পঞ্চগড়ে কাউন চাষ হারাতে বসেছে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ০৯:৩৮:১৯ পিএম
পঞ্চগড়ে কাউন চাষ হারাতে বসেছে পঞ্চগড়ে কাউন চাষ হারাতে বসেছে আর হারানো ফসল ফিরিয়ে আনতে নেয়া হচ্ছে নতুন কৌশল। নিত্য নতুন নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন ফসল উৎপাদনের ফলে উত্তরের কৃষি সমৃদ্ধ জেলা পঞ্চগড়ে কাউন চাষ এখন বিলুপ্তি হওয়ার পথে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন আমরা বিলুপ্ত কাউন চাষ যেন আবার আগের মত চাষ হয় সেজন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এক সময় এ ফসল কৃষকরা চাষ করত মুলত তাদের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য। ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাসে যখন কৃষকের ঘরে ধানের টানাপোড়ন দেখা দিতো ঠিক তখন তারা  ভাতের বদলে কাউনের ভাত খেত। এ জেলায় এক সময় বছরে একবার ধান চাষ হতো। উৎপাদন কম হওয়ায় বিকল্প হিসেবে তাই কাউনের কদর একটু বেশিই ছিল।

কালের পরির্বতনে এক ফসলী জমিতে এখন তিন রকম ফসল হচ্ছে। যার ফলে কৃষকের অভাবও অনেকাংশে কমে গেছে। দারিদ্রসীমার চরম শিখর থেকে উত্তরের কৃষক বর্তমান সময় ভালো জীবন যাবন কাটাছেন। একই জমিতে বছরে দুবার ধান উৎপাদ হচ্ছে এ জেলার কৃষকরা কাউন চাষ থেকে সরে এসেছে। এখন আর মাঠ ভরা কাউন চোখে পড়ে না। গম, ভুট্টা, তিল, মুগডাল, বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি, টমেটো, বেগুন, শিম এবং মরিচ ক্ষেতের মাঝে হঠাৎ কিঞ্চিত কাউন ফসল উঁকি মারে। তবে কাউন ফসলের চাষ কম হলেও এর দাম কিন্তু অনেকটা বেশি। এখন প্রতি কেজি কাউনের চাউলের দাম ৭৫ থেকে ৯০টাকা। এই চাউল এখন বড় বড় হোটেল রেস্তোরা ও ধনীদের ঘরে পায়েস হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। বিভিন্ন হাট বাজারে, গ্রাম অঞ্চলে কাউন বিক্রি করতে দেখা যায়। অনেক সময় কৃষকরা কাউন চাষ করেছে কাউন আবার তারাই হাট বাজারে বিক্রি করছে।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার যুগিকাটা গ্রামের কৃষক মোঃ নাসিম জানান, এক একর জমিতে কাউন চাষ করেছি বিক্রয় করার জন্য। এখন তো কেউ কাউন করেনা। আমি আবার এটাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। বাজারে কাউনের বেশ চাহিদা। বিক্রি করতে কোন অসুবিধা নাই। নিজের খাওয়ার জন্য ও আগামী বছরের আবাদ করার জন্য বীজ হিসেবে রেখে বাকিটা বিক্রি করব।

আটোয়ারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগের তুলনায় এখন কাউন চাষ কম হচ্ছে। এক সময় এর চাহিদা প্রচুর পরিমাণে ছিল। আমরা কাউন চাষ করার জন্য কৃষকদের উৎসাহ ও পরামর্শ দিচ্ছি।

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে পঞ্চগড় জেলায় এবার মোট ২৫ হেক্টর জমিতে কাউন চাষ করা হয়েছে।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, কৃষক বেশি লাভের আশায় ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করেন। তবে এখন কাউনের চালের চাহিদা বাড়ায় কৃষক স্বল্প পরিসরে হলেও কাউন চাষ করছে। আমরাও কাউন চাষ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি।

মোঃ মিজানুর রহমান/আরইউ/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন