প্রান্তিক নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়ন জনসচেতনতামূলক সভা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ মার্চ ২০২১ | ০৯:২৭:০৯ পিএম
প্রান্তিক নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়ন জনসচেতনতামূলক সভা
খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি'র আয়োজনে খাগড়াছড়িতে ‘নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ দিন প্রোগ্রামের আওতায় সোমবার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা, মনাজয় কার্বারী পাড়ায় “নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরূদ্ধে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও নারী ও কিশোরীদের অধিকার বিষয়ে নাটক ও সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’র অর্থায়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি ‘খাগড়াছড়ির প্রান্তিক নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কর্মউদ্যোগ’ প্রোগ্রামটি খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলা, পেরাছড়া ও ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন ও গুইমারা উপজেলায় গুইমারা সদর ও সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন বাস্তবায়ন করছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনাব উশ্যেপ্র্রু মারমা, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, গুইমারা উপজেলা।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জনাব রেডাক মারমা, চেয়ারম্যান, সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ, সিন্দুকছড়ি।

সভা-সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মিসেস গীতিকা ত্রিপুরা, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি, বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা শেষে কবিতা পাঠ করেন মিসেস ধীনা ত্রিপুরা, নৃত্য প্রশিক্ষক ও ধীনা ড্যান্স একাডেমী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

বাল্য বিবাহ সম্পর্কিত দলীয় গান পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, মিসেস চামেলী ত্রিপুরা, বিশিষ্ট ত্রিপুরা সংগীত শিল্পী, এছাড়াও নারী জাগরনীমূলক বিভিন্ন অনু্ষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও বাল্য বিবাহ নিয়ে বাংলা ভাষায় একটি নাটক প্রদর্শন করা হয়। উক্ত নাটকটি দেখে প্রধান অতিথি মহোদয় ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ নাটকটির যথার্থতা অনুভব করেছেন।

প্রধান অতিথি মহোদয়, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি’র কর্তৃপক্ষকে নাটকটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোতে প্রদর্শন করার অনুরোধ জানান।

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, ত্রিপুরা গ্রামে ত্রিপুরা ভাষায় এবং মারমা গ্রামে মারমা ভাষায়, চাকমা গ্রামে চাকমা ভাষায় নাটকটি দেখানোর অনুরোধ জানান।

তিনি আরও বলেন বাল্য বিবাহ বন্ধের জন্য সকল স্তরে সচেতনতার যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি সকলেই যেন সবসময় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

নারীর উপর সহিংসতা নিরসনের জন্য আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করতে হবে, সচেতন হতে হবে। নারী পুরুষের ভেদাভেদ ভুলে সমান ভাবে চলতে হবে। দেশের সকল সমাজকে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে, নারীদেরকে সবসময় দুর্বল না ভেবে সবল ভাবতে হবে। আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।পায়ের তলার শক্ত করতে হবে। পরিবার এবং সমাজপতি যারা আছেন তাদেরকেও সচেতন হতে হবে। আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে সমানভাবে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

এদিন জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা শেষে নারী ও কিশোরীদের অধিকার বিষয়ে ‘বাল্যবিবাহ’ নামক নাটক প্রদর্শন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন ‘বাল্যবিবাহ’ নাটকের প্রতিপাদ্যের বিষয় ছিলো ‘বাল্য বিবাহ রোধ করি, সুস্থ্য সমাজ গড়ে তুলি’।

প্রসঙ্গত, নারীর প্রতি নির্যাতন, সহিংসতা, অপমান, অবহেলা নতুন কোন বিষয় নয়। যুগ যুগ ধরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবনের প্রায় প্রত্যেক নারীকেই এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যার অন্তর্নিহিত কারণ পরিবার, সমাজে ও রাষ্ট্রে নারীদের অধস্তন অবস্থান, নারীকে মানুষ হিসেবে গণ্য না করার মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি নারীকে ভোগ্যবস্তু ভাবা হয়।

বাংলাদেশে ২০০৯ সালে সুপ্রীমকোর্টের হাইকোট বিভাগ থেকে যৌন নিপীড়নের একটি সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল যা নিম্নরুপ.. ‘কোন নারী কে ভয়ভীতি প্রদর্শন,যে কোন ধরণের চাপ প্রয়োগ, মিথ্যা আশ্বাসে সম্পর্ক স্থাপন, টেলিফোন বিড়ম্বনা, অশালীন উক্তি, কটুক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলা ও যৌন হয়রানীর মধ্যে পরে।

‘প্রতিরোধ ও সুরক্ষা’আইন -২০১০ অনুযায়ী  ‘কোন নারী কিংবা শিশু সদস্যদের উপর শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন সম্পর্কিত নির্যাতন পারিবারিক সহিংসতার মধ্যে পরে।

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক/এসএ/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন