১৭৫৭ সালের মীর জাফরের ইতিহাস না, এই ইতিহাস তার প্রেতাত্মা ডিজিটাল যুগের এক মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকের

ছৈয়দ কামাল উদ্দিন | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ০৩:২৩:৫৩ পিএম
১৭৫৭ সালের মীর জাফরের ইতিহাস না, এই ইতিহাস তার প্রেতাত্মা ডিজিটাল যুগের এক মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকের সম্মানীত পাঠক ১৭৫৭ সালের মীর জাফরকে আমরা কেউ দেখিনি তার বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস পড়েই কিন্তু আমরা তাকে ঘৃণা করি। মীর জাফরকে যিনি সবচেয়ে বেশী বিশ্বাস করতেন, মীর জাফর কিন্তু সেই বিশ্বাসী আপন জনের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। মীর জাফর মসনতের লোভে আপন খালাতোভাই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সাথেই করেছিল বিশ্বাসঘাতকতা।

মীর জাফর আপন জনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা পরবর্তী ওই সময়ে সম্ভবত কোন এক জ্ঞানী ব্যক্তি প্রচলিত এই শ্লোকটি বানিয়েছিল, শ্লোকটি হচ্ছে ''আপনের চেয়ে পর ভালো, গায়ের কামড়ের চেয়ে জ্বর ভালো''। এই শ্লোকে আপন জন বলতে যাদের বোঝানো হয়েছে তারা আত্নীয়তার বন্ধনে সম্পর্কীয় অতি আপন জনদের বোঝানো হয়েছে। রক্ত সম্পর্কীয় আপন জনদের বোঝানো হয়নি।যাক ওইসব কথা পরে হবে,এখন আসি আসল কথায়।

পাঠক বৃন্দ আমি আপনাদের সামনে মীর জাফরের প্রেতান্মা ডিজিটাল যুগের যে বিশ্বাসঘাতক, মীর জাফরের ইতিহাস তুলে ধরবো সে মীর জাফর ও কিন্তু তার অতি আপনজনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, সেই আপন জনের মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। সেই যুগের মীর জাফর যে স্টাইলে তার আপন জনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, ডিজিটাল যুগের এই মীর জাফর ও অনেকটা তাই করেছে। ১৭৫৭ সালের মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকতা করায় তার জীবনের ইতিহাস যেমন কলংকিত হয়েছে, ডিজিটাল যুগের এই মীর জাফর ও তার আপন জনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার জীবনের ইতিহাসে কলংক লেপন করেছে।আসুন এখন জানাযাক মীর জাফরের প্রেতান্মা ডিজিটাল যুগের বিশ্বাসঘাতক এই মীর জাফরের পরিচিতি এবং যার সাথে সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেই মানুষটির সাথে তার সম্পর্কের সূত্র কি।

ডিজিটাল যুগের বিশ্বাসঘাতক এই মীর জাফরের বাড়ী, ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলাধীন, ৫ নং আমজাদ হাট ইউনিয়নস্থ বসন্তপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের, মরহুম তাজুল ইসলাম পাটোয়ারীর পুত্র। তার নাম, নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী বাবলু। যার সাথে সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সে তার আপন বড় বোনের স্বামী। উনার নাম আরেফিন আজাদ চৌধুরী বাদল, উনার বাড়ী ও একই জেলায় ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন, ছাগলনাইয়া পৌরসভাস্থ ২ নং পৌর ওয়ার্ড দক্ষিণ সতর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী বাড়ীর মরহুম মুলকুতের রহমান চৌধুরী প্রকাশ মলু চৌধুরীর তৃতীয় পুত্র।

মীর জাফর বাবলুকে ভগ্নিপতির বিশ্বাস করার দৃষ্টান্তঃ
শালা বাবলু এসএসসি পাশ করারপর এলাকায় বখাটেদের সাথে আড্ডা দিত এবং কি নেশা করতো। বিষয়টি জানার পর ভগ্নিপতি বাদল ২০০৬ সালে শালা বাবলুকে চট্টগ্রাম নিয়ে গিয়ে, নিজের বাসায় রেখে ম্যানেজমেন্ট এ অনার্স মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ান। এরপর শালা বাবলুর ভবিষ্যত চিন্তাকরে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী বাদল চৌধুরী ২০১৫ সালে বাবলুকে তার প্রতিষ্ঠানে ৭ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী দেন। বছর খানেক অতিবাহিত হওয়ার পর বাবলুকে জেটি ও কাস্টম সরকারের পাশ বানিয়ে দেন এবং বেতনের বাহিরে বাবলুকে প্রতি সপ্তাহে তার গোটা পরিবারের খরচ বাবদ ১ লক্ষ টাকা করে দিতেন। ২০১৬ সালে শালা বাবলুর কাছ থেকে একটি অঙ্গিকার নামা নিয়ে, এস এ বাদল নামে সিএন্ডএফ কোম্পানীর নতুন একটি লাইসেন্স তার হাতে তুলেদেন বাদল। শালা বাবলুর নামে ৮০ লক্ষ টাকার একটা এফডিআর খুলে দিয়ে টাকা জমা দিতেন ভগ্নিপতি বাদল চৌধুরী। ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাবলুর নামে ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটা প্লট কিনে দেন বাদল। বাবলুকে ভালো ঘরে বিয়ে করানোর মানুষিকতা নিয়ে, ভগ্নিপতি বাদল চৌধুরী বাবলুর গ্রামের বাড়ী বসন্তপুর গ্রামে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি ঘর নির্মান করে দিয়েছেন বাদল চৌধুরী। সবশেষ শালা বাবলুর বিয়েতে ৮ লক্ষ টাকা খরচ করেন বাদল।

ছৈয়দ কামাল উদ্দিন

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন