ত্রিপুরা সমাজের `হারি বৈসু'

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১ | ১১:২৩:৫৬ পিএম
ত্রিপুরা সমাজের `হারি বৈসু' মঙ্গলবার ভোর থেকে সমগ্র বাংলাদেশের আদিবাসী ত্রিপুরা সমাজের শিশু, যুবক, যুবতী, বৃদ্ধসহ সকল বয়সের নারী-পুরুষ নদীতে ফুল দিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এদিন খাগড়াছড়ি সদরে খাগড়াপুরের খাগড়াছড়ি নদী, খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী নদী সহ বেশ কয়েকটি নদীতে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে সকল জাতি, সমাজ ও জীবের সার্বিক রোগ মুক্তি, সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি, মঙ্গল কামনায় শত শত পূর্ণ্যাথীরা ফুল দিয়েছেন।

ত্রিপুরা সমাজেরা এ দিনটি কে ‘হারি বৈসু’ বা হারি বৈসুক নামে সম্বোধন করে থাকে। তাঁদের কাছে এ দিনটি একটি উল্লেখযোগ্য দিন।

সকল জীবের মঙ্গল ও সমৃদ্ধির কামনায় এই দিনটি ছিল ত্রিপুরাদের কাছে মহান একটি দিন।

গতকাল ছিল ত্রিপুরাদের ফুটলা/ফুল তোলা বৈসু/ফুল তোলা বৈসুক, আজকের দিনটি "হারি বৈসু"। মঙ্গলবার চাকমাদের ছিল ফুল বিঝু, এ দিনটি চাকমাদের মূল বিঝু।

ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা, ম্রো, খুমি, পাংখোয়া সহ পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায় ধারাবাহিকভাবে এই উৎসব পালন করবে। তবে করোনা ভাইরাস উর্ধ্বগতির কারণে সবার মাঝে আতংক ও ভয় কাজ করছে, বিগত বছরগুলোর ন্যায় এই বছর সবার মাঝে তেমন উচ্ছ্বাস দেখা যায় না।

বিগত বছরগুলোতে বৈ-সা-বি উৎসব কে ঘিরে থাকত নানান ধরণের বর্ণিল আয়োজন। পাড়ায় পাড়ায় নিজস্ব ঐতিহ্যের বর্ণিল আয়োজন, খেলাধুলা, উৎসবে নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নানান ভাবে ফুটে উঠতো। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সার্বজনীন উৎসবে আনন্দে সবাই মেতে ওঠার কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছেনা। করোনা ভাইরাসের মহামারীর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার  কারণে।

পার্বত্য অঞ্চল সহ সারাদেশ তথা পুরো বিশ্বের মানুষের মাঝে এখন যেন পরিবার নিয়ে সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকাটাই মুখ্য। কারণ বিগত ২০২০ সালেও ঠিক এই সময়ে বৈ-সা-বি উৎসবের আগমন ঘটেছে যখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের তার থাবা বিস্তার করে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং নিচ্ছে। আক্রান্ত হয়েছে এবং হচ্ছে  অগনিত মানুষ।

দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং জনগণকে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিনযাপন করতে হচ্ছে। অনেকে বলেন, আমরা সবাই যেন নিজ নিজ ঘরে পরিবার নিয়ে ঘরোয়াভাবে এই উৎসব পালন করব। সৃষ্টকর্তার কাছে প্রার্থনা করি করোনার থাবা থেকে সবাই যেন মুক্ত থাকে, সুস্থ্য থাকে।

প্রসঙ্গত:পাহাড়ে অধিবাসীদের অন্যতম ও প্রধান উৎসব হচ্ছে "বৈ-সা-বি" উৎসব। বৈ-সা-বি হচ্ছে তিন টি শব্দ সংক্ষিপ্ত রুপ।

যেমন, বৈ এর পূর্ণরুপ বৈসু,সা এর পূর্ণরুপ সাংগ্রাই,আর বি এর পূর্ণরুপ বিঝু এই তিনটি শব্দের সংক্ষিপ্ত রুপ কে বলা হয় বৈসাবি।

ত্রিপুরা সমাজের লোকেরা বলে "বৈসু বা বৈসুক", মারমা সমাজের লোকেরা বলে থাকে 'সাংগ্রাই বা সাংগ্রাইমা আর চাকমা সমাজের লোকেরা বলে থাকে বিঝু/বিজু। পার্বত্যবাসীদের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত সংক্ষিপ্ত শব্দ হচ্ছে "বৈ-সা-বি"।

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন