দুর্নীতিবাজের রোশানলের শিকার দুই তরুণ প্রতিবাদী সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১ | ০৫:১৭:৪৩ পিএম
দুর্নীতিবাজের রোশানলের শিকার দুই তরুণ প্রতিবাদী সাংবাদিক বেনাপোলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুই তরুণ সাহসী কলম সাংবাদিক জাহিদ এবং সুমন যখন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি একের পর এক দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করায় মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন অপসাংবাদিকতার নিউজের শিকার হয়েছেন তারা।

জাহিদ এবং সুমনের দুর্নীতিবাজদের নিউজের তালিকায় ছিলো ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যাক্তি, চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাউন্সিলার, সরকারী কর্মচারী, অসাধু ব্যবসায়ী, ধর্ম ব্যবসায়ী, ইজারাদার, সিন্টিগেট ব্যবসায়ী, মজুতদার, সন্ত্রাসী, চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী সহ অসংখ্য অসাধু ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে।

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তাদেরকে নানা ভয়ভিতি হুমকি ধামকি এমনকি জীবন নাশের ভয় দেখিয়েও কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ তাদের ২ জনের নামে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন নিউজ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১২ মে (বুধবার) "দৈনিক প্রতিদিনের কথা" নামক পত্রিকায় এবং অনলাইনে। এর আগে ১১মে (মঙ্গলবার) প্রতিদিনের কথার কথিত ব্যবস্থাপনা সম্পাদ ও মেয়র লিটনের একান্ত সহযোগী সুকুমার দেবনাথের নামে ত্রাণ দুর্নীতির নিউজ প্রকাশ করায় সাংবাদিক জাহিদ এবং সুমনের নামে "বেনাপোল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রতারক সুমন ও জাহিদ" নামের শিরোনামে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট খবর প্রকাশ করা হয়। আমরা এই মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন নিউজের বিপক্ষে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে তরুণ সাহসী সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, মেয়র লিটন তার অপকর্ম ধামাচাপা দিতে কিছুদিন হলো নিজস্ব পত্রিকা বের করেছেন। আর এই পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক করেছেন প্রতারণা মামলার সাজা প্রাপ্ত আসামী ও দুর্নীতিবাজ সুকুমার দেবনাথকে। আর এই সুকুমারের নামে দুর্নীতির নিউজ হওয়ায় সে তার কুকর্ম ধামাচাপা দিতে নিজের পত্রিকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন নিউজটি প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও কিছুদিন আগে সিরিজ নিউজ প্রকাশ হয় সমাজসেবার নামে ধর্ম ব্যবসা করতে থাকা ভন্ড উদ্ভাবক মিজানের বিরুদ্ধেও। মেয়রের আর্শীবাদপুষ্ট কাউন্সিলর প্যানেল মেয়রের বিরুদ্ধে রাস্তার নামে জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়াও পৌর সেনেটারী ইন্সপেক্টর রাশিদা খাতুনের কোয়ারেন্টাইন সিট বাণিজ্যের নিউজ প্রকাশ করে জাহিদ ও সুমন। এসব কারনেই ফুলেফেঁপে উঠছে মেয়রের সহযোগীরা।

এ বিষয়ে তরুণ সাহসী সাংবাদিক সুমন হুসাইন বলেন, সুকুমার একজন আর্শীবাদ পুষ্ট নেতার সহকারী হয়ে, রাতারাতি লবণ ব্যবসায়ী থেকে আজ কোটিপতি বনে গেছেন। একাই রাজ করছেন বেনাপোল পৌরসভায়। তিনি কোন কাউন্সিলরকে দাম দেননা সব কিছুই আর্শীবাদ পুষ্ট নেতার ইশারায় নিজের মত করে চালাচ্ছেন। পৌরসভার কোন কর্মচারী না হয়েও পাচ্ছেন বেতন ভাতা। তার নামে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করার সাথে সাথে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেন, আমারও পত্রিকা আছে আমি তোদের দেখে নেব। আর এই রোশানলেই সে আমাদের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন নিউজ প্রকাশ করে। আমি এর তীব্র নিন্দা সহ দুর্নীতিকারীর যথাযথ বিচার দাবী করছি।

এ বিষয়ে বেনাপোল পৌরবাসী রাসেল বলেন, লিটন মেয়র হওয়ার পর থেকে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। সে আজ কোটি কোটি টাকার মালিক, আর তারই সহযোগীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির নিউজ করলে অপসাংবাদিকতার শিকার তো হতেই হবে! তবে আমি এর তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি দুইজন উঠতি সাহসী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার সংবাদ পরিবেশন করার জন্য।

বেনাপোল পৌরসভার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শুকুমার মেয়রের প্রধান রাজনৈতিক সহকারী। তার নামে দুর্নীতির নিউজ প্রকাশ হওয়ার পরে সাহসী কলম সৈনিক জাহিদ ও সুমনের নামে মনগড়া নিউজ পরিবেশন করায় তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মেয়র পত্রিকার মালিক এই দ্বায়ভার তার। এছাড়াও বিষয়টি জনসাধারণের মুখে মুখে ক্ষোভে পরিনত হয়েছে।

এবিষয়ে একতা প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিউজ করায় আমার দুই সহযোদ্ধা সাহসী কলম সৈনিক অপসাংবাদিকতার শিকার হয়েছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন