রবি’র টাওয়ার আছে, নেটওয়ার্ক সংযোগ নেই

ইকবাল হোসেন জীবন | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১ | ০৪:০৭:১৯ পিএম
রবি’র টাওয়ার আছে, নেটওয়ার্ক সংযোগ নেই বছর ধরে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন অর্ধলক্ষ রবি সিমের গ্রাহক। ডিজিটাল যুগেও বাইরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ওই এলাকার মানুষদের। জনপ্রতিনিধি, মোবাইল সিম অপারেটর কোম্পানী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোন সুফল মেলেনি। অনেকটা অন্ধকারে বসবাস করছে এখানকার মানুষ।

জানা গেছে, গত তিন বছর পূর্বে মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা এলাকার রহমতপুর গ্রামে স্থাপিত মোবাইল অপারেটর কোম্পানী রবির নেটওয়ার্ক টাওয়ার গুটিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত ওই এলাকায় রবি অথবা অন্য কোন মোবাইল অপারেটর কোম্পানী নেটওয়ার্ক সংযোগের জন্য কোন টাওয়ার স্থাপন করেনি। ওই টাওয়ারের আওতায় লক্ষাধিক সিম ব্যবহার করতেন প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক।

জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ও পাশবর্তি ফটিকছড়ি উপজেলার কয়লা, মরা কয়লা, দমদমা, ঘরকাটা, মধুছড়া, সৈয়দপুর, বরকানাল, ছোট কানাল, জিলতলি, গুজা, আসামছড়ি, তালতলা, সোনাই, পশ্চিম সোনাই, রহমতপুর, ইসলামাবাদ, নারায়নছড়ি, বালুটিলা, বদ্ধভবানী সহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ এই টাওয়ারের আওতায় মোবাইল ব্যবহার করতো।

সরেজমিনে কয়লা এলাকার জিলতলি বাজারে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, ২০১৪ সালে কয়লা এলাকার রহমতপুর গ্রামে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি রবির নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন করে রবি কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে এখানকার মানুষের জীবন যাত্রার মান পাল্টে যায়। কিন্তু টাওয়ার স্থাপনের ৪ বছর পর ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা লোকাজনের কাছে চাঁদা দাবী করার অযুহাতে টাওয়ার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে যন্ত্রপাতি গুটিয়ে নেয়। এরপর থেকে অচল হয়ে পড়ে ওই টাওয়ারের আওতাধীন প্রায় লক্ষাধিক মোবাইল সিম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, কয়লা বাজার থেকে টাওয়ার পর্যন্ত জেনারেটরের তেল নেয়ার জন্য একটি গাড়ি ১২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হত। খুব বড়জোর ওই দূরত্বের জায়গায় ভাড়া ২ হাজার টাকা এবং তেলগুলো প্রভাবশালী ব্যক্তির গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি করে নেয়া যেতনা। অথবা অন্য গাড়ি করে তেল নিয়ে তাদের গাড়ি প্রতি ১০ হাজার টাকা দিয়ে দিতে হয়। আবার টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা প্রহরীদের বিরুদ্ধে তেল চুরি ও মূলবান যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠৈ।

এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন, মোঃ নুর নবী, নুরু মিয়া, মোহাম্মদ ইউসুফ, নুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম সুমন শাহাজাহান সহ একাধিক এলাকাবাসী বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল যুগে এসেও আমরা অবহেলিত। একে তো পাহাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলের কারণে আমরা সব সময় অবহেলিত। তার উপর আমাদের এলাকায় স্থাপিত রবির টাওয়ার নিয়ে যাওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছি। আমাদের এলাকায় বিদুৎ নেই, তার উপর গত তিন বছর ধরে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে চরম অসুবিধায় রয়েছি। এখানকার কয়েক হাজার লোক প্রবাসে থাকে। তাঁদের সাথে ঠিকমত যোগাযোগ করা যায় না। মানুষের আপদ, বিপদে খোঁজ খবর দেয়া যাচ্ছে না। অন্তত ৮-১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মোবাইলে কথা বলতে হয়। এছাড়া মোবাইল নির্ভর ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এই বিষয়ে ১ নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, আমার ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মানুষ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন। তিন বছর পূর্বে রবি সিমের টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নেয়ার পর থেকে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় রবির টাওয়ার স্থাপন করে নেট সরবরাহের জোর দাবী জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে রবির এরিয়া ম্যানেজার (মিরসরাই-সীতাকুন্ড) খায়রুল বশর বলেন, কয়লায় স্থাপিত ওই টাওয়ারের আওতাধীন নেটওয়ার্ক ভারতীয় সীমান্তেও কাজ করায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও আরো কিছু সমস্যার কারণে সংযোগ বিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এরপর আমাদের কোম্পানী আরেকটি টাওয়ার স্থাপনের চিন্তা করছে। কিন্তু ওই এলাকায় দলিলভূক্ত কোন জায়গা না থাকার কারণে টাওয়ার স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। ওখানে সব জায়গা রিজার্ভের। তারপরও কোম্পানী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি/এসআর/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন