বেড়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়েতে ছিনতাই ডাকাতি, নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পুলিশ

টিটু আহম্মেদ | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১ | ০৪:১৯:৩৪ পিএম
বেড়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়েতে ছিনতাই ডাকাতি, নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পুলিশ পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের ঢাকা- মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়ে  তৈরি করে যাত্রীদের উন্নত সেবা দেওয়ার পরিবর্তে, বর্তমানে ছিনতাই-ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় তা জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে নিয়মিত ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতি ঘটনার বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো পথযাত্রীদের আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে উঠেছে ঢাকা মাওয়া হাইওয়ে এক্সপ্রেস সড়ক। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে নেই কোনো সিসি ক্যামেরা। আর এসব দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সক্রিয় ভুয়া ডিবি, একাধিক ডাকাত ও ছিনতাই গ্রুপ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার এ সংক্রান্ত খবর প্রচার হলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সশস্ত্র  ডাকাতরা যেন আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এক্সপ্রেসওয়েতে সক্রিয় ভুয়া ডিবি চক্র কখনো প্রাইভেটকারে যাত্রী তুলে ছিনতাই করছে, আবার কখনো ডিবি পুলিশের পরিচয়ে তুলে নিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হলেও, নেই কোন প্রতিকার। মহাসড়কে পুলিশ টহল দিলেও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। গত কয়েক মাসে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নতুন চৌরাস্তার আন্ডারপাস ও ঝিলমিল এবং আব্দুল্লাহপুর এলাকায় সাধারণ পথযাত্রী ছাড়াও ডাকাতির কবলে পড়তে হয়েছে জনপ্রিয় ব্যান্ড সঙ্গীত শিল্পী, ব্যাংক কর্মকর্তা, মসজিদের ইমাম, সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদেরও অনেকেই।

এছাড়া প্রায়ই উল্টো পথে চলতে দেখা যায় অনেক ভারী যানবাহন, এতে করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। কিছুদিন আগে এমন একটি দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা একটি জাতীয় দৈনিকে কাজ করা এক সাংবাদিক পরিবার।

রাজেন্দ্রপুরের মাছ ব্যবসায়ী নিরঞ্জন বলেন, গত বৃহস্পতিবার ভোরে মাছ কিনতে যাওয়া সময় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে নতুন চৌরাস্তা এলাকায় গাড়ির জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় হঠাৎ একটি প্রাইভেটকার এসে থামে আমার সামনে। প্রাইভেটকার থেকে একদল ডাকাত বের হয়ে আমার কাছ থেকে দশ হাজার টাকাসহ স্মার্টফোন নিয়ে চোখের মধ্যে কি জানি দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে যায়।

বাঘৈর চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা মো.হাসান বলেন, সপ্তাখানেক আগে কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীত পাশে  সন্ধ্যা সাতটার দিকে সিএনজিতে বসা যাত্রীবেশী একদল ডাকাত আমাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে তের হাজার টাকাসহ একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায়।গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন আমাকে হসপিটালে ভর্তি করেন। মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং এগারোটি সেলাই করা হয়েছে। ভাগ্যক্রমে আমি সেই দিন বেঁচে গিয়েছিলাম।

এভাবে গত কয়েক মাসে, কেরানীগঞ্জের মা জুয়েলার্সের মালিক গৌতম ঘোষ দোকানে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে জোর করে হাইস গাড়িতে তুলে নিয়ে জুয়েলার্সের জন্য নিয়ে আসা কয়েক লাখ টাকা স্বর্ণালষ্কার নিয়ে তাকে মারধর করে রাস্তা পাশে ফেলে রেখে যায় ভুয়া ডিবির দল, বাঘৈর-নগরের মিষ্টির দোকানদার বিকাশ ঘোষের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা, এক মহিলা কাছ থেকে গলার স্বর্ণের চেইন, মুসলিমপাড়া মসজিদে ইমাম মাওলানা রহিম শিকদারের কাছ থেকে স্মার্টফোনসহ নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, থানায় অভিযোগ করতে গেলে, শুধু মাত্র একটা সাধারণ ডায়রি (জিডি) করে থানায় ফেলে রাখে। পরবর্তী  আর কোনো খোজখবরও নেয়া হয় না। উল্টো আরো থানায় অভিযোগ করতে গেলে হয়রানি আর ঝামেলায় পড়তে হয়। একে তো জিনিস পাওয়া যায় না তার ওপরে আবার অহেতুক হয়রানি। তাই থানা পুলিশকে আর কেউ অবগত করার আগ্রহ দেখাতে চায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেল মোঃ শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, ভুক্তভুগীরা আমাদের কাছে কোন ধরনের অভিযোগ না করায় আমরা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারছি না। আমরা মহাসড়কটি নিরাপদ রাখতে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা রেখেছি।

কেরানীগঞ্জ/এসআর/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন