‘ইয়াং এচিভার সিটিজেন অফ দ্য ইয়ার লাভ’ করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নাইরৌং ত্রিপুরা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ এপ্রিল ২০২১ | ০৯:১৩:৫৩ পিএম
‘ইয়াং এচিভার সিটিজেন অফ দ্য ইয়ার লাভ’ করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নাইরৌং ত্রিপুরা
বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আদিবাসী কন্যা নাইরৌং ত্রিপুরা অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর ক্যানবেরা-২০২১ ইয়াং সিটিজেন অফ দ্য ইয়ার সন্মাননা লাভ করেছেন।

এদিন ক্যানবেরায় উপ মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী ইযেভেটভেরী নাইরুংকে ইয়ং এচিভার এডওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে এ সন্মাননা তুলে দেন।

রাজধানীবাসী ১২ থেকে ২৫ বছরের নাগরিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত অর্জন ও সামাজিক অবদানের জন্য প্রতিবছর রাজ্য সরকার এ সন্মাননা পুরষ্কার প্রদান করে। এ বছর ১৪ জন এডওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে নাইরুং সর্বকনিষ্ঠ।

নাইরুং ত্রিপুরা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার খাগড়াপুর হাদুকপাড়া এলাকায় আদি নিবাস।

নাইরৌং ত্রিপুরার বয়স যখন ৫ বছর, ২০১৩ সালে তখন বাবা অভিলাষ ত্রিপুরা ও মা’ রাজেশ্বরী রোয়াজা’র চাকরির সূত্রে পরিবারের সাথে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর ক্যানবেরাতে চলে যান। তাঁর পরিবার এখনো সেখানে বসবাস করছেন চাকরির সুবাদে। প্রাইমারী স্কুলে একাডেমিক ও নন-একাডেমিক দুটিতেই প্রথম থেকে ষষ্ঠ প্রতিটি বছরে অসাধারন শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট অর্জন করেন। ছোট থেকে তিনি সবকিছু ছাড়িয়ে তার বড় অর্জন প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে। স্কুল, জোন, রাজ্য চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে স্কুল স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশীপ সাঁতারে জাতীয় পর্যায়ে এসিটি রাজ্যের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। ভালো সাঁতারু হবার পাশাপাশি ক্যানবেরার সাঁতার জগতে সে এক নামে পরিচিত তার জুনিয়র ও সমবয়সী সাঁতারুদের মধ্য থেকে একজন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণার মধ্যমণি ছিলেন।

গত কয়েক বছরে গরীব ও এতিম শিশুদের জন্য চ্যারিটি কাজ, পরিবেশ রক্ষা, মানবাধিকার ও মাল্টিকালচাররিজম প্রমোট করতে কমিউনিটি ওয়ার্কে অংশগ্রহণ, শেষে ২০১৯ দাবানলে জীবন ও মালামাল রক্ষাকারী অগ্নিনির্বাপকদের জন্য ফান্ড রেইসিং এর কাজ করেন। নাইরুং কে সেখানকার মন্ত্রী ও আয়োজকরাও অনুষ্ঠানে সমাজে অবদানের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন।

নাইরৌং এর গর্ভধারিণী মা রাজেশ্বরী রোয়াজা উচ্ছ্বাসের সাথে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন বলেন যে, মা হিসেবে আমার ১২ বছরের কন্যা আমাকে এমন অসাধারন আনন্দ ও গর্ব এনে দিয়েছে! একজন মা হিসেবে এর চেয়ে আর কিছু পাওয়ার থাকতে পারেনা। গর্ববোধ করেন তাঁর অভিলাষ ত্রিপুরাও।

তিনি নাইরৌং এর জন্য সকলের নিকট আশির্বাদ কামনা করেন। যেন মেয়ে বড় হয়ে জাতি, সমাজ এবং দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে পারেন, দেশের জন্য সুনাম বয়ে করতে পারেন।

প্রসঙ্গত:বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় খাগড়াপুর হাদুক পাড়ায় অভিলাষ ত্রিপুরা ও রাজেশ্বরী রোয়াজা'র দম্পতির দুই কন্যা, এক পুত্র (ছেলে)। এই দম্পতির সবার বড় কন্যা নাইরৌং ত্রিপুরা(১২), তিনি ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। মেজো কন্যা/মেয়ে শুয়ারী ত্রিপুরা(৬), তিনি ১ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত, সবার ছোট'র নাম খাহিং ত্রিপুরা।
 
নাইরৌং এর বাবা অভিলাষ ত্রিপুরা বর্তমানে Austrilian Federal Government Officer হিসেবে কর্মরত আছেন আর মা রাজেশ্বরী রোয়াজা Early Childhood Educator হিসেবে কর্মরত আছেন।

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন