বদলগাছীর হাট বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের মহোৎসব; প্রশাসন নিরব

শহীদুল ইসলাম | বাংলা পত্রিকা স্পেশাল
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১ | ০৫:১৯:০০ পিএম
বদলগাছীর হাট বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের মহোৎসব; প্রশাসন নিরব
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অতিরিক্ত টোল আদায় বিপাকে ক্রেতা বিক্রেতারা। বিষয়টি নিয়ে প্রতি নিয়তয় চলছে হট্রগোল। সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতারা ও হাট ইজারাদারদের চলছে লড়াই। ইতিপূর্বে উপজেলা চেয়ারম্যান অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ করতে বিভিন্ন হাট বাজারে গিয়ে প্রাতিবাদ জানালে কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো ছিল। আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, চলতি বছরের ২০-২১ অর্থ বছর থেকে কোলাহাট রাজস্ব ভূমি অফিস থেকে খাস আদায় করা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন তহশীলদার অসীত চন্দ্র রায়। শুরু থেকে নীতিমালা অনুসারে শুধু ক্রেতাদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হতো। গত প্রায় ১ বছর ধরে অতিরিক্ত হারে টোল আদায় করা হচ্ছে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের নিকট থেকে।

গত মঙ্গবার সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে কাশিমালা গ্রামের নয়ন জানায় ৬৫০ টাকা দরে দুই মণ আলু বিক্রি করেছে সে। তার কাছ থেকে ২ মণে ৪০ টাকা খাজনা নিয়েছে। কোলার পালশা গ্রামের এমদাদুল হক বলেন, ৪২ কেজিতে মণ ধরেছে। প্রতিমনে ২০টাকা হারে খাজনা আদায় করছে ইজারাদাররা। অতিরিক্ত খাজনা না দেওয়ার জন্য বাকবিতণ্ডা করেছে। পরিশেষে ২০ টাকা হারেই খাজনা দিয়ে চলে আসতে হয়েছেতাকে। আরো অনেক কৃষকের সাথে কথা বললে তারা একই কথা জানায়।

কয়েকজন পাইকারী ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, হাটের সাবেক ইজারাদার ফেরদৌস সরদার হাটের খাজনা আদায় করছেন। ১০০ কেজি ওজনের এক বস্তা শিম, বেগুন ও আলুর জন্য খাজনা দিতে হয় ৫০ টাকা। নীতিমালা অনুসারে এক ভ্যান কাঁচামাল বিক্রি করলে ক্রেতার নিকট থেকে ১০ টাকা খাজনা নিতে পারবে। সেখানে কৃষকদের কাছে জোড় পূর্বক প্রতিমনে ২০ টাকা হারে খাজনা আদায় করছে এবং ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নিচ্ছে বস্তা প্রতি (১০০ কেজি ওজনের) ৫০ টাকা। অন্যান্য মালামালের খাজনা আদায়ের চিত্র আরও ভিন্ন।

একটি গরু বিক্রয় হলে খাজনা ৪শত টাকা তারা নিচ্ছে। কিন্তু ছাগল, ভেড়ার জন্য গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত মাশুল। নিয়ম অনুসারে প্রতিটি ছাগল, ভেড়ার খাজনা ১৫০ টাকা। সেখানে তারা জোরপূর্বক আদায় করছে ২৫০ টাকা।

ভগবানপুর গ্রামের সাইফুদ্দিন জানান, তিনি ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু ক্রয় করেছেন। গরুর জন্য ৪ শত টাকা খাজনা দিতে হয়েছে। ইসমাইলপুর গ্রামের বকুল হোসেন বলেন, ১টি  ছাগল কেনার পর খাজনা দিতে হয়েছে ২৫০ টাকা। আরো ১০/১৫ জন ক্রেতার সঙ্গে কথা বললে তারাও অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কথা জানান। যেখানে রাজস্ব আদায়ের রশীদ ফাঁকা রয়েছে। কত টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে তা রশীদে উল্লেখ করা হচ্ছে না। আদায়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে ২ জন আদায়কারী জানায়, এভাবেই সবসময় রশীদ কাটা হয় আপনারা ইজারাদার এর সাথে কথা বলেন। ইজারাদার ফেরদৌস সরদার জানায়, হাট খাস কালেকশন করা হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল কেন নেওয়া হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা নীতিমালা অনুসারে টোল আদায় করছি। আর প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে হয়।

এ বিষয়ে খাস রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে থাকা তহশীলদার রনজু হোসেন জানান, এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকার্তার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শুক্রবার ২দিন হাটে যাই।

এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) সুমন জিহাদী বলেন, ফেরদৌস সরদারকে হাটের খাজনা আদায় করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত খাজনা যদি তারা আদায় করে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবু তাহির জানান, কোলাহাট খাস রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। আগামীতে আবার হাট ডাক হলে নিয়ম মোতাবেক আদায় করা হবে।

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন