হাতির আতঙ্কে মশাল জ্বালিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে সীমান্তবাসী

শেরপুর সদর প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ এপ্রিল ২০২১ | ০৭:৪৫:৫৩ পিএম
হাতির আতঙ্কে মশাল জ্বালিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে সীমান্তবাসী শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তে ফসল রক্ষায় ৪-৫ দিন যাবৎ মশাল জ্বালিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে সীমান্তের এলাকাবাসী। সীমান্ত পাহাড়ের টিলা থেকে পাকা ধান খেতে সন্ধ্যা হলেই নেমে হাতি। এতে আতঙ্ক হয়ে বোর ফসল রক্ষায় এলাকাবাসী হাতি তাড়াতে মশাল জ্বালিয়ে নিজের জমিতে অবস্থান করেন সারারাত।

এলাকাবাসী জানায়, বর্তমানে পাহাড়ের সমতলে বোরো ধান পাকা শুরু হয়েছে। প্রতিবছরই ধান ও কাঁঠাল পাকার মৌসুমে হাতির পালটি সন্ধ্যার দিকে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২০-২৫টি বন্য হাতির পাল উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের ডালুকোনা এলাকার পাহাড় ধান ক্ষেতে নেমে আসে। এলাকাবাসী ও সীমান্ত এলাকায় হাতি তাড়াতে একটি দল টের পেয়ে মশাল জ্বালিয়ে পটকা ফুটিয়ে হৈ হৈল্লুর করে হাতি তাড়িয়ে দেয়। দিনের বেলা হাতি গুলো সীমান্তের শুণ্য রেখায় জঙ্গলে অবস্থান করে সন্ধ্যা হলেই সমতলে ধান খেতে নেমে আসে।

হাতি ধান খেতে না পাড়লেও আন্ধারুপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন, শাহাব উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন ও হাসু মিয়ার ধান ক্ষেতে হাতির পায়ের পৃষ্ঠে পাকা ধান ক্ষতি হয়েছে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, হাতিগুলো প্রায় ১৫ বছর আগে ভারতের পিক পাহাড় থেকে দলছুট হয়ে গারো পাহাড়ে আসে। ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বাধার কারণে হাতিগুলো পুনরায় তাদের আবাসস্থলে ফিরে যেতে পারেনি। বর্তমানে ঔখানে হাতির সংখ্যা ৫০-৬০টির বেশি। এই হাতির দলটি সীমান্ত এলাকা চষে বেড়ায়।
 
পোড়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বন্ধনা চাম্বু গং বলেন,তিনদিন ধরে আমাদের ঘুম নাই। সন্ধ্যা হইলে ফসল রক্ষার জন্য লোকজন নিয়ে মশাল জ্বালিয়ে ক্ষেতেই রাইত কাটাই। ধান পাকলেই প্রতিবছর আমগর এই ভাবেই ধান ক্ষেত রক্ষা করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)হেলেনা পারভীন বলেন, খবর পেয়ে আমি ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। মশাল জ্বালাতে ৫১ জনকে পাঁচ লিটার করে কেরোসিন তেল দিয়ে আসছি। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকাও করা হচ্ছে।

মোঃ সুলতান হোসাইন/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন