বেকারত্ব নিয়ে ভাবনা

খলিলুর রহমান | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:৫৬:৫৮ পিএম
বেকারত্ব নিয়ে ভাবনা
বেকারত্বের সংজ্ঞাঃ
একজন মানুষের যখন আয়ের কোন উৎস থাকে না তখন তাকে বেকার বলে।
আর কোনো দেশ বা অঞ্চলে মানুষের ক্ষমতা বা ইচ্ছা অনুযায়ী কাজের অভাব দেখা যায় তখন থাকে বেকারত্ব বলে।

বেকারত্বের কারণঃ
১/আমাদের দেশের চাকরি ব্যবস্থার সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো মিল না থাকা অন্যতম কারণ।
যেমনঃ কোনো চাকরি তে গেলেই প্রথমে অভিজ্ঞতা আছে কিনা দেখে, আবার পড়াশোনা করার পাশাপাশি কোনো পার্ট-টাইম জব করে নিজের অভিজ্ঞতা অর্জন করার  সুযোগ খুবই কম

২/পড়াশোনা করে শিক্ষিত হওয়া মানেই আমরা বুঝি সরকারি  চাকরি করতে হবে।পড়াশোনা করে গ্রামে গিয়ে কৃষি কাজ করা যাবে না বা কোনো ব্যবসা করা যাবে না। এই ধরণের চিন্তাধারা বেকারত্বের অন্যতম কারণ।

৩/শিক্ষিত মানেই আমরা সরকারি চাকরি বুঝি [কারণ সরকারি চাকরিতে বেতন সুযোগ সুবিধা বেশি]। তাই আমরা সরকারি পিছনে ছুটতে গিয়ে কোনো কোম্পানিতেও ঢুকি না। পরে হতাশায় ভুগতে হয়। এইটা অন্যতম কারণ।

৪/চাকরি পেলেও যোগ্যতা, দক্ষতার ঘাটতির কারণে বেতন কম পাচ্ছে। অনেক সময় অযোগ্যা প্রমাণে চাকরি চলে গিয়ে বেকার হয়ে যায়।

বেকারত্ব নিয়ে আমার ভাবনাঃ
১/শিক্ষিত তরুণদের দেশীয় বিভিন্ন শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তোলার চর্চা করা।যেমনঃ কুটির শিল্প।

২/পড়াশোনার পাশাপাশি যাতে বিভিন্ন দোকান, কোম্পানি তে পার্ট- টাইক জব করা যায় সেই ব্যবস্থা করা। যাতে করে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজেদের দক্ষ করে তুলতে আরবে এবং নিজের আয়ও করতে পারবে।

৩/আমার স্বপ্ন আছে অন্ততঃ আমার নিজ উদ্যোগে হাজার  হাজার শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষ কে হস্তশিল্প, টেইলারিং, ব্লক ইত্যাদি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে ওনাদের কে আত্মনির্ভরশীল করে তুলা সাথে অন্যদের কেও আত্মনির্ভরশীল হতে সহযোগিতা করা

৪/শিক্ষিত তরুণরা যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন কারিগরি বা হাতের কাজে নিজেদের দক্ষ করে তুলে সেটার জন্য উৎসাহিত করবো।অনলাইন কিংবা অফলাইনে কাজ করে যাওয়া।

৫/পড়াশোনা মানেই শুধু চাকরি না পড়াশোনা করেও যে গ্রামে গিয়ে কৃষি কাজ করে চাকরির থেকে বেশি ইনকাম করা যায় আর জিডিপি তে অবদান রাখা সম্ভব সেটা বোঝানোর চর্চা করবো। [অনলাইনে কিংবা অফলাইনে]

৬/উদ্যোক্তা হয়ে অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে উৎসাহিত করবো।
আমার অনেক স্বপ্ন কিন্তু জানি না কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবো কিন্তু এইটা বিশ্বাস করি যে অন্ততপক্ষে নিজের আশেপাশের লোকদের উৎসাহিত করতে পারবো।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন