তারাকান্দা বাজারঃ উন্নয়নের গলিপথে-জরুরী সেবা পৌছানো কি সহজতর হবে?

ফজলে এলাহি ঢালী | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০ | ১১:১৬:০৪ এএম
তারাকান্দা বাজারঃ উন্নয়নের গলিপথে-জরুরী সেবা পৌছানো কি সহজতর হবে?
কত প্ল্যান, কত পরিকল্পনা, কত সমীকরন হয়। বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আটকে যায় অনেক মহৎ উদ্যোগ। নেতা হয় সাধারনের ভোটে। সাধারনের ভোটে নির্বাচিত নেতা হয়ে যায় অসাধারন। শ্রমিকের ঘামে যে সভ্যতা বিনির্মান হয়, সেই শ্রমিকই পুড়ে হয় কয়লা। বাস্তবতার নির্মম কসাঘাতে জর্জরিত সাদামনের মানুষদের দেখার যেন কেউ নেই।

আমরা ভবিষ্যত নিয়ে কতই না চিন্তিত, কিন্তু চূড়াবালির উপর দাঁড়িয়ে কখনও কোন সভ্যতা কি উন্নতি করতে পেরেছে?? আমরাও পারব না। কিছুটা ছাড় দিতে হবে ভবিষ্য‍ৎ বিনির্মানে। কিন্তু সভ্য সমাজে জীবন দিতে হবে কেন? এত ক্ষতিগ্রস্ত কেন হব আমরা?

কয়েকদিন আগে আগুনে তারাকান্দা বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোকান পুড়লো। লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হলো। তারপরও কি তারাকান্দা বাজারে কারও টনক নড়েছে। না নড়েনি। সেই গলিপথে আটকে পরবর্তী আগুনে নিজেকে ও নিজের সম্পদ ঝলশানোর জন্য অপেক্ষায় আছি। আমরা কি জরুরী ভিত্তীতে পানির যোগান দেব সেই ব্যবস্থা করেছি। কোন একটি গলিপথ কি উন্মুক্ত রেখেছি জরুরী সেবা পৌছাতে।

তারাকান্দা বাজারের ইজারা মূল্য প্রায় কোটি টাকা। বাজারের প্রবেশদ্বার হকারের দখলে। নির্মিতব্য ড্রেনের উপড় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দখল বানিজ্য। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ। ঠিকাদারদের উন্নয়ন কর্মকান্ডে দীর্ঘসূত্রিতা। সরকারী সম্পত্তি বেদখল। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের কল্যাণে সরু গলিতে জরুরী সেবা পৌছানো কতটা সম্ভব, গেল ঈদের দিনে তা স্পষ্ট হয়েছে। তারাকান্দার বাজারটিতে আসলে দাহ্য পদার্থের দোকানগুলো মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোন মনিটরিং চোখে পড়েনা। দোকানগুলো এবং তাদের মালিকরা ইচ্ছেমত দাহ্য পদার্থ মজুদ ও ব্যবসা পরিচালনা করছে। উন্নয়নের গলিপথে না আটকে পরিকল্পনা মাফিক উন্নয়ন তারাকান্দা বাসীর কাছে সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারাকান্দা বাজারে এখন পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে উন্নয়ন না করলে ভবিষ্যতে তারাকান্দা বাজার ও আশপাশের বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

এ বিষয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ একজন দোকানদার বলেন, আগুন ঠেকানোর শক্তি যদি না থাকে তাহলে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন। অনেক সময় দেখি কিছু নিয়ন্ত্রন অফিসের তৎপড়তা, এটা করা যাবেনা, ওটা নয়, তবে দাহ্য পদার্থের ক্ষেত্রে উনারা কি ঘুমিয়ে থাকেন। সরকারী টাকা, সরকারের দায়িত্ব কি তাহলে?

এ বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুজ্জামান সরকার বকুল বলেন, অগ্নিকান্ডের পর আমরা সংবাদ প্রকাশে ঝাপিয়ে পড়ি। এটা কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ব থেকে। তবে কেন আমরা ধারাবাহিকতা ধরে রাখব না। চলুন ধারাবাহিক হই একটা সমস্যা সমাধান হবে তারপর ঘরে ফিরব, না হয় কাবুলিওয়ালার মত পিছনে পড়ে থাকব। তারাকান্দার উন্নয়ন পরিকল্পনা মাফিক হবে এটাই কাম্য। আমরা আজ পাল্টাবো নয়ত কোন দিনই নয়। হয়তো পড়ের আগুনে আমার নামটি কয়লা হবার জন্য ঠিক করা আছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তারাকান্দা বাজারে কিছু পরিকল্পনা জরুরী।

লেখক: সংবাদকর্মী

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন