করোনায় মফস্বল সাংবাদিকতা, যেখানে কেবল শুভঙ্করের ফাঁকি

ফজলে এলাহি ঢালী | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে ২০২০ | ০৯:৫৬:২০ পিএম
করোনায় মফস্বল সাংবাদিকতা, যেখানে কেবল শুভঙ্করের ফাঁকি
শুরুতে কয়েকটা কথা বলি সাংবাদিকদের/সংবাদকর্মীদের নিয়ে যেগুলো মুখে মুখে প্রচলিত। জেলা নয়, উপজেলার অজ পাড়াগাঁয়ে জন্ম আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নই, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান বিকাশের সুযোগটুকু পাইনি, নিজের আত্মোপলব্ধি থেকে যা বলবো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।

‘সাংবাদিকরা/সংবাদকর্মীরা জাতির বিবেক, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের অপর নামই সাংবাদিকতা, সংবাদ প্রকাশই সাংবাদিকের কাজ, সাংবাদিকতা করেন ঝুঁকি তো থাকবেই, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না/দর্পণ।’ এসব কথাগুলো শুনতে, বিশ্বাস করতে, সম্মানের জায়গা থেকে অনুধাবন করতে কতই না ভাল লাগে। কিন্তু যখন মফস্বলে এমনটা শোনা যায়- ও আবার কিসের সাংবাদিক? সাংবাদিকতা সম্পর্কে কি লেখাপড়া করেছে? তার যোগ্যতা কি? চোরদের কাছ থেকে কমিশন পায়, আরে দুই টাকার সাংবাদিক এত বড় সাহস আমার নামে নিউজ করে। তখন কি বলবেন? দায়িত্বের কষাঘাতে জর্জরিত মফস্বল সাংবাদিকের চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় আছে কি?

এ একটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে তাহলে সংবাদকর্মীরা সংবাদদাতা নিয়োগের সময় কেন সাংবাদিকতা বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের কে চাওয়া হয় না। সাংবাদিকতা বিষয়ে ডিগ্রী আছে কিনা প্রশ্ন তোলা সেই ব্যক্তিটি কে এখন আপনি কি বলবেন। উনি কিন্তু আমার মতই সাধারণ ডিগ্রিধারী একজন মানুষ। আবার বলতে গেলে দুই একবার ফেল করেছেন কিনা খোঁজ নিলে জানা যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আসা যাক নস্টালজিয়া অনেক হয়েছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারী চলছে পৃথিবীতে যা আতঙ্কের নাম। স্থবির হয়ে গেছে অর্থনীতি, বন্ধ হয়ে গেছে কর্মতৎপরতা, অর্থনীতির সূচক উপরের দিকে ধাবিত না হয়ে ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে নিচের থেকে। অনেক দেশে লাশের মিছিল। মৃতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের সেরা সেরা সব গবেষকগণ, চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ নিজেদের সাধ্যমত প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করে চলেছেন। প্রত্যেকটি দেশের প্রশাসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কর্মরত সাধারণ মানুষ ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী এদের অনেকেই করুনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারাও গেছেন তাদের অনেকে, আশা করি প্রত্যেকটি দেশের জনগণ আত্মোৎসর্গকারী এসব নাগরিকদের স্মরণ করবে যুগ যুগ ধরে। সাংবাদিক হিসেবে একটি কথা না বললেই নয়, সাংবাদিকরাও কিন্তু আক্রান্ত হয়েছেন মারাও গেছেন অনেকেই। তাদের পরিবার-পরিজনকে রেখে গেছেন আপনাদের সাথে বাসযোগ্য পৃথিবীতে বসবাস করার স্বপ্ন দেখিয়ে। আপনারা কি তাদের পথ দেখাবেন।

মফস্বল সাংবাদিকতা পায়ে শেকল পরানো চড়ুই পাখির অপর নাম। মফস্বলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সর্বদাই ঝুঁকি থাকে। মফস্বল অঞ্চল গুলোতে বিশেষ করে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকগণ একটা ক্ষুদ্র গন্ডির ভেতর অবস্থান করে সাংবাদিকতা করে। আসলেই ভাবতে গেলে বিষয়টি অনেকটাই অবাক করে এই ছোট গণ্ডির ভেতর থেকে পরিচিত মুখের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা অনেকটাই কঠিন। বর্তমান করোনা মহামারির এই সময়ে মফস্বল সাংবাদিকগন সরকারের কর্মসূচি বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার জন্য উপজেলা ময় পথে-প্রান্তরে কোন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই বিচরণ করে চলেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোন কোন সাংবাদিক কে কোন কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা সরঞ্জামাদি প্রদান করে থাকলেও অনেকের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি। অনেকেই তি পাননি, এই সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামাদি। অনেক উপজেলাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সাংবাদিকদের মধ্যে সুরক্ষা সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হলেও। অনেক উপজেলায় সেটি সম্ভব হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে মফস্বলের সাংবাদিকরা কাজ করবে তাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের  কোন ভাবনা আছে কিনা তাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

আরেকটি বিষয় না বললেই নয় যেহেতু বিশ্বজুড়ে এখন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। একে অন্যকে ছাপিয়ে  ভালো কিছু করার মানসিকতা গড়ে উঠতে শুরু করেছে। সেই সুবাদে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতা এসবের কমতি নেই মফস্বলে। আবার কেউ কেউ তো আছেন ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের অস্তিত্ব জাহির করছেন প্রতিনিয়ত।অনেক অস্বচ্ছল সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীর কিন্তু সম্বল ফুড়াতে চলেছে। মফস্বল সাংবাদিকতায় তবে কি সুখের চাইতে দুঃখ বেশি?

লেখক: সাংবাদিক

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন