করোনার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ০৬:০৮:৪৬ পিএম
করোনার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা
দিনের পর দিন করোনা সংক্রমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। থামার কোন লক্ষণ নেই। আমাদের দেশে শুরুতে পরিসংখ্যানের দিক থেকে করোনার সংক্রমন তেমন উদ্বেগজনক ছিলনা বা বড় পরিসরে টেস্টের অভাবে সেটা হয়তো বুঝা যায়নি। কিন্তু এখন যখন প্রায় ৫০ ল্যাবে করোনার পরীক্ষা হচ্ছে তখন স্বভাবতই উদ্বেগটা বাড়ছে। সংক্রমনের পাশাপাশি প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মানুষের মৃত্যু দেখতে হচ্ছে। চিকিৎসা না পেয়ে বা হাসপাতালে নিতে নিতেই করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন বহু মানুষ। টেস্টের সংখ্যা যদি বাড়ানো যেতো তাহলে করোনা আক্রান্ত রোগী বর্তমানের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হতো।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নানাজনের নানা মত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি রয়েছে বেসরকারি অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আবার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগও আছে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে বর্তমানে মরণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধব্যাবস্থা কেমন তা নিয়ে প্রচণ্ড ধোঁয়াশা ও হতাশার চিত্র ভেসে উঠছে। সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে করোনার চিকিৎসা পর্যাপ্ত নয়। না থাকার কারণও রয়েছে। সেখানে আইসিইউ, অক্সিজেন সিলিন্ডার, আইসোলেশন বেডসহ নানা চিকিৎসা সরঞ্জামের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। রয়েছে চিকিৎসক, নার্সের সংকট। তার উপর তাদের অনেকে আবার করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। মারাও গেছেন বেশ ক'জন। বলতে গেলে, করোনার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। আগে থেকে প্রস্তুতির কথা বলা হলেও সময়ের সাথে সাথে সেটি ফিকে হয়ে এসেছে। কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উপযুক্ততা দাবি করলেও করোনাকালে সেটার কোন প্রমাণ মিলছেনা। দেখা গেছে, করোনা টেস্ট ও চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হয়রানি এবং বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এসম্পর্কিত নানা প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দক্ষ ল্যাব টেকনোলজিস্টের অভাবে নির্ভূল রিপোর্ট আসছেনা বা আসলেও তা বড্ড দেরি হয়ে যায়।

অন্যদিকে বেশকিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ জনগণের। করোনাকে ইস্যু করে সেসব হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। এর আগে কাড়ি কাড়ি টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা দিলেও এখন করোনার অজুহাতে সেটাও বন্ধ রেখেছে। যে কারণে রোগী চিকিৎসা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করছে।

বেসরকারি হাসপাতালেও অন্যান্য রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি করোনার চিকিৎসা শুরু করা উচিত। সরকার চাইলে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারে।

করোনার টেস্ট ও এর চিকিৎসা ব্যবস্থার গতি বাড়াতে না পারলে সংক্রমন এবং মৃত্যুহার ঠেকানো কোনভাবেই সম্ভব হবেনা।
 
এর আগে আমরা অনেক গল্প শুনেছি। আর কোন গল্প শুনতে চাইনা। এখন বাস্তবতার দিকে নজর দিতে হবে। দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। যেভাবেই হোক করোনার সংক্রমন ও মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে হবে এবং সেধরণের প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠন করতে হবে আলাদা বোর্ড যারা কেবল কোভিড১৯ নিয়েই শুধু গবেষণা,পরামর্শ দেবেন। দেশের সব শিল্পপতি,ব্যবসায়ীদেরকে (প্রয়োজনে বাধ্য করতে হবে) নতুন ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে করোনা চিকিৎসায় ভূমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, করোনা কাউকে ছাড়েনা। কোন ধরণের আপোষ কিংবা গাফলতি নয়, শক্তিশালী চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলেই করোনাকে বিদায় দিতে হবে। সময়ক্ষেপণের কোনই সুযোগ নেই। হাতে সময়ও নেই। আল্লাহ্ আমাদের সহায় হোন।

★লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন