও বেশি বোরো চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

স্থানীয় এক কৃষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর বোরো ধান ভালো হয়েছে। ফলে আমাদের অনেক আনন্দ লাগছে। এই ধানের রোগবালাই খুব কম। ফলন আশার চেয়ে বেশি হয়েছে। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিকে আমন ধান কাটা হয়। এবার মাস দেড়েক আগেই এই ধান পাকতে শুরু করেছে। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার লাভবান হবেন বলে আশা করছি।

নাফকো প্রাইভেট লিমিডেটের দায়িত্বরত মহেশখালী ফিল্ড অফিসার মোঃ আখতার হোসেন জানান, দেশি জাতের ব্রি’ ধান ২৮/২৯ এ ধানটি তেমন ভালো ফলন হয় না। তবে খেতে অনেক সুস্বাদু এবং হাইব্রিট জাতের ধান ভালো ফলন হলেও খাওয়াতে ভাত ঝর ঝরে কম হয়। এজন্য অধিকাংশ কৃষকদের চাহিদা দেশি জাতের ধান।  

মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান,  বোরো মৌসুমে কম সময়ে অধিক ধান ফলন হয়। এমন জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি এবং কৃষি ধান, গম, পাঠ,  ব্রি'ধান উৎপাদন প্রকল্প  থেকে প্রতি মৌসুমে ৭৫ জন কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।  যার ফলে ফলনও ভালো হয়েছে। জমিতে বোরো ধান চাষের আগে আলু, বেগুন, মরিচ সহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করতে পারবে। এটি কৃষকদের বোনাস ফসল। কৃষকের উৎপাদন আয় দুটোই বাড়বে।

মহেশখালী প্রতিনিধি/এসআর/দৈনিক বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন