সেই রাতে কী করেছিলেন পরীমনি, জানালেন নাসির

দৈনিক বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | বিনোদন
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জুলাই ২০২১ | ০৯:৫০:৫৬ পিএম
সেই রাতে কী করেছিলেন পরীমনি, জানালেন নাসির
চিত্রনায়িকা পরীমনির করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাভোগের পর জামিন পেয়ে সেই রাতের ঘটনা বিবৃতি আকারে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আবাসন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন আহমেদ। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ৮ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনি মদ পান করেন। একটি দামি ব্রান্ডের মদের বোতল সঙ্গে করে নিয়ে আসতে চান। এতে বাধা দিলে ক্লাবে তাণ্ডব চালান। তাণ্ডবে বাধা দিলে ৩-৪ দিন পর তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তার নামে মিথ্যাচার করেন।

গত ২৯ জুন আদালত থেকে জামিন পান নাসির। এর আগে গ্রেপ্তারের সময় নিজেকে ভিকটিম বলে তিনি দাবি করেছিলেন। গতকাল রোববার গণমাধ্যমে তিনি যে বিবৃতি দেন, তার সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ৮ জুন রাতের একটি ভিডিওর সঙ্গে মিল রয়েছে।

নাসিরের বিবৃতি-

সম্প্রতি আমাকে (নাসির) নিয়ে প্রচারিত একটি মিথ্যা ঘটনা নিয়ে নায়িকা পরীমনি যে অপপ্রচার করেছেন তা আপনারা ইতোমধ্যেই জেনেছেন। আপনাদের সদয় অবগতির জন্য সেদিন আসলে কী ঘটেছিল তা আমি বলতে চাই। আমি ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যকরি পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে ক্লাবের ডিসিপ্লিন, মেনটেইনেন্স, কালচারাল অ্যাফেয়ার্স ও এন্টারটেইনমেন্টের দায়িত্বে নিয়োজিত।

সেদিন রাত (৮ জুন) আনুমানিক ১২টায় বোট ক্লাবেরই একজন সদস্যের সঙ্গে তিন জন অতিথি ক্লাবের বারে প্রবেশ করেন। আমি তখন অন্য টেবিলে অন্য সদস্যদের সঙ্গে বসে ছিলাম। আমি দূর থেকে লক্ষ্য করছিলাম তারা (পরীমনিসহ ওই চারজন) মদ্যপ অবস্থায়ই ক্লাবে প্রবেশ করেন। এ অবস্থায় তারা আমাদের পাশের একটি টেবিলে বসেন এবং ওয়েটারদের ড্রিংকসের বোতল দিতে বলেন। ওয়েটাররা এক বোতল ড্রিংকস টেবিলে সার্ভ করেন, তা অতি দ্রুত তারা শেষ করে ফেলেন এবং আরও এক বোতল ড্রিংকস টেবিলে আনান এবং সেই বোতলের অর্ধেকেরও বেশি শেষ করে ফেলেন। এ সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরীমনি (যার নাম আমি পরে জেনেছি) একটি দামি তিন লিটারের ‘ব্লুলেবেল’র বোতল বারের সেলফ থেকে নিজ হাতে তুলে নিয়ে টেবিলে আসেন এবং তার সঙ্গে নিতে চান। এ সময় ওয়েটাররা তা নিতে বাধা দিলে পরীমনি ক্ষিপ্ত হন এবং ওয়েটারদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টেবিলে রাখা প্লেট-গ্লাস অনবরত ছুড়ে ভাঙতে থাকেন।

নাসির তার বিবৃতিতে আরও বলেন, যেহেতু আমি ক্লাবের ডিসিপ্লিনারি ইনচার্জ, সেহেতু বিষয়টির ব্যাপারে ওয়েটাররা আমার সাহায্য চায়। তখন আমি পরীমনিদের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে বলি এই ড্রিংকসের বোতল বিক্রি যোগ্য নয়। সেসময় পরীমনি আমাকে তুই-তোকারি করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং টেবিলে রাখা প্লেট, গ্লাস ছুড়ে মারতে থাকেন। আমি তাকে বারবার অনুরোধ করি, যাতে তিনি এসব থেকে নিভৃত হন। কিন্তু পরীমনি তা কর্ণপাত না করে উল্টো আমাকে লক্ষ্য করে গ্লাস ছুড়তে থাকেন এবং এক সময় একটি গ্লাস আমার ঘাড়ে লাগে। পরে আরও গ্লাস ছুড়তে চেষ্টা করলে আমি তাকে শান্ত হতে বলি। সেই মুহূর্তে তার সঙ্গে আসা জিমি (পরে নাম জেনেছি) আমার ওপর চড়াও হয়।

এ অবস্থায় ক্লাবের বাইরে দায়িত্বরত সিকিউরিটি স্টাফদের ডাকি। কিছুক্ষণ পরেই ক্লাবের সিকিউরিটিরা উপস্থিত হন এবং বলি তাদের ক্লাব থেকে বের করে দাও। এ কথা বলে আমি ক্লাব ত্যাগ করি। ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর পরীমনি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন এবং এর কিছুক্ষণ পর তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে আমাকে নিয়ে তার মিথ্যাচারে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি।

ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নাসির বিবৃতিতে আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মহামান্য আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমি ন্যায় বিচার পাব।

এর আগে গত ২১ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় পরীমনি বোট ক্লাবের একটি চেয়াসে বসে মদ পান করছেন। সামনে একটি টেবিল, তার ওপাশে আরও কয়েকজন ব্যক্তি বসে আছেন। ওই ব্যক্তিরা ছিলেন অমি ও জিমি। তারাও মদ্যপান করছিলেন। বোট ক্লাবের পরিচালনা পরিষদের সদস্য নাসির ইউ মাহমুদ পরীমনিকে মদ পান করতে নিষেধ করেন। তখন পরীমনি একটি বোতল নিতে চান। এ সময় নাসির তাকে বলেন, আপনি কোনো বিদেশি মদ নিতে পারবেন না।

ভিডিওতে দেখা যায়, পরীমনিকে উদ্দেশ্য করে নাসির বলেন, ‘হোয়াট ইজ দিস, প্লিজ স্টপ ইট, ডোন্ট ডু দিস, ইটস ঠু মাচ।’ নাসিরের উত্তরে পরীমনি বলেন, ‘অ্যাই যান তো আপনি!

এর আগে বোট ক্লাবের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত আরেকটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছিল। ফুটেজটি ৮ জুন ঘটনার রাতের। যেখানে দেখা যায়, রাত ১২টা ২২ মিনিটে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে একটি কালো গাড়ি দাঁড়ায়। সেই গাড়ি থেকে পরীমনি, জিমি ও অমিকে নামতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর গাড়ি থেকে বের হন বনিও। ক্লাবের রিসিপশনেও অমির সঙ্গে পরীমনিসহ অন্যদের ঢুকতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে পরীমনি অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বনানীতে নিজের বাসা সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি। সেখানে ৮ জুন রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান। ১৪ জুন সাভার থানায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন পরীমনি। সেদিনই বিকাল তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে নাসির ও অমি এবং তিনজন নারীসহ পাঁচজন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পুলিশ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন