মান্দায় স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

মহাদেবপুর প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ০৮:১৯:৫১ পিএম
মান্দায় স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
নওগাঁয় স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেয়ে নুরুন্নাহার (১৫) নামের ১০ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে যান এ শিক্ষার্থী। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন সম্পূর্ন করা হয়।

শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের কাঁশোপাড়া গ্রামের সামছুর রহমানের মেয়ে ও কাঁশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
 
স্থানীয়রা জানান, মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মকলেছুর রহমান প্রেমের ফাঁদে ফেলে শিক্ষার্থী  নুরুন্নাহারকে গোপনে বিয়ে করেন। কিন্তু ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় গোপন বিয়ের কাবিনানামা করা হয়নি। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন মকলেছুর রহমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হবার পর মকলেছুর রহমানের প্রথম স্ত্রী জুলেখা খাতুন মুক্তি হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সে সময় তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন মুক্তি।
এদিকে শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার স্বামীর স্বীকৃতি সহ বাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকলে বিভিন্ন অজুহাতে মকলেছুর রহমান এড়িয়ে যেতে থাকেন। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটার এক পর্যায়ে গোপন বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন মকলেছুর। এর জের ধরে গত ৬ ডিসেম্বর সকালে মোবাইলফোনে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে  হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার। হারপিক পানের ঘটনাটি জানার সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নুরুন্নাহারের ভাই আব্দুল মালেক জানান, রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর গত ১০ ডিসেম্বর নুরুন্নাহারের অপারেশন করা হয়। এরপর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। এ অবস্থায় বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে মারা যান বোন নুরুন্নাহার।

এদিকে ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন কথিত স্বামী মকলেছুর রহমান। তার পরিবারের লোকজনও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মকলেছুরের মা মাকসুদা বিবি জানান, ‘ছেলে মকলেছুর প্রেম করে নুরুন্নাহারকে গোপনে বিয়ে করেছেন গ্রামবাসির মুখে এমন কথা শুনেছি। এর বেশি আর কিছুই আমি জানি না।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, ঘটনায় ভিকটিম শিক্ষার্থীর বাবা সামছুর রহমান বাদি হয়ে মকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

অহিদুল ইসলাম/এনপি/বাংলাপত্রিকা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন