সিকদার পাড়ায় নাছির উদ্দিন গং এর সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখলের চেষ্টা; আহত ২

কক্সবাজার অফিস | সারাদেশ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১ | ০৯:২৪:৩৪ পিএম
সিকদার পাড়ায় নাছির উদ্দিন গং এর সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখলের চেষ্টা; আহত ২ কক্সবাজার সিকদার পাড়ায় চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে জমি দখল নিতে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় ২ জনকে রড দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড বিজিবি ক্যাম্প সিকদার পাড়া এলাকায় বুধবার ভোর ৫ টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা।

এ ঘটনায় তারেক হোছাইন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। এতে আসামী করা হয়েছে; কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকার মোহাম্মদ জাফর আলমের পুত্র মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (৩৫), মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (৩৩), মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির (২৪) এবং মোঃ মুজিব, পিতা-অজ্ঞাত, শামসুল হকের পুত্র হাজী জসিমউদদীন সিদ্দিকী, নজির হোসেন এর পুত্র লুৎফর রহমান কাজলসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে।

বাদী তারেক হোছাইন অভিযোগে জানান, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখ কক্সবাজার নোটারি পাবলিক কাযার্লয়ে আমার স্ত্রী পাপিয়া সুলতানা সুমি (২৮) ও নজিব উল্লাহ (৪৩) অভিযুক্ত বিবাদীগণের সাথে একটি বায়নানামা চুক্তিপত্র দলিল করে। যার রেজিস্ট্রি নং ১৪১৪(বি)। ঝিলংজা মৌজার নামজারী ও জমাভাগ ১৪১৮৪ নং খতিয়ানের সৃজিত বি.এস ৬৪৪৪/৪৩৮৪৭ ও ৬৪৪৪/৩৫৬০৮ দাগাদারি সম্পূর্ণ ০.০৭০০ একর বর্তমান নাল শ্রেণি জমি বিক্রয়ের জন্য জমির মালিক মং বিয়াল্লিশ লক্ষ টাকা মূল্য নির্ধারণ করলে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে বায়না স্বরূপ মং দশ লক্ষ টাকা দাতাদ্বয় গ্রহণ করে জমির দখল বুঝায়া দেয়। এতে আমি উক্ত নাল শ্রেণির জমি মাটি ভরাট করে আরসিসি ঢালায় সহকারে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে বসবাস উপযোগী করে ভোগদখল করে আসছি। এতে আমার প্রায় ১০ (দশ) লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। দাতা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (৩৫) বিদেশে অবস্থান করায় তিনি বিদেশ থেকে ফেরার পর জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু দাতাদ্বয়ের পিতা মোহাম্মদ জাফর আলম হঠাৎ মৃত্যুবরণ করায় দাতা নাসির উদ্দিন (৩৫) দেশে ফিরে এসে জমি রেজিস্ট্রি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং আমাকে দখল থেকে উচ্ছেদ করতে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।

বেশ কিছু দিন ধরে প্রতিপক্ষ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার বসতঘরের ভিটার জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। এ অবস্থায় ২১ এপ্রিল সেহেরি শেষে ভোর ৫ টার দিকে বিবাদীপক্ষ লোকজন নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ঘরের টিনে কুপিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। বাধা দিতে গেলে ভূমি দখলদার বাহিনী ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে জিনিসপত্র তছনছ করা ছাড়াও ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলে ঘরে তাণ্ডবের চিহ্ন দেখতে পাই। আমার ঘরে বসবাসরত আব্বাছ (৪৩) ও তার স্ত্রী হাসিনা আক্তার (২৮) কে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হামলায় আহত আব্বাছ বলেন, আমারা সেহেরি খেয়ে নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পর দেখি ১০/১২ জন লোক আমাদের ঘরে হামলা করে। রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটতে থাকে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘরের টিনের বেড়া ও ছাওনিতে কোপাতে থাকে। আমি এবং আমার স্ত্রী বাচ্চাদের মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চুক্তিপত্রে গ্রাহীতাগণ তিন মাসের মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি নেওয়ার কথা ছিল কিন্তু তারা রেজিস্ট্রি নিতে পারে নাই তাই আমরা দাতাপক্ষ এখন জমি রেজিস্ট্রি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছি।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, বাদীপক্ষের লিখিত এজাহারটি পাওয়ার পর একজন উপপরিদর্শককে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন