চাল ও ত্রাণ চোর নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন তবে আতঙ্কিত নই

মোঃ শহীদুল্লাহ | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৫৫:১৩ পিএম
চাল ও ত্রাণ চোর নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন তবে আতঙ্কিত নই
চাল চোর ত্রাণ চোরদের নিয়ে আমাদের দেশের একশ্রেণীর প্রতিবাদী এবং আরেক শ্রেণীর কিছু সুবিধা ভোগী গলাজীবি বুদ্ধিজীবীদের হাঁকডাক শুনে আমি উদ্বিগ্ন তবে আতঙ্কিত নই। কারণ তাদের পেছনের কাহিনী খুবই চমকপ্রদ এবং অভিনবত্বের জন্য।

বৈশ্বিক মহামারী কোভিড নাইন্টিন করোনা ভাইরাস প্রিয় মাতৃভূমিতে হানা দিয়েছে। এই করোনা যুদ্ধ মোকাবেলা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ৩১ নির্দেশনা ঘোষণা করেন। এই ৩১ নির্দেশনার মাঝে কর্মহীন শ্রমজীবী অসহায় দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার কথাও রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকা কেজি মুল্যের চাল বিক্রির কর্মসূচী এবং ওএমএস কর্মসূচী চালু করেন। সেই চাল নিয়ে শুরু হয়েছে মহা কুটচালের রাজনীতি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার কড়া হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন যে, যারা করোনা সহায়তার ত্রাণ, ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল এবং ওএমএস এর চাল নিয়ে দুর্নীতি করবে সেই দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেওয়া হবেনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথারীতি সেই সমস্ত চোরদের গ্রেফতার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা প্রদান করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা যারা চুরি বিদ্যায় জড়িত রয়েছে। অভিযান চালিয়ে সেই সমস্ত  চাল চোরদের গ্রেফতার করেছেন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত অভিযান চলমান রয়েছে। এই চাল চোরদের গ্রেফতার করার পর থেকেই।

আমাদের দেশের কিছু কিছু অতি প্রতিবাদী গলাজীবি ও বুদ্ধিজীবিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রেফতারকৃত চাল চোরদের নিয়ে এমন ভাবে ঢাকঢোল পেটাচ্ছেন যে, সরকারি দল আওয়ামীলীগ মানে সেই পুরনো কথন শুরু করে দিয়েছেন  আওয়ামিলীগ মানেই কম্বল চোর থেকে শুরু করে চাল চোর ত্রাণ চোর ইত্যাদী ইত্যাদী বিশেষণের উপর বিশেষণ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। যাতে আমজনতারা বুঝতে সক্ষম হয় আওয়ামিলীগ সংগঠন মানেই চাল চোর ত্রাণ চোর। এক কথায় এই সংগঠনে যারা আছেন তারা সবাই চোর।

আমাদের গলাজীবি এবং বুদ্ধিজীবীরা একটি বারের জন্যও বলেন না যিনি এই সমস্ত চাল চোর ত্রাণ চোর গুলোকে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি কে কি তাঁর পরিচয়। সেই নির্দেশ দাতার নাম একবারের জন্যও মুখে আনতে পারিনা। কারণ তাঁর নাম যদি মুখে আনেন তাহলে প্রমাণ হয়ে যাবে দলীয় প্রধান চাল চোর ত্রাণ চোরদের ছাড় দিচ্ছেন না। যদি সেই চোর নিজ দলের লোকও যদি হয়। আধুনিক বিশ্বে যে সমস্ত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল রয়েছে প্রত্যেক দলেই ভাল এবং খারাপ দুই ধরনের লোকই থাকে। এটা স্বাভাবিক একটি ব্যপার।

এই প্রসঙ্গে আমার কথা হল,  যদি দলীয় প্রধান দলের খারাপ লোকদের বা বর্তমান সময়ের চাল চোর ত্রাণ চোরদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন তাহলে সামান্য বিবেকবান মানুষও বুঝে নিবে গোটা দলেই চোরের দল। এই প্রসঙ্গে বাস্তব দুটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরলেই বর্তমান চাল চোর ত্রাণ চোরদের নিয়ে একতরফা বাচবিচারের একটি সঠিক ফয়সালা হবে বলে আমি মনে করি।

এক মা ছিলেন তার ছেলেরা অহরহ চুরি করত। ছেলেকে চুরি করতে দেখলেও মা কোনদিন নিষেধ করতেন না এবং বলতেন না চুরি করা মহাপাপ।  সেই মায়ের ছেলেদেরকে চুরি করতে দেখে যদি কেউ বলতেন তোমার ছেলেরা চুরি করতেছে। নিজ ছেলেদের চুরির কথা শুনে তখন মা তেলেবেগুনে গরম হয়ে  সবকিছু জানার পরও বলতেন তার ছেলেরা নির্দোষ চুরি করেনি। শুধু শুধু তার নিরপরাধ ছেলেদের জন্য দুষমনি করছে এমনই বলে বেড়াতেন। মায়ের আশকারা পেয়ে একদিন সেই ছেলেদের মধ্যে একজন হয়ে গেলেন মহা চোর বাকিরাও বড় বড় মাপের চোরের খেতাব লাভ করেছিল।  

অপরদিকে আরেকজন মা ছিলেন। তার ছেলেদেরকে বারবার  বলতেন তোমরা যদি আমার ছেলে হও তাহলে কোন দিন কোন কিছু চুরি করবেনা। যদি চুরি করেছ এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তোমাদেরকে ছেলে পরিচয় দেওয়াতো দূরের কথা চুরি করার অপরাধে সোজা শ্রীঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেই মায়ের ছেলেদের মধ্যেও কিছু কিছু চোর ছিল। মা যখন জানতে পারেন তার ছেলেদের মধ্যে কেউ কেউ চুরি করছে। এমন খবর পাওয়ার পর মা পাইক পেয়াদাদের বললেন, যদি কেউ চুরি করছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়।

সাথে সাথে চুরির অপরাধে কোমরে রশি বেঁধে সোজা শ্রীঘরে পাঠিয়ে দিবে। পাইক পেয়াদারা মায়ের সেই আদেশ পেয়ে চুরি করার প্রমাণ পাওয়ার সাথে সাথে কোমরে রশি বেঁধে সোজা লাল দালানে পাঠিয়ে দিতে লাগলেন। চুর ধরার এই অবস্থা দেখে মহা চোরের উচ্ছিষ্ট ভোগী কিছু গলাজীবি বুদ্ধিজীবীরা দিনরাত গলা ফাটিয়ে বলতে লাগলেন আরে না না ওরা সবাই চোর। একজনও ভালো নাই। কারণ ওরা কম্বল চুরি করেছিল এখন চাল ও ত্রাণ চুরি করছে। ওদের টেনেহিঁচড়ে নামাতে হবে বা ডান্ডা মেরে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে।

সেই পুরনো চোরদের উচ্ছিষ্ট ভোগী গলাজীবি এবং বুদ্ধিজীবীদের হাঁকডাক শুনে পাশে থাকা আমজনতারা হাসতে হাসতে বলে, নিশীথ রাতের গলাজীবি কাকুরা তোমরা যা বলনা কেন আমাদের কাছে সে মা-ই শ্রেষ্ঠ মা, যে অন্যায়কারী নিজের ছেলেদেরও ছাড় দেয়না। নিজ ঘরের অন্যায় কারীদের কোমরে রশি বেঁধে সোজা লাল দালানে পাঠিয়ে দেন। আমজনতার এই বাক্য গুলো শুনে সত্যি চাল চোর ত্রাণ চোরদের বিষয় নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন তবে আতঙ্কিত নই। (চলবে)         

লেখক: সাংবাদিক

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন