‘আর নয় নিরবতা, সময় এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো প্রমোশনের দাবীতে সোচ্চার হওয়া’

মোঃ আরাফাত রহমান | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর ২০২০ | ০৬:৪৪:১৬ পিএম
‘আর নয় নিরবতা, সময় এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো প্রমোশনের দাবীতে সোচ্চার হওয়া’
গত ১৭ মার্চ করোনা মহামারীর কারণে অনাকাঙ্খিত ভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হয় বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারপর ২২মার্চ ঘোষনা করা হয় লকডাউন। বন্ধ হয়ে যায় অফিস, আদালত, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্ট, ফ্যাক্টরি সহ অর্থনীতির চাকা। দফায় দফায় টানা কয়েকবার লকডাউন দেয়ার পর ধীরে ধীরে খুলে দেয়া হয়েছে সব কিছুই। কিন্তু আজ অবদি  বন্ধ আছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো।

তারপর অনেকগুলো মাস পেরিয়ে গেল। কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কোন লক্ষণই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নেই কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে আর কতদিন চলবে? শুধুমাত্র মহামারীর অযুহাতে অনির্দিষ্ট কালের জন্য এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখা কতটা যৌক্তিক?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাতে কি আমাদের লাভ বেশী হচ্ছে? নাকি ক্ষতির পরিমানটাই বেশী। করোনা মহামরীর এই দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকলাপ চোখে পরার মতো ছিল না। নামে মাত্র অনলাইন ক্লাসের নীতিমালা থাকলেও, বাস্তবিক ক্ষেত্রে এটি তেমন ফলপ্রসু হয়নি। নানা সিমাবদ্ধতা ও ঢিলেঢালা ভাবে কিছু ক্লাস হলেও তা দীর্ঘ বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ঠ নয়। এতে সরকারের মনিটরিং ও শিক্ষকদের বাধ্যবাধকতারও যথেষ্ঠ ঘাটতি ছিল। সব মিলিয়ে এক ঘোর অনামিশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জীবন।
 
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘ ছুটিতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্ৰস্থ হয়েছে। বাংলাদেশের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই অনলাইন ক্লাস যথার্থ ভাবে হয়নি। তার উপর অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার উপর ছিল নিষেধাজ্ঞা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরিক্ষা নেয়ার অনুমতি থাকলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ছিল না। সুতরাং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট এখন নিশ্চিত। আর এই নিশ্চিত সেশনজট শিক্ষার্থীদের ধাবিত করছে নিশ্চিত হতাশার দিকে।
 
আমি নিজেও একজন শিক্ষার্থী হিসেবে হতাশ। দিন যতোই যাচ্ছে, হতাশা ও ক্ষোভের মাত্রা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারন করছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের কোন মূল্যই কি সরকারের কাছে নেই? কেন আমাদের নিয়ে এতো অবহেলা?

ইতোমধ্যেই আমরা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার খবর শুনেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাবিপ্রবি, চট্টগ্ৰাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরো বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডজন খানেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এভাবে আর বেশীদিন চলতে থাকলে এমন আত্মহত্যার প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

মোটামুটি নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, শিক্ষার্থীদের এমন অনাকাঙ্খিত  বিষয়ের দায় আমাদের সরকার ও দায়িত্বশীলরা কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। এভাবে হাল ছেড়ে দিয়ে আর কতোদিন চলা যায়? করোনা মহামারী তো অদুর ভবিষ্যতেই সমাধান হয়ে যাওয়ার মতো কোন বিষয় নয়। তাছাড়া আমাদের দেশে করোনার প্রকোপ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় তেমন বেশী নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য সব কিছুই তো চলছে স্বাভাবিক ভাবে। তাহলো করোনার অযুহাতে শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ থাকবে?

ইতোমধ্যেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা কোন ভাবেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। অটো পাশ, অটো প্রমোশন , পরীক্ষা বিহীন সার্টিফিকেট এগুলোর কোনটিই যথার্থ পরিপূরক নয়। এইচএসসি তে অটো প্রমোশন সহ মোট তিনটি বোর্ড পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। স্কুলের অন্যান্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদেরও অটো প্রমোশন দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার কিছুই করেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দেখলে মনে হয় তারা কেবল স্কুল কলেজ নিয়েই ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা কি তবে পরগাছা? বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতি কি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন দায়-দায়িত্ব নেই?

তাই আর কালবিলম্ব না করে এখন উচিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য চিন্তা ভাবনা করা। অটো প্রমোশন কিংবা দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার দাবীতে এখনই উচিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হওয়া। নদীতে স্রোত অনেক গড়িয়ে গেছে। আমরা আর অবহেলার স্বীকার হতো চাই না।

মোঃ আরাফাত রহমান
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়


পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন