দেড় বছর পর ঢাবিতে সশরীরে ক্লাসে ফিরলো শিক্ষার্থীরা

দৈনিক বাংলাপত্রিকা | শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ | ১১:৪০:০৩ এএম
দেড় বছর পর ঢাবিতে সশরীরে ক্লাসে ফিরলো শিক্ষার্থীরা আজ রোববার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ পর রোববার শিক্ষার্থীরা সশরীরে ক্লাসে উপস্থিত হতে শুরু করেছে।

এর আগে গত গত ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ১৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্লাস পরীক্ষা শুরু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইন্সটিটিউটগুলোর ক্লাস রুম ও পরীক্ষার হলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে যেসব চেয়ার টেবিল নষ্ট হয়েছে সেগুলোও ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোও রং করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুনভাবে নেওয়া উদ্যোগ অনুযায়ী, একাডেমিক কাউন্সিলে গৃহীত লস রিকভারি প্ল্যান অনুযায়ী একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের একাধিক সেকশনে বিভক্ত করা হবে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো, অবশ্যই সার্বক্ষণিক মাস্ক পরিধান করতে হবে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, পরস্পরের কাছ থেকে কমপক্ষে ১ মিটার (৩ ফুট) শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, শ্রেণিকক্ষেও দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া ল্যাবে কাজের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরির ধারণ ক্ষমতা, বসার ব্যবস্থা, কাজের বিন্যাস এবং যাতায়াতের পথযুক্ত নকশা তৈরি করতে হবে ও সর্বত্র প্রদর্শন করতে হবে, এ সব নির্দেশনাবলী শিক্ষার্থীদের আগেই জানাতে হবে, শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে ল্যাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে, ব্যবহৃত পিপিই যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, কোভিড-১৯ লক্ষণ থাকলে বাসায় বা হলের কক্ষে থাকতে হবে ও কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, লক্ষণযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহনে চলাচলের সময় অবশ্যই সার্বক্ষণিক মাস্ক পরতে হবে, বাসে ওঠার আগে দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ বাধ্যতামূলক করতে হবে, বাস এবং অন্যান্য যানবাহনে প্রবেশ ও বহির্গমন পথে ভিড় এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, যানবাহনে প্রবেশ ও বহির্গমণের জন্য আলাদা দরজা নির্ধারণ করতে হবে, শুধু ক্লাস থাকলেই নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহন ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে ও যেতে পারবে, সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার পরিহার করতে হবে।

এসআর/দৈনিক বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন