কবিরাজি চিকিৎসায় ১০ বছর ধরে শিকলবন্দী সুলতানা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১ | ০৪:১৪:২৯ পিএম
কবিরাজি চিকিৎসায় ১০ বছর ধরে শিকলবন্দী সুলতানা ১০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সুভারকুটি গ্রামের মোক্তারের হাট এলাকার মৃত ছকমলের কন্যা সুলতানা (২৮)। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় মেহের জামালের সাথে। বছর ঘুরতেই কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে এক শিশুকন্যা। আদর করে নাম রাখেন লাবনী আকতার। এর কিছুদিনের মধ্যে সুলতানার আচরণে কিছু পরিবর্তিত লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। হঠাৎ করেই কোন কারণ ছাড়াই হাসতে থাকা, অতিরিক্ত কথা বলা, বির বির করা ও অন্যমনস্ক, বাড়ী থেকে চলে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষ্মণ দেখে  ভুতে ধরা ভেবে কবিরাজের শরণাপন্ন হয় সুলতানার পরিবার। তবে সে আর সুস্থ হয়ে উঠেনি।

এমনটাই জানান সুলতানার বড় ভাই ফজলু মিয়া।

এদিকে উন্নত সঠিক চিকিৎসার অভাবে তাঁর দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে স্বামী মেহের জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র পাড়ি জমান। আর সুলতানার পা বাঁধা পড়ে শিকলে।  

অজ্ঞতা,আধুনিক চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত, অযত্ন আর অবহেলায় ধীরেধীরে দীর্ঘ ১০ বছরে সুলতানার মানসিক অসুস্থতা বৃদ্ধি পেলেও তার নাম জানতে চাইলে সে তার নিজের নাম, স্বামীর নাম মেহের ও কন্যা লাবনী আকতারের নাম বলে দেন।  

এলাকার ছ’মিল মালিক মোঃ বেলাল রহমান বলেন, মেয়েটির শুধু উন্নত চিকিৎসার অভাবে এই পরিণতি। যদি তার উন্নত চিকিৎসা করা যায় আমি আশাবাদী সে সুস্থ হয়ে উঠবে। কারণ তার এ সমস্যা জন্মগত নয়। সুলতানার চিকিৎসার জন্য আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

সুলতানার ভাই ফজলু আরও জানায়, সে সুযোগ পেলেই বাইরে যাবার চেষ্টা করে। যার কারণে পায়ে শিকল বাঁধা হয়েছে। অর্থের অভাবে সুলতানার চিকিৎসা করতে পারছি না। এছাড়া চিকিৎসার জন্য এযাবৎকালে সরকারি-বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি।

রফিকুল হক রফিক/আরইউ/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন