ওয়ারিশ সূত্রে মৃত মুক্তযোদ্ধা পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী হতে ওয়ারিশদের যা করতে হবে

ছৈয়দ কামাল | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০ | ১১:২০:৪০ এএম
ওয়ারিশ সূত্রে মৃত মুক্তযোদ্ধা পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী হতে ওয়ারিশদের যা করতে হবে
ভাতাভূক্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা জীবিত থাকা অবস্থায় যদি তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী হিসেবে নমিনি করা স্ত্রী'র মৃত্যু হয় তাহলে তিনি জীবিত থাকাকালীন নমিনি পরিবর্তন করে, তার ওয়ারিশদের মধ্য থেকে যেকোন একজনকে পুণঃরায় নমিনি করে রাখাটাই উত্তম।

পিতা যদি জীবিত অবস্থায় ওয়ারিশদের মধ্যেথেকে কাউকে নমিনি করে না যান, সে ক্ষেত্র্রে তার মৃত্যুপরবর্তী ওয়ারিশগণ পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী হতে হলে,কি কি কাগজ পত্র সংগ্রহ করতে হয় এবং কোথায় কার বরাবর জমা দিতে হয়, সে বিষয় মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভুক্ত ছিলেন এমন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করা হল।

ভাতাভোগী মুক্তযোদ্ধা যদি মৃত্যুকালে একাধীক ওয়ারিশ রেখে যান,তাহলে ওয়ারিশগণ প্রথমে নিজেদের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে যেকোন একজন ওয়ারিশকে পিতার ভাতা উত্তলনে নমিনি নির্ধারণ করে, নির্ধারিত ওই ওয়ারিশকে ক্ষমতা প্রদানে স্বীকৃতি স্বরুপ বাকী ওয়ারিশগণ বিজ্ঞ নোটারী পাবলিকের কার্যালয় গিয়ে ৩ শত টাকার স্টাম্পে স্বাক্ষর করে হলফনামা প্রদান করতে হবে।

পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী হিসেবে হলফনামার মাধ্যমে অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওয়ারিশ নিজের নামে পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু করণ ও উত্তলনে অনুমতি চেয়ে, নিজ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন পত্র জমাদানেরপূর্বে আবেদন পত্রের সাথে যে সকল কাগজ পত্র সংযুক্ত করতে হবে সেই কাগজ পত্র গুলি হচ্ছেঃ

১।ভাতার অনুমতি চেয়ে আবেদনকারী হলফনামায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওয়ারিশ ও হলফনামা প্রদানকারী ওয়ারিশদের বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক কর্তৃক সিল মোহরকৃত নিজ নিজ স্বাক্ষরীত ছবি।

২।নিজ নিজ ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র কর্তৃক স্বাক্ষরিত পিতার মৃত্যু সনদের ফটো কপি।

৩।নিজ নিজ ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র কর্তৃক স্বাক্ষরিত ওয়ারিশনামা সনদ পত্রের ফটো কপি।

৪।নিজ নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত পিতার মৃত্যু সনদের ফটো কপি।

৫।পিতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটো কপি।

৬।হলফনামার মাধ্যমে ভাতা উত্তলনে আবেদনকারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওয়ারিশসহ হলফনামা প্রদানকারী বাকী ওয়ারিশদের নিজ নিজ জাতীয় পরিচয় পত্রের অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ পত্রের ফটো কপি।

৭।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রক্ষিত পিতার লাল মুক্তিবার্তা এর অনুলিপি।

৮।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রক্ষিত পিতার বেসামরিক গেজেট এর অনুলিপি।

৯।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রক্ষিত পিতার সাময়িক সনদ এর অনুলিপি।

১০।পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বহি এর মূল কপি।

এই সকল কাগজ পত্র সংগ্রহ করার পর মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভূক্ত ছিলেন,এমন একজন মুক্তিযোদ্ধার ওয়ারিশ বা ওয়ারিশগণ তার পিতার মৃত্যুপরবর্তী নিজে বা নিজেরা পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী হওয়ার ক্ষেত্র্রে, অনুমোদন পাওয়ার জন্য নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করার পূর্বে, উল্লেখিত ওইসব কাগজ পত্র আবেদন পত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

লেখক: সংবাদকর্মী

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন