রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন মামুনুল

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | জাতীয়
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ০৯:০৯:৪৭ পিএম
রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন মামুনুল হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক উসকানিমূলক বক্ত দিয়ে মাদ্রাসা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঠে নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে মামুনুলের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

হারুন অর রশিদ বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক রাষ্ট্র, সরকার ও ইসলামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। এছাড়া তাবলীগের সাদপন্থীদের মারধরের কথা স্বীকারসহ ওয়াজের মঞ্চে জোশের কারণে বিশিষ্ট নাগরিকদের মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন মামুনুল।

এদিকে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে তাতে ইন্ধনদাতা, নির্দেশদাতা ও সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন সিআইডি প্রধান।

এ প্রসঙ্গে সিআইডি প্রধান মাহবুবুর রাহমান বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম জেলার ২৩টি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। আমাদের তদন্তের ভালো একটি সেটাপ রয়েছে। আমাদের সাইবার এক্সপার্ট, ডিএনএ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ রয়েছে। তারা ভিডিও ফুটেজগুলো দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে যে কারা কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

সিআইডি প্রধান বলেন, কারো কোনো দাবি-দাওয়া থাকতে পারে। তবে সেই দাবি আদায়ের গণতান্ত্রিক উপায় রয়েছে। বেআইনি প্রক্রিয়ায় দাবি আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে আইন মানতে হবে। অসন্তোষের প্রকাশ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ হতে পারে না।

রোববার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে নাশকতার ঘটনায় হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড চাইবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তিনি আরো জানান, গত ২৫ ও ২৬ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, জ্বালাও পোড়াও ও হত্যার মতো নাশকতা ঘটনো হয়। এতে মামুনুলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, সেসব মামলায়ও তাকে রিমান্ডে নেয়া হবে। সাম্প্রতিক তাণ্ডবের ১৮টিসহ ২৩ মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভে এ সহিংসতায় জেরে ডাকা হরতালে সারাদেশে উত্তাল অবস্থার তৈরি হয়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও সহিংসতা চালান হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

এসব ঘটনায় হেফাজতের প্রায় ৯ কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সর্বশেষ রোববার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন