মুসলিম উম্মাহর ঈদ-উৎসব এর ইতিকথা

মোঃ মিজানুর রহমান | ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১ | ০৬:২০:০৫ পিএম
মুসলিম উম্মাহর ঈদ-উৎসব এর ইতিকথা ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। ঈদের সামাজিক অর্থ উৎসব আর আভিধানিক অর্থ পুনরাগমন বা বারবার ফিরে আসা। তাই প্রতি বছরই মুসলমাদের জীবনে ফিরে আসে খুশির ঈদ। মুসলমানদের ২টি ঈদ, প্রথমটি উদযাপিত হয় দীর্ঘ ১ মাস সিয়াম সাধনর পর, যাকে আমরা বলি ঈদ-উল ফিতর বা রোজার ঈদ, অপরটি কোরবানীর ঈদ বা ঈদ উল আজহা। এই ২টি ঈদই হলো মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সবাই এ দিন যার যার সাধ্যানুযায়ী নতুন/ভালো পোশাক পরিধান করে। ঘরে ঘরে উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করে।

ঈদ উৎসব নিয়ে আছে তাৎপর্যপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, মহানবী (সা:) পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পূর্ব থেকেই মদিনায় বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের আপন সম্প্রদায়ের স্বতস্ত্রতা প্রকাশ ও ধর্মীয় উৎসবের নামে নির্দিষ্ট দিবসে আনন্দ উৎসব পালন করতো। তাদের মধ্যে ‘নাইরোজ’ ও ‘মেহেরযান দিবস’ অন্যতম এবং সর্বাধিক সমাদৃত। দিবস দুইটি এক সময় তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতিক রুপ লাভ করে, কিন্তু তাদের এ উৎসব দুইটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে পালিত হলেও, ধর্মীয় রীতিনীতির কোন উপস্থিতি সেখানে ছিল না। বরং একান্তই আনন্দ, উৎসবের নামে চলতো অশ্লীলতা, বেহায়পনা ও উচ্ছৃঙ্খলতা।

মহানবী (স:) মদিনায় আগমন করে গভীরভাবে এই অবস্থা পর্যবেক্ষন করেন এবং তাদের প্রচলিত ধর্মীয় মোড়কে গড়ে ওঠা অশুদ্ধ সংস্কৃতির বিলোপ সাধনের যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহনের চিস্তা করতে থাকেন। ঠিক তেমনই এক শুভক্ষণে বিশুদ্ধ বর্ণনার ভিত্তিতে ঐতিহাসিক দ্বিতীয় হিযরীতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল আযহা নামক গোটা বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতের সর্ববৃহৎ দ্বীনি সংস্কৃতিক কর্মসূচীর ঐতিহাসিক ঘোষনা প্রদান করেন।

মহানবী (স:) দ্বার্থহীন কন্ঠে বলেন, জেনে রাখ, হে বিশ্ব মুসলিমগণ, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিজস্ব আনন্দ উৎসব দিবস আছে। আর আমাদের আনন্দ উৎসব দিবস হলো এটাই (ঈদ-উল ফেতর ও ঈদ-উল আযাহা), মহান আল্লাহ উত্তম দুটি দিবস তোমাদেরকে দান করেছেন, যা তোমাদের পূর্বে প্রচলিত দিবসগুলো থেকে সর্বোত্তম। এভাবেই বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে ঈদ উৎসবের প্রবর্তন। মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতির আনন্দ ও খুশির জন্য বছরে দুইটি দিন নির্ধারিত করে দিয়েছেন। ঈদ-উল ফেতর ও ঈদ-উল আযাহা।
আরবী পবিত্র শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে মুসলিম জাতি ঈদ-উল ফেতর উৎসব পালন করে থাকেন। কারন পবিত্র মাহে রমজানের রোজা পালন শেষে আনন্দ খুশি প্রকাশের জন্য এ ঈদ-উল ফেতরের উৎসব পালিত হয় এবং জিলহজ্জ্ব মাসের দশ তারিখে মুসলিম জাতি ঈদ-উল আযাহার উৎসব পালন করে থাকেন। এ উৎসব প্রকৃতপক্ষে হযরত ইব্রাহিম (আ:) ও হযরত ইসমাঈল (আ:) এর কুরবানীর মহিমার স্মৃতিবাহক দিনটিকে ঈদ-উল আযাহা বা কোরবানীর উৎসব হিসাবে পালিত হয়।

এই দিন জাতি আল্লাহর নির্দেশে গরু, উট, দুম্বা, ছাগল আল্লাহর রাহে কোরবানী করে। এছাড়াও রয়েছে রমজান মাসে তারাবির নামায, তাহাজ্জ্বতের নামায, জানাযার নামায, তাসবিহের নামায, চাস্তের নামায, এস্তেষ্কার নামায ইত্যাদি। ইসলামের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর মদিনাতে হিযরতের পরই ঈদুল ফিতর উৎসব পালন শুরু হয়। আরবদের ইহুদি ধ্যান ধারনা ও জাহেলি প্রথান পরিবর্তে দুই ঈদ ছিল আল্লাহর রাসুলের পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য ঘোষিত উপহার। ইসলামি আদর্শে উজ্জীবিত আরবাবাসী রাসুলুল্লাহ স. এর নিদের্শে শুরু করল ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ উল আজহা উৎসব উদযাপন।  

শ্রেণি বৈষম্য-বিবর্জিত, পঙ্কিলতা ও অশালীনতামুক্ত ইবাদতের আমেজমাখা সুনির্মল আন্দে ভরা ঈদ আনন্দ। আমেজের দিক থেকে পবিত্র ও স্নিগ্ধ, আচারনের দিক থেকে প্রীতি ও মিলনের উৎসব ঈদ-উল ফিতর। ইসলামের ধর্মীয় উৎসব গিসাবে ঈদ-উল ফিতরের আনুষ্ঠানিকতার দিকটি প্রধানত মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে ইসলাম সাম্য-মৈত্রী, শান্তি-সম্প্রীতির ধর্ম ও ঈদের অর্থ আনন্দ বিধায় প্রকারান্তরে ঈদ- সব মানবের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে। জাতীয় জীবনে এর পুরময়তা সর্বত্র চোখে পড়ে। সব ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব অসাধারন হয়ে ধরা দেয়। ভিন্ন ধর্মের মানুষও ঈদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সুফল ভোগ করে। ঈদ উৎসব গতানুগতিক জীবনধারার অধ্যন্তাবাদের সাথে যোগ হয় প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর ভিন্নমাত্রিক জীবনধারা। তাই ঈদের আর্থ সামাজিক গুরুত্বও অপরিসীম।
 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন