শাসক চাই উমরের মতো

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০ | ১১:৫৪:২০ এএম
শাসক চাই উমরের মতো
বিশ্বনবি (সা:) নিজে যেভাবে কষ্ট করে ইসলামকে পরিপূর্ণ রূপ দিলেন তেমনি তৈরি করলেন কিছু সোনার মানুষ। তাঁর পরশ পেয়ে বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষ মুক্তির দিশা পেয়েছিল। যে সোনার মানুষ তিনি গড়লেন তাদের সকলেই আমাদের জন্য আদর্শের বাতিঘর। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা:)। আজ তাঁকে নিয়ে আলোচনা করতে চাই।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন ইসলামের প্রসারের জন্য চেষ্টা করছিলেন বিশ্বনবি (সা:) তখন হযরত উমরা (রা:)'র ইসলাম গ্রহণ ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। তাঁর ইসলাম গ্রহণকে মেনে নিতে পারেনি তখনকার মক্কার কাফের, মুশরিক সমাজ। কিন্তু উমার (রা:) এর ইসলাম গ্রহণ নতুন গতি পায়। প্রকাশ্যে ইসলামের প্রসারে তেমন বাধা আর থাকলোনা। এতে একদিকে ইসলামপ্রিয় মানুষ যেমন খুশি হন তেমনি অন্যদিকে কাফের, মুশরিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। হযরত উমারের ইসলাম গ্রহণের কারণে মুসলমানদের শক্তি, উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফার দায়িত্ব গ্রহণের পর গোটা বিশ্বে কীভাবে ইসলামের দাওয়াতকে পৌঁছানো যায় সে পরিকল্পনা করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর শাসন এরিয়ায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের দু:খ-দুদর্শা লাঘবে পদক্ষেপ নেন। ইসলামের যে স্বর্ণযুগের কথা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ তার বেশিরভাগ জুড়েই আছে হযরত উমর (রা:) এর শাসনকাল। তাঁর শাসন আমলে বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ দেশেই ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে যায়। তাঁর শাসনব্যবস্থাকে বিভিন্নসময় ইতিহাসবিদরা নানাভাবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি যে শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন তা এখনো কোন দেশেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি বলে একমত বিশ্বের সব ইতিহাসবিদ।

বিশ্বের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিকে সামাল দিতে উমরের মতো একজন শাসকের কোন বিকল্প নেই।

দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজের স্নেহের পুত্রকে পর্যন্ত ছাড় দেননি। কোন ধরণের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি স্পর্শ করতে পারেনি তিনি এবং তাঁর শাসনব্যবস্থার কোন অংশকেই। নিজে খাদ্যসামগ্রী বহন করে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছেন। রাতের বেলা বের হতেন মানুষের অবস্থার খবর নিতে। তিনি বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নর, দায়িত্বশীল ব্যাক্তিবর্গকে কঠোর নির্দেশনা দিতেন যেন ন্যায়বিচার ও সাহায্য পেতে  মানুষের কোন কষ্ট না হয়। হয়রানির শিকার না হয় মানুষ। অন্য ধর্মের কোন লোক যেন কোনভাবেই ন্যায়বিচার বঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারে নির্দেশ ছিল আরো কঠোর। ফলে সর্বস্তরে বিরাজ করেছিল শান্তি ও সৌন্দর্যের সুবাতাস। মানুষের মাঝে ছিল ভাতৃত্ব ও সৌহার্দের পরিবেশ।

বিশ্বের শাসকদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হযরত উমার (রা:) বিশ্বে যে উপায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন তা ছিল এককথায় বিরল। তাঁর শাসনাঞ্চলে অপরাধ ছিলনা বললেই চলে। দারিদ্রতার হার নেমেছিল শূন্যের কোটায়। মানুষের নৈতিকতা, সততা ছিল অনন্য। সেই শাসনের সোনালী দিনের কথা এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

উমর (রা:) এর শাসনকাল পর্যালোচনা করে বিশ্বের তাবৎ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিস্ময়ে হতবাক। মাত্র ১০ বছরের শাসনে হযরত উমার (রা:) কী না করেছেন। তাঁর শাসনামল নিয়ে লিখতে গেলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লাগবে, হয়তো শেষ হবেনা বিস্তারিত লিখতে গেলেও। এমন একটি শাসনামল কামনা করে বিশ্ববাসী। হযরত উমার (রা:) এর ন্যায় একজন শাসকের কাঙাল আমরা। হে আল্লাহ্, পৃথিবীকে আর একটি উমার দাও বিশ্বে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে। বদলে দিতে প্রিয় এই আবাসভূমিকে।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন