সৃষ্টিশীল কর্মঃ ইতিহাসে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

এম হোসাইন | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:৪৮:৪৯ পিএম
সৃষ্টিশীল কর্মঃ ইতিহাসে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
জাতির চাহিদা মাফিক কোনো কিছু সৃষ্টি এবং তা প্রসারের জন্য কাজ করে গেলে নিজের জীবনে বিশেষ কৃতিত্ব লাভ করা যাবে। শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট জাতির চাহিদা কি ছিলো? পরাধীনতা থেকে মুক্তিলাভ এবং সার্বভৌমত্ব স্বাধীন দেশ। এই চাহিদা জায়গা পূরণে যাঁরা নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন তাঁরা ইতিহাসে আজ বরণীয় ও গভীরভাবে স্মরণীয়। কিন্তু মহান নেতারা যদি জাতির চাহিদা উপেক্ষা করে গতানুগতিক চিন্তা-চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে কামনা ভোগী হয়ে জীবন গড়ে তুলতেন তাহলে তারা সাময়িক সুখ ও প্রাপ্তি ঠিকই লাভ করতেন কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাঁদের পবিত্র নাম সংযোজিত হতোনা।স্মরণীয় ব্যক্তি হিসেবে অমরত্ব লাভ করতেন না।তাঁদের সংগ্রামের ফসল জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জন।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন নারীবাদী লেখক ও সমাজকর্মী হিসেবে ইতিহাস স্বীকৃত।তিনি তাঁর জীবদ্দশায় নারীদের শিক্ষা এবং ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অবিচল সংগ্রাম অব্যাহত সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে ইতিহাসে অমর কীর্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি চাইলে অন্যসব নারীর মতো তখনকার প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্যে আবদ্ধ থেকে অনন্য জীবন যাপিত করতে পারতেন। তা যদি হতো তাহলে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ইতিহাসের পাতায় স্থান দখল করতে পারতেন না। জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারতেননা। সেইসময়ে তাঁর (বেগম রোকেয়া) স্বামী  ডেপুটি ম্যাজিস্টেট ছিলেন। অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থা। তখনকার প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থা অনুযায়ী সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হলেও সমাজের চাহিদার প্রতি গভীর চিন্তা-চেতনার বীজ অঙ্কুরিত করে বিশেষ অবদান সৃষ্টি করতে পারেননি বলে তাঁর স্বামী সাখাওয়ার হোসেন ইতিহাসে স্মরণীয় ব্যক্তিরুপে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে বেগম রোকেয়া তখনকার সামাজিক অবস্থা ও দুর্দশা সঠিকভাবে উপলব্ধি করে প্রাজ্ঞ চিন্তার বীজ রোপন করে সামাজিক সংস্কার মূলক সৃষ্টিশীল কার্যক্রম পরিচালনা করতে শতভাগ সফল হয়েছেন। সেজন্যে সৃষ্টিশীল কর্মের শক্তিতে এখনো বেঁচে আছে ইতিহাসের সোনালী পাতায়, মানুষের পবিত্র অন্তরে।

গতানুগতিক জীবনচর্চা সাময়িক সুখ ও ঠুনকো অর্জন এনে দেবে। বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ জীবন উপহার দেবেনা। সমাজের ক্ষত স্থান নির্ধারণ করে সঠিক চর্চার মাধ্যমে ক্ষত স্থান পূরণে নিরলস শ্রম ও নিঃস্বার্থ কাজ করে যেতে পারলে আজীবন মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে বেঁচে থাকবেন। কর্মের গুণে আপনি অমরত্বের মতো জীবন লাভ করবেন। যা সকলের ভাগ্যে জুটেনা।

ছোট গল্প

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন