অভয়নগরে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অসহায় মধ্যবিত্তরা

মোঃ মিজানুর রহমান, অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ০১:১১:৫৪ পিএম
অভয়নগরে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অসহায় মধ্যবিত্তরা
অভয়নগর উপজেলার অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আছে চরম বিপাকে। করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে টানা সাধারন ছুটিতে শ্রমজীবী মানুষের দূর্দশা এখন চরমে। করোনার মোকাবেলায় নিম্নবিত্তরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা পেলেও মধ্যবিত্তদের বড় একটি অংশই অসহায়। স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার নেই। ফলে একদিকে খাবার কিনতেও পারছেন না, অপরদিকে সামাজিক মর্যাদার কারণে কারও কাছে চাইতেও পারছেন না। নীরবেই কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।

৫টি মৌলিক চাহিদার ৪টি নিয়ে চিন্তিত তারা। বর্তমানে মধ্যবিত্ত যে পর্যায়ে আছে, তা হয়তো সহনীয়। কিন্তু অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এরাই সবচেয়ে বিপদে পড়বেন। সরকারী হিসাব মতে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য আছে। তবে বণ্টন ব্যবস্থা খুবই খারাপ। আর মধ্যবিত্তদের কোনো পরিসংখ্যানও সরকারের কাছে নেই। ফলে এদের কাছে খাবার পৌঁছানো খুব কঠিন। রাতারাতি এটি কাটানো সম্ভব নয়। এজন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার।

অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যাদের দৈনিক আয় ১০ থেকে ৪০ ডলারের মধ্যে, তারাই মধ্যবিত্ত। এ হিসাবে তাদের মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে। তবে আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, সামাজিক মর্যাদা, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধাকেও আমলে আনতে হবে। ওই বিবেচনায় বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা ৪ কোটির মতো।

তবে উল্লেখযোগ্য অংশই নিম্নমধ্যবিত্ত। এরা ছোট বেসরকারি চাকরি, ছোট ব্যবসা এবং দৈনন্দিন কাজের ওপর নির্ভরশীল। করোনার কারণে দেশ লকডাউন হওয়ায় বর্তমানে এদের বড় অংশের আয়-রোজগার বন্ধ। এতে খাবার, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লেখাপড়ার খরচ, জামা কাপর ক্রয় সহ সামনে রমজান ও ঈদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। কিন্তু সামাজিক সম্মানের কারণে কারও কাছে টাকা-পয়সা বা খাবার চাইতে পারছেন না তারা। নীরবে দিন পার করতে হচ্ছে এদেরকে। বাংলাদেশের বিকাশমান মধ্যবিত্তরা সব সময় চাপে থাকে। রাজনীতিবিদরা ভোটের কারণে নিম্নবিত্তদের গুরুত্ব দেন। আবার নির্বাচনের টাকা সংগ্রহের জন্য সম্পদশালীদের গুরুত্ব দেন। কিন্তু মধ্যবিত্তদেরকে মূল্যায়ন করা হয় না, পর্দার অন্তরালেই তারা থেকে যায়। ফলে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও নেই।

আর করোনার মতো দুর্যোগে তাদেরকে বেশি বিপদে পড়তে হচ্ছে। এসব শ্রমজীবী কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেহেতু সরকারি আর্থিক প্রণোদনার আওতায় নেই আবার শ্রম আইনের বাইরে থাকায় পেনশন কিংবা নুন্যতম ক্ষতিপূরনের সুযোগও নেই। করোনা ভাইরাসের কারণে এখন যে পরিস্থিতি তাতে করে বিশাল আকারের এই শ্রমজীবীদের প্রতি আলাদা করে নজর না দিলে তা অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অসম্ভব করে তুলবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ঘরে থাকার সময় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিদিন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এর থেকে বাদ পড়েছেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

কারণ তারা আত্মসম্মানের ভয়ে কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারছেন না আবার কাজ না থাকায় পড়ছেন অর্থ কষ্টে। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান আর ব্যক্তি উদ্যোগেও তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। দরিদ্র মানুষ সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা পেলেও মধ্যবিত্ত মানুষ প্রায় অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। এই শ্রেণির অনেকের ঘরে খাবার নেই। তারা কারও কাছে বলতেও পারছেন না। তাই এই শ্রেণির মানুষ চরম বিপদগ্রস্থ হয়ে আছেন।

বাংলাপত্রিকা/এনপি

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন