লকডাউনে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ, বাড়ছে ঋণের বোঝা

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১ | ০৪:২৬:২৩ পিএম
লকডাউনে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ, বাড়ছে ঋণের বোঝা করোনা ভাইরাসের' দ্বিতীয় ঢেউ বাংলাদেশের মানুষের জিবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার।করোনার প্রদুর্ভাব কমাতে বাংলাদেশ সরকার গত বুধবার পহেলা বৈশাখ হতে সারা বাংলাদেশে সাত দিনের কঠোর লকডাউন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন। পরবর্তীকালে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পযর্ন্ত করা হয়েছে।

লকডাউনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও বন্ধ রয়েছে প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ কারণে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীঃর দাম বেড়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জীবিকা উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।  

উপার্জনের পথ বন্ধ অধিকাংশ মানুষেরই। জমানো টাকা খরচ করে খাচ্ছেন পরিবারগুলো। প্রতিদিন অর্থ খরচ হচ্ছে কিন্তু উপার্জন নেই।

খেটে খাওয়া মানুষেরা এবার কোন ত্রাণসামগ্রী না পেয়ে পরিবার নিয়ে খুব কস্টে জিবন যাপন করছে। যতদিন যাচ্ছে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ তত গভীর হচ্ছে!

আর কয়েক দিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। বাচ্চাদের নতুন কাপড় দিতে হবে পরিবারকে নিয়ে ভাল থাকার স্বপ্নে বিভর থাকা এক বাস ড্রাইভার বলেন, আমি বাস চালিয়ে আমার পরিবার চালাতাম কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় খুব কস্টে দিন পার হচ্ছে আমার। কোন কাজ নেই, কোন ত্রান নেই, বউ বাচ্চা নিয়ে খুব কস্টে আছি দেখার কেউ নেই।

গত মঙ্গলবার আরও কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে আলাপে একই তথ্য উঠে আসে।

বিভিন্ন ব্যবসায়ী যেমন তৈরি পোশাকের দোকানি, পুস্তক ব্যবসায়ী, কনফেকশনানি দোকানি, কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষেরা আগামীর জীবন নিয়ে বেশ চিন্তিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এক কনফেকশনারি দোকানের মালিক বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে গত কয়েক দিন আমার দোকান বন্ধ রয়েছে। দোকানের আয়ের ওপর বেশ ভালোই চলছিলো আমার সংসার। ব্যাংকে জমানো তেমন কোন টাকা নেই। তবে দোকানের আয়ের ওপর ভালো ছিলাম। কিন্তু এখন ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে। অসহায়-দরিদ্র মানুষকে বিভিন্ন সময় নিজেই সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এখনতো নিজেই বিপদে পরে গেছি। আয়রোজগার বন্ধ। কিন্তু মুখতো বন্ধ না! একটা চাপা যন্ত্রণা অনুভব করছি প্রতিনিয়ত।’

স্থানীয় কিন্ডার গার্টেনের একাধিক শিক্ষক বলেন, ‘দীর্ঘ এক বছর ধরে কেজি স্কুল বন্ধ। অনেক কস্টে আমরা আমাদের সংসার চালাচ্ছি। না পারি অন্য কোন কাজ করতে, পরিবারকে নিয়ে ভালো থাকার জন্যে দু’একটা টিউশনি করতাম। বেতনের টাকায় এতো বড় সংসারে বেশ টানাটানি করেই চলতে হয়। কোনো সঞ্চয় করা যায় না। বর্তমানে সেটাও বন্ধ। বাড়তি রোজগার নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে সত্যিকার অর্থেই বিপদে পরে যেতে হবে

কয়েক জন দিনমজুর শ্রমিক বলেন, প্রতি দিনের রোজগারে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে সংসারের সব খরচ চালাতাম। করোনার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধার দেনা করে চলতে হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপনকারী এসব মানুষ সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

কয়েক জন দিন মজুর বলেন, গত বছর করোনার শুরুতে কর্মহীন ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে সরকারি ভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছিল।

এছাড়াও ব্যক্তিগত ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্টান গরীবদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছিল। কিন্তু এবছর এখনো ত্রাণ বিতরণে না সরকারি উদ্যোগ, না ব্যক্তিগত উদ্যোগ আছে।

চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশায় দিন পার করছে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ।

শিবগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু বলেন, সরকারি ভাবে এখনো কোন অনুদান আসা শুরু হয়নি। অনুদানের নির্দেশ আসা মাত্রই আমরা এর কার্যক্রম শুরু করব।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মৌলী মন্ডল বলেন, সরকারিভাবে এখনো কোন নির্দেশ আসে নি।

আব্দুল হালিম/আরইউ/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন