যে স্ত্রীর সঙ্গে বেশি সময় কাটাতেন মামুনুল জানালেন পুলিশ

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক | জাতীয়
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ১১:৪০:৩৭ পিএম
যে স্ত্রীর সঙ্গে বেশি সময় কাটাতেন মামুনুল জানালেন পুলিশ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিন বিয়ের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন মামুনুল হক। পুলিশ কর্মকর্তাদের তিনি বলেছেন, ছোট স্ত্রীর সঙ্গে তিনি বেশি সময় কাটাতেন। তবে তাকে কবে বিয়ে করেছেন সে ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।

তিন বিয়ের মধ্যে শুধু প্রথম বিয়ের কাবিন আছে, পরের দুই বিয়ের কাবিন নেই বলে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে মামুনুলকে গ্রেফতারের পর তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুন অর রশিদ রোববার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মামুনুল তিনটি বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন।এই তিনটি বিয়ের মধ্যে একটির কাবিন করেছেন। বাকি দুইটির কাবিননামা করেননি বলে মামুনুল বলেছেন।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, তিন স্ত্রীর মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি তার ছোট স্ত্রী। মেঝ স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা এবং বড় বা প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়বা। মেঝো ও ছোট স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের কোনো কাবিননামা হয়নি বলে মামুনুল তাদের বলেছেন।

রোববার দুপুরে মামুনুলকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতারের পর রাতে তদন্ত কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এদিকে রিসোর্টে মামুনুলের সঙ্গে থাকা দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা এবং তৃতীয় স্ত্রী লিপি মোহাম্মদপুরে অবস্থান করছেন বলে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

তারা নজরদারির মধ্যে আছে জানিয়ে সংশিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ওই সূত্র বলছে, মামুনুলের প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়বার বাসাও মোহাম্মদপুরে। তবে রিসোর্টকাণ্ডের পর সন্তানদের নিয়ে তিনি বাসা ছেড়েছেন। কোথায় গেছেন পুলিশ এখনও তা জানতে পারেনি।

মোহাম্মদপুর থানায় গত বছর দায়ের করা একটি মামলায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মোহাম্মদপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সাজেদুল হক।

রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে মামুনুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী।

২০২০ সালের মার্চে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনের কর্মীদের ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
 
এসআর/বাংলাপত্রিকা


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতের শীর্ষ ১০ নেতার বৈঠক

হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান গ্রেফতার অভিযানের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করছেন সংগঠনটির শীর্ষ ১০ নেতা।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকটি এখনও চলছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের মহা-সচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম, হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতের নেতা ও খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, তার ভাতিজা মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীসহ ১০ জন নেতা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

হেফাজতে নেতাদের সঙ্গে আসা একাধিক গাড়িচালক জানান, রাত ১০টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করতে হেফাজতের ১০ জনের অধিক নেতা তার বাসায় প্রবেশ করেছেন।
 
এসআর/বাংলাপত্রিকা


সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিল করোনা

করোনাভাইরাসে দেশে একদিনে আরও ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা। এর আগে ১৮ এপ্রিল সর্বোচ্চ ১০২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪২৭১ জন।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ২১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ হাজার ১৫২টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫১ লাখ ৯৪ হাজার ২১৯টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ২৩ হাজার ২২১ জন। এদের মধ্যে ১০ হাজার ৪৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৩৬৪ জন। এ পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৩০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই ৭১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯, রাজশাহীতে ৫, খুলনায় ১০, বরিশালে ১, সিলেটে ৩, রংপুরে ২ এবং ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৭৫ জন পুরুষ, ৩৭ জন নারী। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১০ হাজার ৪৯৭ জনের মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৭৬৯ জন এবং নারী ২ হাজার ৭২৮ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৬৪ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ২৬, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ১২ এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১০ জন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

এসআর/বাংলাপত্রিকা

করোনায় মারা গেলে ব্যাংকার পাবেন ৫০ লাখ টাকা

ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে পদভেদে ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকি বিবেচনায় ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্ত্রী/স্বামী/সন্তান এবং অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বাবা/মা ক্ষতিপূরণের অর্থ পাবেন।

সার্কুলারের নির্দেশনা গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত যেসব ব্যাংকার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের পরিবার এ সার্কুলারের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার বা সমমান হতে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা মারা গেলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা পাবেন।

ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার বা সমমানের পদমর্যাদার কর্মকর্তারা পাবেন সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা। স্টাফ ও সাব-স্টাফের (যেকোনো প্রক্রিয়ায় নিয়োগ/নিয়োজিত) ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাবেন ২৫ লাখ টাকা।

কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ক্ষেত্রে ব্যাংকে তার অন্য কোনো দায়-দেনা ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে সমন্বয় করা যাবে না। এ ক্ষতিপূরণ বর্তমানে প্রচলিত অন্য যেকোনো প্রজ্ঞাপন/আদেশ/নীতিমালায় বর্ণিত কর্মকালীন মৃত্যুবরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা/অনুদানের অতিরিক্ত হিসেবে প্রদেয় হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল জারিকরা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-১৮ এর ৩(গ) এবং ৪ ক্রমিকে বর্ণিত নির্দেশনার কার্যকারিতা রহিত করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো বলে সার্কুলারে বলা হয়েছে।

এসআর/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন