মহেশখালী উপজেলার লাখ মানুষের প্রাণের দাবি একটি সেতু

মফিজুর রহমান | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১ | ০৫:২৫:৩৯ পিএম
মহেশখালী উপজেলার লাখ মানুষের প্রাণের দাবি একটি সেতু কক্সবাজার, মহেশখালী উপজেলা লাখ মানুষের প্রাণের দাবি একটি সেতু। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন কালের বিবর্তনে সবকিছুই পরিবর্তন হলেও  উপজেলা লাখ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। মহেশখালী টু কক্সবাজার সদরে যোগাযোগের ২৫ মিনিটের নৌ—রুটে মেলেনি একটি সেতু। এ নৌ—রুটে বছরের পর বছর নানান দূর্ঘটনা শিকার হচ্ছে শত শত নৌ—রুটে যাত্রী। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও সেতু স্থাপন না হওয়ায় লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পীড বোট, গাম বোট নিয়ে  কক্সবাজার শহরের সাথে যোগাযোগ করে আসছে।

প্রতিদিন নদী পার হয়ে এ পার থেকে ওপারে যেতে যেন তাদের হিমশিম খেতে হয়। বিশেষত বর্ষায় বাঁখখালী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাডি ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধি পেলে ব্যবসা—বাণিজ্য, কোর্ট, কলেজ প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতে ঘটে প্রায় দূর্ঘটনা।

জানা যায়, অক্টোবর ২০২০ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমানের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রেরণ করেন। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এর সেতু বিভাগ এর সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন নিজে এসে পরিদর্শন করেন। সেতু নির্মাণে আশ্বাস দিয়ে ছিলেন।

বর্তমান সময়ে মহেশখালীকে প্রধান বাণিজ্যিক সেন্টার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ বাণিজ্যিক স্থান থেকে কক্সবাজার সদরে যাতায়তে মূল কেন্দ্র মহেশখালী জেটিঘাট। সময়ের ব্যবধানে যাতায়তে ক্ষেত্রে সবকিছু পরিবর্তন হলেও, একটি সেতুর কারণে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গেইম চেঞ্জার। এখনো অদৃশ্যমান রয়েছে মহেশখালী টু কক্সবাজার সদরের সংযোগ সেতু। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ও স্বাধীনতার পরে ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজো দেখতে পায়নি এ উপজেলা লাখ বাসিন্দারা একটি সেতু। যার ফলে প্রতিদিন লাখো মানুষের ভোগান্তি।

মহেশখালী জেটিঘাটে সেতু নির্মাণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় সুফল পাবেন ৯টি ইউনিয়ন। সেতু ব্যবহার করে, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, কালারমারছড়া, শাপলাপুর, ছোট মহেশখালী, হোয়ানক, নতুন বাজার, কুতুবজোম, ঘটিভাঙ্গা ও মহেশখালী পৌরসভা সহ বেশ কয়েকটি গুরুপূর্ণস্থানের মানুষ। এ সব এলাকার মানুষগুলো বাণিজ্যিক ও অন্যান্য কাজে নিয়মিত কক্সবাজার সদরে যাতায়ত করেন। স্থানীয়রা বাণিজ্যিক সুবির্ধাথে এ নদীর উপরে একটি সেতু নির্মাণে দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে স্বাধীনতার পর থেকে। কক্সবাজারের অন্যাতম বাণিজ্যিকস্থান হলো কক্সবাজার সদর। মহেশখালী নদী পারাপারে নিত্যদিনের সমস্যা যেনো তাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণে ৪৬ বছরের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় উপজেলাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা সহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণের অধিকার থেকে।

১০ (রবিবার) অক্টোবর বিকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মহেশখালীতে জেটিঘাটে সরিবদ্ধভাবে ৩০/৪০ জন যাত্রী লাইনে দাড়িয়ে আছে। ২টি স্পীড বোট ও ১টি গাম বোট যাত্রী তুলতেছে এবং ঘাটে ১৫/২০টির অধিক স্পীড বোট মজুদ রাখা হয়েছে। তবে এ স্পীড বোটগুলো যাত্রী পারাপারে ব্যবহার হয় না। এদিকে জেটিঘাটের অর্ধেক অংশ জরাজিণ কাঁঠের ছোট্ট ঝুঁকিপূর্ণ একটি সেতু। এ সেতু ব্যবহার করে স্পীড বোট, গাম বোট যাত্রীরা উঠা—নামা করেন। এ কাঁঠের সেতু যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে দূর্ঘটনা হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি মো. খাইরুল আমিন বশর বলেন, মহেশখালী উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পাড়ি দিচ্ছে। নদী পার হয়ে কক্সবাজার সদরে যাতায়ত করে। একটি সেতুর অভাবে ছোট ছেলে—মেয়েকে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাঁঠের সেতু উপর দিয়ে স্পীড বোটে উঠা—নামা করছে। এতো মানুষের ভিড়, যে কোনো মুহুর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও প্রয়োজনের কারণে যেতে হয়। নদীর ওপর সেতু হলে আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।

রোগী নিয়ে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার সদর থেকে মহেশখালী জেটিঘাট পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসছি। স্পীড বোট থেকে নামতে বাবাকে কাঁধে নিয়ে নামাতে হয়েছে। এমন অবস্থায় অনেক রোগী বা গর্ভবতী মহিলা মুমূর্ষু হয়ে পড়েন। এ ছাড়াও সময়মত বোট পাই না, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং বোট চালকদের অশ্লিল আচারাচরণ। নানান অনিয়মের কারণে মহেশখালী জেটিঘাটে হাজারও মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তি হচ্ছেন। এ ভোগান্তি, অনিয়মে, ঝুঁকি কমাতে আমাদে জেটিঘাট থেকে কক্সবাজার ৬নং ঘাট পর্যন্ত একটি সেতু খুবই প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। এবিষয়ে মহেশখালী উপজেলার লাখো মানুষ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কামনা করেছেন।

মহেশখালী প্রতিনিধি/দৈনিক বাংলাপত্রিকা


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন