ময়মনসিংহে নিভৃত পল্লীতে ফুটবলে বিপ্লব ঘটানোর প্রতীক্ষায় ২৩ কিশোরী

ফজলে এলাহি ঢালী | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১ | ০৮:৫১:৩৫ পিএম
ময়মনসিংহে নিভৃত পল্লীতে ফুটবলে বিপ্লব ঘটানোর প্রতীক্ষায় ২৩ কিশোরী ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা। জেলা সদর থেকে ১৫ কি.মি. দূরের এই উপজেলাটি বাংলাদেশের নবীনতম উপজেলাগুলোর একটি।উপজেলাটির নিভৃতপল্লীতে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে একদল কিশোরী। নারীর ক্ষমতায়ন, দেশ সেবার মানসিকতায় যারা নিজেদের তৈরী করে চলেছে।স্বপ্ন যাদের প্রমীলা ফুটবলে আকাশ ছোঁবার। স্বাবলম্ভি হয়ে পরিবার ও সমাজের হাল ধরার।

মোছাঃ রুনা আক্তার (১৭)পিতা-মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা-সদর, জেলা-রংপুর, এসএসসি পরীক্ষার্থী ফুটবলের সাথে সখ্যতা ২০১৫ সাল থেকে। ২০২১ সালে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ২মাস ব্যাপী বাংলাদেশ ক্রীড়া সংস্থার বিচ ফুটবল টুর্ণ‍ামেন্টে সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছেন। মোছাঃ আইরিন আক্তার (১৭) পিতা-হেলাল হোসেন, উত্তর ফরিদপুর–দিনাজপুর ৫ বছর যাবৎ ফুটবল খেলছেন। ইতিমধ্যে অংশগ্রহণ করেছেন অনুর্ধ্ব ১৪ ও১৭ প্রিমিয়ার লীগে। ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার লরেন্স চিসিমের মেয়ে দূর্গাপুর উপজেলার রিয়া রেমা(১৭)।
এবছরই সখ্যতা গড়েছেন ফুটবলের সাথে।দিনাজপুরের ইউসুফ আলীর মেয়ে মোছাঃ তারামনি (১৭)। ফুটবলে সখ্যতা ২০১৭ সালে। দিনাজপুরের দুই জমজ বোন তন্বী(১৭), তনিমা বিশ্বাস (১৭), পিতা-বিপ্লব বিশ্বাস। এর মাঝে তনিমার দল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপের অনুর্ধ্ব ১৭ বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছেন তনিমা। এমন ২৩ জন প্রাণোচ্ছল কিশোরী ফুটবলারের দেখা মিলল ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার নিভৃত পল্লী গালাগাঁও ইউনিয়নের গালাগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে।

তখন পড়ন্ত বিকালে কিশোরীরা একত্রে মাঠে অনুশীলনে ব্যস্ত। চোখেমুখে সোনালী স্বপ্নের আবির মাখা। কয়েকজন ময়মনসিংহের আর বাকিদের বাড়ি নেত্রকোনা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, দিনাজপুর সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতিভাধর এই কিশোরীরা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে দেশীয় নারী ফুটবলে। একদিন প্রতিভাধর এই কিশোরীরাই দেশের নারী ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা দলটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোঃ কামাল হোসেনের। যিনি ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কর্মরত।

অনুশীলনে দেখা গেছে একজন কোচ যিনি গড়ে তুলছেন শিষ্যদের আগামীর সৈনিক হিসেবে। যারা পুরুষশাসিত সমাজের নাগপাশ ছিন্ন করে এগিয়ে নিয়ে যাবে নারীদের। দেশ তথা বিশ্ব মঞ্চে নেতৃত্ব দিবে বাংলাদেশের।

কামাল হোসেন আরও জানান, ফুটবলের সাথে সখ্যতা, খেলাটির প্রতি আন্তরিকতা থেকেই রংপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু। এই মাঠে কিশোরীদের ট্রেনিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত-২০২০ সালের ৪ঠা অক্টোবর এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল নারী ফুটবলারদের মিলনমেলা। “সদ্যপুস্করণী যুব স্পোর্টিং ক্লাব” বাংলাদেশে একমাত্র নারীদের সংগঠন যারা প্রথম সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা প্রিমিয়ার লীগে অংশগ্রহণ করেছে। এখানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি মেয়েই অনন্য। আমরা চাই খেলাধূলার পাশাপাশি প্রত্যেকটি মেয়েই আত্ননির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠুক। এই ক্লাবটি খেলাধূলার পাশাপাশি মেয়েদের স্বাভলম্বি হতেও কাজ করে যাচ্ছে।

এই কিশোরীদের পৃষ্ঠপোষক কে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ একজন মানুষ আমরা উনার সহযোগীতা পেয়েছি। বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মহোদয় আমাদের খোঁজখবর রাখেন। বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমদ আমাদের ১০ লক্ষ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করেছিলেন যা দিয়ে স্কুলের একটি বিল্ডিং তৈরী করা হয়েছে। তারাকান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের সাহেবও প্রতিনিয়ত আমাদের খোঁজখবর নেন।

পড়ন্ত বিকালের অনুশীলন দেখতে আমা বৃদ্ধ আবুল হাশেম (৫৮) বলেন, এই মেয়েরা শালিনতার সহিত এখানে তাদের খেলাধুলা করে থাকে। প্রায়শই আমরা এখানে এসে উদ্যোমী এই কিশোরীদের খেলাধূলা দেখি, ভালই লাগে। আর ফুটবল সেতো আমাদের প্রিয় খেলা। শুনেছি এই মেয়েরা অনেক ভালো করছে। আশা করি তাঁরা আরও ভালো করবে।

এই বিষয়ে দলটির অন্যতম সেরা খেলোয়ার রুনা আক্তার এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা এখানে যথেষ্ঠ ভাল ও সুযোগ সুবিধার মধ্যে অনুশীলন করতে পারছি। আমাদের ইচ্ছা নিজেদেরকে খেলাধূলায় প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দেশ ও জনগনের সেবা করা। আমরা আত্ননির্ভরশীল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে চাই।

তারাকান্দা/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন