কেমন আছ বাংলাদেশ?

মো. রবিউল ইসলাম | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০ | ১১:১৩:৪৬ পিএম
কেমন আছ বাংলাদেশ?
১.
ভালো নেই। মনটা খুব খারাপ। করোনা বড়ই করুণ। আমাদের মারছে। ভালোবাসা মুছে দিচ্ছে। শেষ করে দিচ্ছে প্রতিটি সম্পর্ক। ছিন্ন করছে রক্তের বাঁধন। যাদের আমি আগলে রাখি, রাখি কোলে তুলে, আমার হৃদমাজারে যাদের বাস, সেই মানুষগুলো আজ ভালো নেই। বড় অসহায়। অনেকে খেতে পাচ্ছে না। বলতেও পারছে না। অনেকের চাকরি নেই। বেতন নেই। কার কাছে যাবে, কী করবে- তাও অজানা। কীভাবে আমি ভালো থাকি?

২.
সাধারণ এই মানুষগুলো নিয়ে আমার বাস। বেড়ে ওঠা। ছুটে চলা। তারা ভালো নেই। আজ জন্য বড় কষ্ট। তাদের জন্য কীইবা করতে পেরেছি। যারা কিছু করবে, তারা সেভাবে করছে না। যারা দেখবে, সেভাবে দেখছে না। যারা কিছু করে, তারাও দলের বাইরে যেতে চায় না। আমি তো আর দলমত দেখি না। দেখতে পারিও না। এটি আমার সাজে না। তবে আমি একটি স্বপ্ন দেখি। বাঁচার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের দেশ আমি হতে চাই।

৩.
সেই স্বপ্নের দেশে কোনো দলকানা থাকবে না। হিংসা থাকবে না। বিদ্বেষ থাকবে না। থাকবে অবারিত ভালোবাসা। যেখানে অপরাধী শাস্তি পাবে। নিরপরাধ পাবে মুক্তি। দুর্যোগে চাল চোর-ত্রাণ চোরদের কঠিন বিচার হবে। সংকট সৃষ্টিকারী ও সুযোগ নেওয়া হায়েনাদের হবে কঠিন বিচার। যার যে মর্যাদা তা বজায় থাকবে। সত্যি বলতে কী, আমার হৃদয় আজ খাঁ খাঁ করছে। আমার মানুষগুলো আজ ভালো নেই। এটা সত্যি, আমার এই মানুষগুলো একটু বেখেয়ালি। তারা যথাযথ আইন মানে। আবার কিছু কারণে হাল ছেড়ে দেয়। এজন্য আমার উজির-নাজিরও কম দায়ী নয়। তারা ওই মানুষগুলোর যথাযথ ব্যবস্থা নেয় না। নিলে তারা এমনটি করত না।

৪.
স্যরি, আমি লজ্জিত। আমি শঙ্কিতও। একজন লড়াকু সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া-এটি আমি মেনে নিতে পারি? পারি না। সে বড় কোনো অপরাধী? মোটেও নয়। অথচ সে দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিল। পরিবারের অসহায় মানুষগুলো তার পথ চেয়ে। তাকে পাওয়া গেল। কিন্তু সে নিজ দেশে অনুপ্রবেশকারী! পিছমোড়া হাতে হাতকড়া পরানো। কী করুণ ছবি। আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। আমি যেন কাঁদতেও ভুলে গেছি। তাদের জন্য আমরা কী করছি? কী করতে পেরেছি?

৫.
ভয়ঙ্কর করোনাকালেও এই সাংবাদিকরা সরকারি অন্য যোদ্ধাদের মতো সামনে থেকে লড়ছে। পিছু হঠছে না। পলায়ন করছে? কই না তো। সারা দেশের চিত্র তা বলে না। সরকারি অন্য যোদ্ধারা কিছু না কিছু পাচ্ছে। পাবে। আশা দেখছে। তাদের জন্য একটা বরাদ্দা হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য কিছুই নেই। কিছুই করা হয়নি তাদের জন্য। অথচ তারা জীবনবাজি রেখেছে। কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন করোনার হাতে জীবনও বিলিয়ে দিয়েছে। সত্যি আমি লজ্জিত। আমি শঙ্কিতও। আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন