ভেঙ্গে যাওয়ার পথে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি

চট্টগ্রাম ব্যুরো | রাজনীতি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১ | ১০:৫১:১১ পিএম
ভেঙ্গে যাওয়ার পথে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি গত একমাস ধরে সারাদেশে ব্যাপক তাণ্ডবের পর সমালোচিত হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি যেকোনো সময় ভেঙে দেয়া হতে পারে।

জানা গেছে, সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য কাউকে নেতৃত্বে আনার পাশাপাশি কওমি মাদরাসার ওপর থেকে দলটির একক কর্তৃত্ব বন্ধের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কওমি মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত নেবে নির্ধারিত বোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। মাদরাসা পরিচালনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না হেফাজতে ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংগঠনটির নেতৃত্বে এমন একজন ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে যিনি সব মহলে গ্রহণযোগ্য এবং আল্লামা শফীর অনুসারী। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে থাকতে পারবেন না, তাদের অবশ্যই হেফাজতের পদ ছাড়তে হবে। তাই এ অবস্থায় যেকোনো সময় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়া হতে পারে।

পুলিশ সূত্র জানায়, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এসে হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন এরই মধ্যে তাদের তালিকা করা হচ্ছে। সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে এখন বিভিন্ন মামলায় ৪৭০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলমান আছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। দলটির সবচেয়ে আলোচিত যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ শীর্ষ ৯ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ অবস্থায় সরকারবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে উল্টো সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চাচ্ছে দলটি। তবে দেশজুড়ে সহিংসতায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতা কে বিভিন্ন মামলায় আসামি করে গত কয়েকদিনে গ্রেফতার করেছে। মূলত এর পরেই নড়েচড়ে বসেছে বাবুনগরীর নেতৃত্বে থাকা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বর্তমান কমিটি।

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু দলটির সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলাম রাজনৈতিক দলের দিকে মোড় নেয়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ হেফাজতের কমিটিতে যুক্ত হতে থাকেন। যার ফলে নতুন নেতৃবৃন্দ সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

অপরদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মরহুম সাবেক আমির আল্লামা আহমদ শফী এর সুযোগ্য পুত্র মাওলানা আনাস মাদানী এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী এর নেতৃত্বে হেফাজতের একটি নতুন কমিটি গঠন করার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন একটি কমিটির ঘোষণা আসতে পারে বলে হেফাজতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়।

মোঃ সিরাজুল মনির/এসআর/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন