ছৈয়দ কামালের সচেতনতামূলক লেখা: করোনাকালীন প্রতারণার ফাঁদ!

ছৈয়দ কামাল | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১০:৫৮:২২ এএম
ছৈয়দ কামালের সচেতনতামূলক লেখা: করোনাকালীন প্রতারণার ফাঁদ!
প্রথমে আপনার নাম্বারে একটা ফোন আসবে রিসিভ করলেই মহিলা কন্ঠের আওয়াজ ভেসে আসবে, মায়াময় কন্ঠে মধুর সূরে বলবে, আপনি এতরাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। আমি আপনার কেউ না তবু বলছি, রাত জাগবে না, রাত জাগলে যে আপনার শরীরটা খারাপ হয়ে যাবে।
প্রথম দিন আপনাকে সরাসরি ফোন করে এই পর্যন্ত বলে শেষ।

দ্বিতীয় দিন থেকে টানা পাঁছদিন আপনার এফবি মেসেঞ্জারে নানান ধরণের এসএমএস আসতে থাকবে, আমি বিবাহিতা আমার স্বামী ও ছোট ছোট দুটি ছেলে মেয়েসহ আমাদের ছোট্ট একটা সংসার আছে, আমি অমুক জায়গায় চাকরী করি, আমার স্বামী ও চাকুরীজীবি, আমার দেশের বাড়ী অমুক জেলায় আমার স্বামীর দেশের বাড়ী তমুক জেলায়, কলেজ জীবনে আমাদের দুইজনের পরিচয় ও প্রেম অবশেষে পালিয়ে বিয়ে এরপর থেকে কষ্টের জীবন শুরু। আপনি এসএমএস এর উত্তর দেন বা না দেন এইভাবে আপনার মেসেঞ্জারে একের পর এক এসএমএস আসতেই থাকবে।ও আর একটা কথা বলে রাখি যে আইডি থেকে আপনার কাছে এসএমএস আসবে সেই আইডির প্রোফাইল পিকছারে আনুমানিক ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সী কোন এক সুন্দরী নারীর ছবি দেওয়া থাকবে।

আপনি যতদিন ওর এসএমএস এর পাল্টা কোন উত্তর না দিচ্ছেন, ততদিন এইভাবে একের পর এক আপনার মেসেঞ্জারে আপনার জীবনের ভিবিন্ন বিষয় জানতে চেয়ে এবং কি ভিবিন্ন বিষয় উপদেশ মূলক এসএমএস আসতেই থাকবে।কে আপনাকে এই এসএমএস গুলি দিচ্ছে, যখন দেখবে সে বিষয় আপনার জানার কোন আগ্রহ নেই,তখন লিখবে ভাই মনে হয় আমাকে চিনতে পারেন নি।আমি ওই মানুষটি যে মানুষটি আপনাকে ফোন দিয়ে বলেছিল রাত জাগবেন না, রাত জাগলে যে শরীর খারাপ হয় বলে উপদেশ দিয়েছিল।

আপনার এফবি আইডিতে প্রোফাইল পিকছারটি দেখে কেন জানি আপনাকে খুব আপন মনে হচ্ছিল তাই উপদেশটি দিয়েছিলাম ভাই।আপনাকে দেখে কেনজানি আমার অনুমান হচ্ছিল আপনি ও আমার মত নিজের জীবনে কোনো না কোনো দুঃখ নিয়ে বেঁচে আছেন। আমি আপনাকে আমার যে স্বামী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার রয়েছে এবং কি আমাদের বিয়েটা যে,প্রেমের সম্পর্কের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছি, তাতে কিন্তু বিন্দু মাত্র অসত্য নেই। তবে ভাই জীবনে একটাই দুঃখ যাকে ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছি সে, যে আসলে আমাকে না আমার বাবার সম্পদকে ভালো বেসেছিল তা এখন হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছি।

আমাদের পালিয়ে বিয়ে করার পর যখন সে জানতে পারলো আমার বাবা আমাকে কোনদিন গ্রহণ করবে না এবং কি বাবা ইতিমধ্যে তার সম্পদ গুলি আমার বাকী ভাই বোনদের নামে লিখে দিয়েছে, তখন থেকে সে আমার উপর শারীরিক নির্যাতনসহ এমন কোন নির্যাতন বাকী নেই যা প্রয়োগ করছে না। আসলে কথা গুলি যে আপনাকে কেন বলছি তা নিজেও বুঝতে পারছি না।ওই দিন রাতে আপনাকে যে, রাত জাগতে নিষেধ করেছি তার পর থেকে কেন জানি আমার নিজেরই দু'টি চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আসলে আপনি কে? আপনাকে আমি ছিনিনা জানিনা আপনি ও হয়তো আমাকে ছিনেন না বা জানেন না, তারপর ও কেন আমি আপনাকে এত ফিল করছি, জানতে ইচ্ছে করে আপনিও কি?

আমাকে নিয়ে কোনো দরণের ফিল করছেন কি না। যাক ওইসব কথা আপনি যদি আমার জীবন কাহিনী শুনেন, আপনার কাছে অনেকটা ছবির গল্পের মত মনে হবে, আসলে কিন্তু ছবির গল্প না কাহিনীটা আমার নিজেরই জীবনের গল্প। এই দুঃখি মানুষটির জীবন কাহিনী শুনার জন্য আপনার যদি সময় হয় অথবা আপনার হৃদয় যদি বিন্দু মাত্র আগ্রহ জাগে তাহলে জানাবেন।

(চলবে)

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন