করোনা ভাইরাস সংক্রমনঃ পৌর মেয়রের পারিবারিক বন্ধন

মিথুন | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ০৬:৪৫:৩০ পিএম
করোনা ভাইরাস সংক্রমনঃ পৌর মেয়রের পারিবারিক বন্ধন
পৃথিবী আজ অদৃশ্য শক্তির কাছে হার মেনেছে। পাল্টিয়েছে তার চিরাচরিত নিয়ম রীতি। পাল্টে দিয়েছে আমাদের অভ্যাসগুলো। সব কিছুকে স্থবির করে দিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে সভ্যতার যন্ত্রের চাকা। সম্পর্কের ফাটল ধরিয়ে তৈরি করেছে দূরত্ব। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত বন্ধনও আজ অসহায় হয়ে পরেছে করোনা ভাইরাসের কাছে। পরিবার পরিজনও শেষ বিদায়ে থাকে না। নতুন এই নিয়ম গুলোর অনিয়ম করে কিছু মানুষ তৈরি করেছে দৃষ্টান্ত। হ্যাঁ আমি আজ এরকম এক মানুষের কথাই বলতে যাচ্ছি। তিনি আমাদের প্রিয় মেয়রের সহধর্মিনী তিথী আপু।

পৌর এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন তিনি। রক্তস্রোতে যার সামাজিক প্রপঞ্চ সমূহ বহমান। করোনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাওয়া এক মানবী।করোনার ভয়কে জয় করে তিনি দেখিয়েছেন দূরন্ত সাহসিকতা। দীর্ঘ দেড় মাস যাবত পরিবারের সাথে দুরত্ব রেখে পৌরবাসীর সেবা করে যান পৌর মেয়র এস এম ইকবাল হোসেন সুমন। আল্লাহর লিলাখেলা বুজা বড় দায়।পৌরবাসীর সেবা করতে করতে গত ২০ মে পৌর মেয়রের করোনার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি শুরো থেকেই চেষ্টা করেন পরিবার-পরিজন যাতে দূরে থাকে। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরের দিন স্ত্রী-সন্তান গফরগাঁও চলে আসে পৌর মেয়রের বাধা উপেক্ষা করে। তিথী আপু ঢাকা থেকে গফরগাঁও এসেই এযুগের মাদার তেরেসার মত সেবার হাত বুলিয়ে দেন।
সুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে যেমন নিয়ামত, তেমনি অসুস্থতাও নিয়ামত সরূপ।

গত ২৪ মে পৌর মেয়রের পরিস্থিতির অবনতি হলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় দ্রুত ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি হন পৌরমেয়র। ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে একটি কেবিনে সস্ত্রীক অবস্থান করেন। তিথী আপু করোনার লাড়াইয়ে পৌর মেয়রের সঙ্গ দিতে গিয়ে রাত-দিন কি যে পরিশ্রম করছেন তা তো লিখে বুজানো যাবে না। একজন স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য কে যথাযথ ভাবে পালনের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

কথিত আছে সেবাই অর্ধেক আরোগ্য লাভ করে একজন রোগী। আর এই কথাটির বাস্তব রূপদেন তিনি। স্বামীর পাশে থেকে সাহস ও সহাচর্য দিয়েছেন। লড়াই করেছেন করোনার সাথে। অবশেষে হেরেছে করোনা জয়ী হয়েছে পারিবারিক বন্ধন। সেবা করে সুস্থ করে তোলেন ভালোবাসা মানুষকে। করোনা পজিটিভ রোগীর সেবা কিভাবে করতে হয় তিনি তা ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে কেবিনে থেকে দেখিয়ে দেন।

প্রিয় নেতা ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল মহোদয়ের আস্থাবাজন এই পৌর নেতৃত্বের কোন বিকল্প তৈরি হয়নি এই শহরে। তাইতো পৌরসভাসহ সমস্ত উপজেলায় দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রিয় পৌর মেয়রের সুস্থতার জন্য দু হাত তুলে দোয়া করে পরম করুণাময়ের কাছে। পৌরবাসীর দোয়া ও তিথী আপুর সেবায় আমরা আমাদের পৌর মেয়রকে ফিরে পেয়েছি।

তিথী আপুর জন্য হৃদয় নিংড়ানো দোয়া রইল আল্লাহ এর উত্তম প্রতিদান আপনাকে দান করেন। আমরা পৌরবাসী আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। কারন আমাদের মেয়র আমাদের কাছে ফিরে আসার জন্য আপনার ভূমিকা অপরিসীম।

লেখক: শিক্ষক এবং সংবাদকর্মী

বাংলাপত্রিকা/এসআর

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন