আদিল মাহমুদের ‘সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি’

আদিল মাহমুদ | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে ২০২০ | ১২:২০:০৮ পিএম
আদিল মাহমুদের ‘সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি’
‘মানবজাতি’ মহাবিশ্বে, ‘সৃষ্টিকর্তা’র মহা সৃষ্টি।
‘মনুষ্যজাতি’র কল্যানেই ‘অবধারক’ বিশ্ব মন্ডল সহ এই ‘বসুমতি‘ সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষের জন্য পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন কিন্তু পৃথিবীর জন্য মানুষ নয়। তাই,যদি পৃথিবীর কোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন সম্ভব করা হয় তা শুধুমাত্র মানুষের কল্যানের জন্যই হতে হবে, মানুষের অকল্যানে নয়। অথচ পৃথিবীর মাটি ও বায়ু মন্ডলের যা কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে তার সবই মানুষের অকল্যানে, কোনটিই কল্যানে নয়।

ওজন স্তর কমে যাচ্ছে, ওজন স্তরে ফুটো দেখা দিচ্ছে, বায়ু দূষন হচ্ছে, তার সবই মানুষ কর্তৃক সৃষ্টি। তবে তার কিংদাংশই মানুষের কল্যানে ব্যবহৃত হচ্ছে, বাকী সবই ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষের অপ্রয়োজনে। ফলে, সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি পৃথিবীতে ঢুকছে, তাপমাত্রা বাড়ছে, সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে, বরফ গলে যাচ্ছে, রোগ ব্যাধি ছড়াচ্ছে। এই সব অনেকেই জানেন কিন্তু কোন কার্যকর ব্যবস্থা গৃহিত হচ্ছে না। কারণ, হোমোর জ্ঞান ও দৌলত সবই যুদ্ধ বিগ্রহে নিমজ্জিত থাকে ফলে, অন্য উপায় নিয়ে ভাববার সময়ই বা কোথায়!

"বিশ্বপতি" মানুষকে যে জ্ঞান দিয়েছেন তা যদি অপকারার্থে ব্যয় না হয়ে উপকারার্থে ব্যয় করা হতো তবে পৃথিবীর উন্নতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা, যদিও "ইলাহি" কর্তৃক প্রদত্ত মস্তিষ্কের বিন্দু মাত্রই "মনুজ" ব্যবহার করতে সক্ষম, বলা বাহুল্য সব জ্ঞানীরাই তা জানেন। আবার যতটুকু জ্ঞান "সৃষ্টিকর্তা" মানুষের মধ্যে দিয়েছেন তা যদি সম্মিলিতভাবে ব্যবহার করা হতো তা হলেতো কথাই ছিল না। একটি ছোট উদাহরণ না দিলেই নয়! যেমন ধরুন, পৃথিবীতে হাজার হাজার ভাষা, হয়তো সবই সুন্দর। কিন্তু পৃথিবীর সকল মানুষ যদি একমত হয়ে ভাষা তৈরী করতো তবে আরো কত মধুর বা সহজই না হতো। আবার ধরুন বিশ লাইনের একটি কবিতার অর্থ বুঝা জরুরী। যদি এমন হয় বিশ দেশ একটি করে লাইনের অর্থ ভাল করে আয়ত্ব করবে তবে কি হবে! যদি কেউ ভিন্ন দেশ থেকে এসে বাংলাদেশকেই বলে এই কবিতাটার কি বুঝেছে? তাহলে উত্তর কি হবে?আর যদি বিশটি দেশ একসাথে বসে সমস্ত জ্ঞান দিয়ে কবিতাটি বুঝার চেষ্টা করে তবে প্রতিটি দেশই একই ভাবে কবিতাটির অবস্থা বা অর্থ বুঝাতে সামর্থ্য হবে।

বর্তমান বিশ্বে এক এক দেশের বিজ্ঞানীরা এক এক ভাবে জ্ঞান চর্চা করছে। ফলে, বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ব্যহত হচ্ছে। এক দিক দিয়ে নাসা গবেষনা করছে, অন্য দিকে ইসরো গবেষনা করছে। রাশিয়া, চীন, ইউরোপ আরো অনেকে আলাদা ভাবেই বিজ্ঞান চর্চা করছে। ফশশ্রুতিতে, বিশ্বের মানুষ এখনো কোন ভীন গ্রহে পা রাখতে পারেনি, সৌরমন্ডলতো দুরের কথা! মনে রাখা দরকার, দশের লাঠিই হয় একের বোঝা।

আমি বিজ্ঞানী নই তবে বিজ্ঞান কি তা কিছুটা বই পুস্তকে পড়েছি,তবে সেই বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই, যে বিজ্ঞানী "বউ"এর উপর রিসার্চ করতে গিয়ে, বিজ্ঞান কি জিনিস সেটাই ভুলে যায়!এই ক্ষুদ্র জ্ঞানে বুঝেছি বিজ্ঞান এই পর্যন্ত যতটুকু অগ্রগামী হয়েছে তার বেশীর ভাগই মানবের অকল্যানে, যা কল্যান রয়েছে তা অকল্যানের কাছে অতিই সামান্য। তার কারণ একটাই, নিজেদের স্বার্থ ও ক্ষমতা। "বসুন্ধরা"র নরের কল্যানে মোটকথা কিছুই করা হচ্ছেনা। যেমনি এরিয়া-৫১ এ কি হচ্ছে অন্যরা তা জানে না, আবার অন্যত্র কি হচ্ছে তা আমরা জানি না! সবাই আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে অজানার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।
"ইনসান"জানে, অধিলোকে "আদমি" কিছু কিছু আশ্চর্য্য জনক নির্মান দেখতে পেয়েছে, যার সমাধাণ মানুষ এখনো করতে পারেনি।

যেমন ধরুন মিশরের পিরামিড! কিভাবে তৈরী হয়েছে, কে তৈরী করেছে, কিভাবে সম্ভব হয়েছে, এখনো তা মানুষের অজানা। যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মিশরের পিরামিড তৈরী করা হয়েছে তা বর্তমান পৃথিবীর বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায়ও এই পিরামিড বানানো সম্ভব নয়, তা বিজ্ঞানীরাও জানেন। অথচ, প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর পূর্বে এই "পিরামিড"তৈরী হয়েছিল। সাথে সাথে রহস্যে ঘেরা "স্পিংস"। আমরা মানুষ, অতি উন্নত জাতি বলে মনে করি, কিন্তু আমাদের পৃথিবীর মাটিতে এমন আশ্চর্যজনক বিশাল স্থাপনা তৈরী হবে অথচ তার কিছুই আমরা জানবনা, তবে কিসের বিজ্ঞান? আবার, এতো পূর্বে এমন আশ্চর্যজনক স্থাপত্য সৃষ্টি সত্যিই অকল্পনীয়। পিরামিডের ইতিহাস অনেক বড় তাই বিস্তারিত লেখা সম্ভব নয়। তবে, একটা কথা হচ্ছে, প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর পূর্বে মানুষ বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশী উন্নত ছিল নতুবা অন্য কোন ভিন্ন জাতীর সাহায্যে পৃথিবীর আদি মানুষ তা তৈরী করেছিল। এইগুলো বলার অর্থ হলো একটাই, আর তা হচ্ছে, আমাদের বিজ্ঞানে, হাজার হাজার বিজ্ঞানী একজন এক এক ভাবে বিজ্ঞান চর্চা করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, বর্তমানের সেরা বিশ্ব!

এলিয়েন এবং UFO অর্থাৎ ভিনগ্রহী ও আন আইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট, যা নিয়ে মত বিরোধ আছে। তবে আমার একটি উদাহরনে কিছুটা হয়তো বুঝা যাবে এলিয়েন আছে এবং হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীতে এসেছিল। হয়তো এসেছিল কিন্তু পৃথিবীর মানুষের কিছু ধ্বংসযজ্ঞ ও আমানবিক কর্মকান্ডের জন্য চলে গিয়েছিল এবং মিশন সমাপ্ত ঘোষনা করেছিল। এলিয়েনরা মহা বিশ্বে থাকতে পারে তার একটি সম্ভবনা এই যে, ধরুন পৃথিবীর মানুষ হঠাৎ করে মাটি খুঁড়ে ১ লক্ষ পাত্র পেল। ১০/১৫ টি পাত্র খুলেই একটির মধ্যে কিছু জীবানু পেল। তবে কি মনে হবে, বাকী পাত্রগুলিতে কি জীবানু থাকতে পারে নাকি পারে না! থাকার সম্ভাবনাই বেশী। আমরা মানুষ ক্ষুদ্র একটি নক্ষত্রের ছোট্ট একটি গ্রহে বাস করি। অথচ এই মহা বিশ্বে বিলিয়ন কোটি পৃথিবী সদৃশ গ্রহ বিদ্যমান। তবে কি এই সব কোটি কোটি গ্রহে কোন প্রাণ নেই? অবশ্যই থাকতে পারে, তবে তা আবিষ্কার করা যুদ্ধ বিগ্রহে জড়িত মানুষের দ্বারা সম্ভব কিনা সন্দেহ আছে। কারণ, মানব জাতি নিজেরাই যুগ যুগ ধরে খুনাখুনিতে ব্যস্ত, তারা এই সব জানবে কি করে?

উইপোকা যেমন আগুন দেখে ঝাপিয়ে পড়ে এবং মরে, মানুষও তেমনি রক্ত দেখে ঝাপিয়ে পরে এবং মরে, এই জন্য দায়ী কে? দায়ী হচ্ছে ঘুরে ফিরে আসা আমাদের অসচেতনতা। সবাই জানে মানুষ সভ্যজাতি, আসলে কি তাই, সত্যিই কি মানুষ সভ্য জাতি! বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে কি সভ্যতার বিন্দুমাত্র লেশ পাওয়া যাবে? আমি যদি আমার নিজের ঘরকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলি, তবে কি আমার ছেলে মেয়েরা বাচঁবে? পৃথিবীতো সকল মানুষেরই ঘর। তাহলে কেন আমরা এমন করছি, কে অপরাধী?

ভাল করে ভেবে দেখুন, আমাদের বিজ্ঞান শুধুমাত্রই বলা চলে পৃথিবী কেন্দ্রিক। পৃথিবীতে কিভাবে আধিপত্য বিস্তার করা যায় তা নিয়েই হাজার বছর ধরে গবেষণা চলছে। এতে কোটি কোটি মানুষও মারা গেছে বর্তমানেও মারা যাচ্ছে। বলুন দেখি এর সমাধান কোথায়?

আপনি কি জানেন, পৃথিবীতে বা মহা বিশ্বে প্রতিনিয়ত যা ঘটছে বলে আপনি দেখেন বা ভাবেন তার সবই পূর্বের,হয়তো কোন টা এক সেকেন্ডের কম আবার কোনটা কোটি বছরের পূর্বের, তবে অবশ্যই অতীতের। যেমন, আপনি যে সূর্যকে দেখেন তা কিন্তু ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড পূর্বের সূর্য্যকে দেখেন, হয়তো তখন সেটার অস্তিত্ব নেই।

আপনি কি জানেন, এখনই আপনার মৃত্যু হবে। হ্যা, পৃথিবীতে কিছু না কিছু মানুষের এখনই মৃত্যু হবে, আর সেটা আপনি বা আমি যে কেহ হতে পারি। তাহলে কিসে এতো গর্ব বা অহংকার!

আপনি কি জানেন, সবাই স্বপ্ন দেখে, এমনকি অন্ধ ব্যক্তিও স্বপ্ন দেখে। কোন অন্ধ ব্যক্তি এমনও স্বপ্ন দেখে যে পুরো পৃথিবীতে তার ক্ষমতা, সে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কিংবা আলেকজান্ডার দা গ্রেট। পরে যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন দেখে যে সে ছোট্ট একটি ভাঙ্গা খাঁটিয়ায় অভূক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, দুই চোখই নষ্ট, দেখতে পায় না। তাই এমনও তো হতে পারে, আপনি এখন যত বড় বিশাল ক্ষমতার অধিকারী, এটাও আপনার একটা স্বপ্ন। হতেও তো পারে আমরা সবাই স্বপ্নের মধ্যে আছি। স্বপ্ন ভাঙ্গলে হয়তো দেখবেন আপনিই অন্ধ এবং অন্ধ লোকটিই পৃথিবীর বাদশা!

আপনি কি জানেন, আপনি অতীতে কখনো যেতে পারবেন না তবে ভবিষ্যতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপনি কি জানেন মানুষ যদি যুদ্ধ বিগ্রহে জর্জরিত না থেকে হাজার বছর ধরে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় নিয়োজিত থাকত তবে হয়ত এখনই ঘরে বসে পিরামিড কারা বানিয়েছিল তা দেখতে পেতো কিংবা কিভাবে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটেছিল তা ভিডিও এর মতো দেখা যেত। আপনি কি জানেন, আপনি রাত্রির আকাশে যে সকল নক্ষত্র খালি চোখে কিংবা টেলিস্কোপের মাধ্যমে দেখেন তার অনেকগুলি ধ্বংশ হয়ে গেছে, তার কোন অস্তিত্বই এখন আর নেই। আপনি কি জানেন, দশ কোটি আলোক বর্ষ দূরত্বের যে নক্ষত্র বা গ্যালাক্সি আপনি দেখছেন তা কিন্তু দশ কোটি বৎসর পূর্বের নক্ষত্র কিংবা গ্যালাক্সি, যার অধিকাংশের অস্তিত্বই এখন নেই, কিন্তু আপনি তাকে দেখছেন। এমনও তো হতে পারে এক কোটি আলোক বর্ষ দূরে থেকে কেউ আমাদেরকে দেখছে অথচ এক কোটি বৎসর পূর্বে আমরা মারা গেছি। মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে তখনও কিন্তু সে শরীরে চিমটি কাটলে মনে হবে যে সত্যিই সে জীবিত এবং বাস্তবে আছে। যেমন আপনি ভাবতে পারেন চিমটি কেটে যে আপনি জীবিত এবং বাস্তবে আছেন ।কিন্তু সেটা তো নাও হতে পারে, হয়তো স্বপ্ন!

আপনি কি জানেন, এন্ড্রোমেডা গ্যালাক্সি সতেরো কিঃমিঃ/সেকেন্ড গতিতে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির দিকে ধেয়ে আসছে, মহা বিশ্ব প্রতিনিয়তই দ্রুত গতিতে প্রসারিত হচ্ছে! আপনি কি জানেন, সুপারনোভা, মহা জাগতিক রশ্মি, ল্যামজা-সিডিএম নকশা, তমোশক্তি, লোকাল গ্যালাকটিক গ্রুপ, ভার্গো সুপার ক্লাস্টার কি? আপনি কি জানেন, আপনাকে মহাশূন্যে ছেড়ে দিলে আপনি বিস্ফোরিত হবেন! আপনি কি জানেন, ফেরাউড, তুতেন খানেম, অশোকের ইতিহাস! আপনি কি জানেন তুষার যুগের কথা!আপনি কি জানেন, মহেঞ্জাদারো, সিন্ধু সভ্যতা, মায়া সভ্যতা, মাচু পিচু শহর কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল! আপনি কি জানেন, আপনার পুরো জীবদ্দশা, মহা বিশ্বের কোথাও এক সেকেন্ডের সমান! আপনি কি জানেন প্রথম ও দ্বিতীয় সিভিলাইজেশন, চতুর্থ মাত্রা, স্টার গেইট, ইলুমিনাটি, ওয়ার্ম হোল, ব্ল্যাক হোল, থার্ড আই কি!

আপনি কি জানেন পদার্থ বিজ্ঞানের সব সূত্র সব জায়গায় প্রযোজ্য নয়! আপনি কি জানেন যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে পারমানবিক বোমা তৈরী হয় বা তেজক্রিয়তার সৃষ্টি হয়, একসময় এই তেজক্রিয় পদার্থ তার বিক্রিয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে! আপনি কি জানেন, পানি শুধু নিচের দিকেই গড়ায় না তা উপরের দিকেও গড়াতে পারে! আপনি কি জানেন যে ভাইরাসকে এতো ভয় পাচ্ছেন তা কোন ভিন্ গ্রহেরও হতে পারে!

আপনি কি জানেন, ভিন গ্রহের মানুষ আমাদের পাশেও থাকতে পারে! হয়তো বা আমরা ধ্বংশ করা জাতি বলে আমাদের কাছ তেকে দুরে থাকছে! আপনি কি জানেন, শত বৎসর দাড়িয়ে থেকেও খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকা সম্ভব! আপনি কি জানেন সূর্যের কেন্দ্রেও প্রাণ থাকতে পারে, হয়তো বা ঐ প্রানের তাপ সহ্য ক্ষমতা সূর্যের কেন্দ্রের উত্তাপের চেয়েও বেশী! আপনি কি জানেন, বিশ্বের কোথাও না কোথাও হাজার বছর কিছু না খেয়েও বেঁচে থাকা যেতে পারে, হয়তো গাছের মতোই প্রকৃতি থেকে নিজে নিজেই খাদ্য সংগ্রহ করে, তবে হয়তো অন্য উপায়ে, অন্য ভাবে। আপনি কি জানেন, আপনার মতোই একই ব্যক্তি একাধিক মহা বিশ্বে থাকতে পারে! আপনি কি জানেন আপনার পাশাপাশি অন্য জগৎও অবস্থান করতে পারে! আপনি কি জানেন পৃথিবীতে যত কোটি মানুষ আছে তার চেয়ে বিলিয়ন কোটি গুন প্রান এই ধরায়ই বেঁচে আছে! আপনি কি জানেন, আপনার এই সুন্দর শরীরের ভিতরে কোটি কোটি পোকা মাকড় বা ব্যাকটিরিয়া বসবাস করে, যারা আপনাকে বাচিঁয়ে রাখছে!

তবে কিসে আপনার এতো গর্ব বা ক্ষমতা? আপনারতো নিজেরই কোন ক্ষমতা নেই। আপনি কি জানেন, আপনার এই সুন্দর শরীরের উপরে কোটি কোটি ব্যাকটিরিয়া হাঁটাহাঁটি করে, আপনি যা খান তাতেও কোটি কোটি ব্যাকটিরিয়া থাকে। এই সব কিছুর মূলে কিন্তু চালিকা শক্তি ঐ একজনই যিনি পুরো বিশ্ব ভ্রমামান্ডের মালিক।

পৃথিবীতে যত জাতি গোষ্টির, যত ধর্ম আছে সব ধর্মই মানুষের কল্যানের কথা বলেছে। তবে, কেন আমরা নিজ নিজ ধর্মের উপদেশ মেনে নিচ্ছি না!ধর্ম আকঁড়িয়ে থাকলেও তো মানুষ এইসব পাপ কর্মে লিপ্ত থাকত না!

আপনি কি জানেন, পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা মনে করেন আলোর গতির চেয়ে কোন কিছু হতে পারে না অর্থাৎ ১,৮৬,০০০ মাইল প্রায় প্রতি সেকেন্ডে। তবে এগুলো মাত্র শুধু পৃথিবীর বিজ্ঞানের জন্য, অন্য কোন সৌর মন্ডল কিংবা গ্যালাক্সি, ব্ল্যাকহোল কিংবা সুপার ক্লাস্টারে এই নিয়ম প্রযোজ্য নাও হতে পারে। আপনি কি জানেন প্রতিটি মসৃন পদার্থই অমসৃণ, আপনি কি জানেন কসমিক ষ্টিকস, ডার্ক মেটার, ডার্ক এনার্জি, টেলিপোর্টেশনের কথা!

আপনি কি জানেন, আলো-বাতাস না থাকলেআপনি চোখেও দেখবেন না, কানেও শুনবেন না, সাথে মৃত্যুতো আছেই। পৃথিবী একটি সীমাবদ্ধ পরিধী, যার সাথে মহা বিশ্বের বা সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার পার্থক্য বিলিয়ন কোটিগুনেরও বেশি। আপনি কি জানেন, মহা বিশ্বে এমনও কোন তেজক্রিয় পদার্থ থাকতে পারে যার এক আউন্সের বিক্রিয়া পুরো পৃথিবীকে ধ্বংশ করে দিতে পারে! তাই মহা বিশ্বের দিকে মনোযোগ দেয়া অতীব জরুরী। এতে সৃষ্টিকর্তাকে খুজে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পৃথিবীর বিজ্ঞান হচ্ছে মহা সমুদ্রের এক ফোটা পানি। পবিত্র আল-কোরআন পর্যালোচনা করলেই মহা বিশ্ব ও পৃথিবী সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

আসল কথা হচ্ছে, আমরা সবাই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি মানুষ। সকলের কাছেই তার ধর্মের মার্যাদা আছে। তাই ধর্মকে সম্মান করবো, কিন্তু ধর্মের জন্য মানুষকে হত্যা করা যাবে না। কারন পৃথিবীর সব কিছু যথা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্হান, ধর্ম, বর্ণ এবং এই পৃথিবী সবই মানুষের কল্যাণের জন্য। এই সবকিছু বলার অর্থই হচ্ছে সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করা ও সচেতন হওয়া।

মনে রাখতে হবে, পৃথিবীসহ মহা বিশ্বের প্রতিটি প্রান ও শক্তি "আল্লাহর আরশ"এর সাথে অদৃশ্য সুতা দ্বারা সংযুক্ত, আর সেই অদৃশ্য সুতার মধ্য দিয়েই সমস্ত ক্ষমতা প্রবাহিত, সুতা ছিড়ে গেলই সব শেষ। অতএব, সাবধান ও সচেতন হওয়া অত্যাবশ্যক।

পৃথিবীতে পারমানবিক বোমাকে অনেক শক্তিশালী মনে করা হয়, তবে শুধুমাত্র পৃথিবীর মানুষকে মারার জন্যই এটা ক্ষমতাবান। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই বোমা মহাকাশের অনেক জায়গায় নিস্ক্রিয়। এই বোমার একটাই গুন সেটা হচ্ছে পৃথিবীর মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারবে কিন্তু ভাইরাসকে নয়-------! শেষ কথা, ধৈর্য্য ধরুন ও সচেতন হউন, পৃথিবী এবং মানব জাতিকে রক্ষা করুন।

লেখক: ওসি (তদন্ত)
পরশুরাম মডেল থানা, ফেনী।

লেখাটি পাঠিয়েছেন আমাদের ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি ছৈয়দ কামাল উদ্দিন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন