আসুন আমরা সাংবাদিকতা ছেড়ে দালালী করি

মোঃ শহীদুল্লাহ | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ মে ২০২১ | ১১:১০:৪১ এএম
আসুন আমরা সাংবাদিকতা ছেড়ে দালালী করি আসুন আমরা সাংবাদিকতা ছেড়ে দালালী করি। কারণ সাংবাদিকতা করতে গেলে কারাগারে যেতে হবে ঠিক রোজিনা ইসলামের মতো। যারা প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতা করবেন তাঁদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে কায়মনোবাক্যে লালন করে সাংবাদিকতা করতে হবে। সেই সাংবাদিকতা করতে গেলেই পদে পদে বিপদ। তাই বলি কি আমাদের বেতনভোগী গোলাম স্যারদের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ শুধুমাত্র মুখে মুখে বলবো সভা আর সেমিনারে বক্তব্যে বলবো। কাজে কর্মে প্রতিফলন ঘটাবোনা। আমাদের হৃদমাজারে কিন্তু থাকবে আমাদের বেতনভোগী গোলাম স্যারদের আদি পিতা ইংরেজ দাদা আর তাদের পাকিস্তানি বাবাদের মূল্যবোধ। যে মূল্যবোধে থাকবে ইংরেজদের ও পাকিস্তানিদের শোষণের দর্শন।

স্বাধীনতার মূল্যবোধ শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজনই লালন করবেন এবং তাঁর দপ্তরে থাকবে। তবে সচিবালয়, ডিসি ও ইউএনও অফিসে থাকবেনা। কারণ স্বাধীনতার মূল্যবোধ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন তাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে স্বাধীনতার মূল্যবোধ হল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। স্বাধীনতার মূল্যবোধ মানে হল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলা এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের প্রতি সম্মান দিয়ে এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোই হল স্বাধীনতার মূল্যবোধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

স্বাধীনতার মূল্যবোধে কি আমাদের আমলা কামলাদের ঘুষ খাওয়া, পার্সেন্টেজ নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে? তাই তারা স্বাধীনতার মূল্যবোধ কেন লালন করবেন? আমাদের ট্যাক্সের উপর বেতন খাওয়াদের মূল্যবোধ হল ইংরেজদের শোষণের মূল্যবোধ। যেমন করে তারা ১শত ৯৩ বছর আমাদের পূর্ব পুরুষদের রক্ত শোষণ করেছে সেভাবেই যেন তারা ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের রক্ত শোষণ করবে। ঠিক পাকিস্তানীরা ২৪ বছর আমাদের রক্ত শোষণ করেছে সেভাবেই আমাদের রক্ত শোষণ করবে এরা। তারা আমাদের ট্যাক্সের উপর বেতনও নিবে আবার রাষ্ট্রীয় সম্পদও লুটেপুটে খাবে এটাই হল তাদের আসল মূল্যবোধ। যাকে বলে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী বা ইংরেজ বেনিয়াদের কিংবা পাকিস্তানি শাসক শোষকদের মূল্যবোধ।

তাই তারা একদিকে বেতন ভোগ করবে অপর দিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটেপুটে খাবে তাতে আমজনতার করার কিছুই নাই। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দপ্তর গণভবন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চারপাশে যারা ঘিরে ধরেছে তাদের মধ্যে অনেকেই আবার আমাদের আমলা কামলা স্যারদের বড় স্যারেরাও রয়েছেন। সেখানে আমজনতার করার কিছুই নেই। যা কিছু করবে আমাদের বেতনভোগী স্যারেরাই করবেন।

মাঝে মাঝে কিছু কিছু সাংবাদিকরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষায় নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের বেতনভোগী স্যারদের বিরুদ্ধে অর্থাৎ ইংরেজ ও পাকিস্তানি শোষণকারীর মূল্যবোধ লালনকারী স্যারদের সাথে বেরসিক আচরণ শুরু করেন। তাতে হয়কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ লালনকারী বেরসিক সাংবাদিক রেজিনা ইসলামকে যেভাবে মিথ্যা চুরির অভিযোগ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সেভাবেই আপনাকে আমাকে কারাগারে পাঠাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই বলি আসুন আমরা সকলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়ে দালালী করি ! এতে আপনার পরিবার পরিজন সন্তান সংসার যেমনি নিশ্চিন্তে দুধে ভাতে থাকবে তেমনি অভাব নামের কোন শব্দ আপনাদের আমাদের জীবনে আসবেনা। আমাদের অনেক বড় বড় জাতীয় সম্পাদক স্যার ও বড় বড় জাতীয় সাংবাদিক স্যারেরা দালালী করতে পারলে আমরা পারবোনা কেন?

আমার মতো মফস্বলের একজন আনাড়ি সাংবাদিকের কথায় যদি আমার স্যারেরা গোস্বা হন মাফ করে দিবেন। আমি রোজিনা ইসলামের হয়েও আপনাদের কাছে মাফ চাই। কারণ আপনারা যারা বড় বড় জাতীয় সম্পাদক স্যারেরা আছেন আপনারা আপনাদের জাতীয় পত্রিকায় যেভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া গোলাম স্যারদের বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে দিলেন তাতে আমজনতারা মনে করছেন রোজিনা ইসলাম কি তাহলে সত্যিই চোর? স্যার সেই জন্যে বলি কি আমরা কেন শুধুমাত্র রোজিনার জন্য সিঙ্গেলষ্ট্যান্ড নিয়ে থাকবো আপনাদের মতো আমরাও ডাবলস্ট্যান্ড নিয়ে সাংবাদিকতা বাদ দিয়ে দালালী করবো!

লেখক- মোঃ শহীদুল্লাহ
আহ্বায়ক
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)
কক্সবাজার জেলা।



খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন