প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নদীতে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বাড়ী-ফসলি জমি

মোঃ হাসান আলী | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১ | ০১:১৪:৪৫ এএম
প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নদীতে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বাড়ী-ফসলি জমি লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মোকলেছুর রহমান (চকলেট)'র বাড়ীর সামনে রত্নাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী ভাঙ্গনে অর্ধশতাধিক বাড়ী হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও ফসলি জমির কয়েক বিঘা ইতিমধ্যে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান জোবাইদুল ইসলাম জোবেদ এর নেতৃত্বে ভূমি-দস্যুর একটি দল প্রতিনিয়ত ড্রেজার মেশিন দিয়ে কুলাঘাট ইউনিয়নের ধরলা ও রত্নাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে এবং উত্তোলনকৃত বালু শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে মোটা অংঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রশাসনের জোরচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম জানান, এর আগেও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলীর বাড়ীর পাশে রত্নাই নদী থেকে বালু উত্তোলনে নদীর পাড় ও চলাচলের রাস্তা ভেঙ্গে যায়। স্থানীয়রা বাঁধা দিলে ভূমি-দস্যুদের সাথে, এলাকাবাসীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে এলাকাবাসীর পক্ষে তিনি বাদী হয়ে জোবাইদুল ইসলামকে ১নং আসামী করে ৪জনের নামে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। বিরোধ মিমাংসার মর্মে জামিন নিয়ে পুনরায় মোকলেছুর রহমান (চকলেট)'র বাড়ীর সাথে মসজিদের সামনে থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে।

কুলাঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে বালু উত্তোলন বন্ধ করে। সেখান থেকে ফিরে আসার পর এবং রাতের আধারে আবারও বালু উত্তোলন শুরু করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল রানার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ এলাকা থেকে গত শুক্রবার বিকাল বেলা বালু উত্তোলনের ঘটনাটি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং বকুল নামের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন। বালু তোলার কাজে ব্যবহৃত পাইপ ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরে মুচলেখার মাধ্যমে আটককৃত আসামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জোবাইদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কোন সুফল মেলেনি। তাকে পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ফজলার রহমান মন্ডল জানান, ভূমি-দস্যুরা অবৈধভাবে অধিক বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাশে থাকা মসজিদ, কুলাঘাট বাজার, কুলাঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুলাঘাট উচ্চ বিদ্যালয় এবং আতাউর রহমান (ভেন্ডার), একরামুল, মিজানুর রহমান, বাবু মন্ডল, তফা উদ্দিন, আশরাফুল, আদম, একরামুলের বাড়ীসহ ৫০টির বেশী বাড়ী হুমকির মুখে।

এলাকাবাসীর জোড়ালো দাবি যাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত করে ভূমি-দস্যুদের আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি/এনএ/দৈনিক বাংলাপত্রিকা



খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন