ইতিহাসে করোনা যুদ্ধের স্বাক্ষী রইলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

মাহমুদুল হাসান বাবু | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:০০:১০ পিএম
ইতিহাসে করোনা যুদ্ধের স্বাক্ষী রইলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
এ প্রজন্ম ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তবে দেখছে তার চেয়েও বড় বিশ্ব যুদ্ধ। বাংলাদেশের মানুষ আজ দেখছে অদৃশ্য এক দানবের সাথে দাম্ভিক পরাক্রম শালী রাষ্ট্র নায়কদের যুদ্ধ কালীন অসহায়ত্বের দৃশ্য যারা এক সময় জয় করছে মহাকাশ।

সুজলা সুফলা শশ্য-শ্যামলা বাংলা প্রকৃতির অবারিত সবুজের মাঝেও আজ বিষাদের ছায়া। মানুষের বোবা কান্না আজ বাতাসে ভাসছে। কেউ বা মধ্যবিত্তের চক্র গুহায় পড়ে নীরবে কেঁদে বালিস ভিজাচ্ছে। আবার কেউ সন্তানের আবদার, বৃদ্ধ বাবা মায়ের ঔষধের টাকা যোগাড় করতে না পারার করুন আর্তনাতে পুঁড়ছে। মরন ঝুঁকিতে প্রিয়জনের করুন বিদায় হচ্ছে। চারি দিকে শুধু হাহাকার। খেলার মাঠ ও বিদ্যালয় গুলো আজ খালি পড়ে আছে। কোমলমতি শিশুরা আজ পাঠশালা ছেড়ে গৃহবন্দি হয়েছে। আবদ্ধ হয়ে শুনছে বাতাসে ভাসা অদৃশ্য এক মরানাস্ত্র জীবানুর কথা (করোনা) হয়ত তারা না বুঝেই বাবা মায়ের ভয়ে গৃহে আবদ্ধ রয়েছে।

অনেকেরই বা হয়ত মনেই থাকবে না করোনা যুদ্ধের কথা। তবে ইতিহাস স্বাক্ষ্য বহন করবে নিশ্চয় মানব জাতির সাথে বিধাতার নীরব হিসাব-নিকাসের গল্পকথা।

পরাধীনতার বেড়াজাল ভাঙ্গতে ৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে ছিনিয়ে এনেছিলো লাল সবুজের পতাকা, সে থেকেই বাঙ্গালীরা হয়েছিলো বীরের জাতি। আজ ২০২০ সালে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৮ কোটি বাঙ্গালী লড়ছে করোনা যুদ্ধে। তারই আহবানে সাড়া দিয়ে নিজেদের কে বাঁচাতে এ দেশের মানুষ নিজেকে গৃহবন্দি করেছে। তিনি ও তার প্রতিদান দিচ্ছেন। দেশ হিসাবে যথেষ্ট খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

৭১এর যুদ্ধ ছিলো সন্মুখ আর ২০২০ এর যুদ্ধ হচ্ছে অদৃশ্য দানবের সাথে। ৭১ এর যুদ্ধে বাংলাদেশ ভারত সহ কয়েকটি দেশের সার্বিক সহোযোগীতা পেয়েছিলেন কিন্তু এ যুদ্ধে সমগ্র বিশ্বের হওয়ায় বাংলাদেশ লড়ছে একাই।

দুই যুদ্ধের পটভূমিতেই যুদ্ধাপরাধীর(রাজাকার, আলবদর, আলসামস) আবির্ভাব দেখছে বাংলাদেশের জনগণ। ৭১সালে স্বাধীনতার বিরোধীতা করে নিজেরা ভালো থাকতে চেয়ে মুক্তিকামী জনগন কে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নিকট তুলে দিয়ে তারা হয়েছিলো যুদ্ধাপরাধী। কালের আবর্তে এ দেশের মাটিতেই তাদের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে। বিশ্ব দেখেছে তাদের করুন পরিনতি সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড সহ যাবতজীবন।

আর ২০২০ সালের যুদ্ধে এ বাংলার জনগন দেখছে স্বার্বোভৌম ধ্বংসের চেষ্টা। রাষ্ট্রের মালিক জনগনের জন্য রাষ্ট্রের দেওয়া বরাদ্ধকৃত অনুদান লোপাট করে (চাউল চোর) ইতিমধ্যে অনেকেই যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। এদের করা ভুলে অনেক পরিবার রাস্তায় নেমে খাবারের জন্য সরকারী নিষেধ অমান্য করে বিক্ষোভ করছেন যাতে করোনার বিস্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কেউ আবার ক্ষুধার যন্ত্রনায় পরিবারের সদস্য নিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করছেন। ত্রাণ না পেয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে কেউ আবার হাত, পা এমন কি জীবনও হারাচ্ছেন। দূর্বলতার সূযোগ নিয়ে অসহায় নারীদের চাল দেওয়ার কথা বলে কাড়ছো সম্ভ্রম।বিচার বঞ্চিত হয়ে কেউ করছে আত্মহত্যা আবার কাউকে তোমরা হত্যা করে ফেলছো নর্দামায়। সভ্য সমাজে পুনরায় তোমরা ফিরিয়ে এনেছো ৭১ এর ধর্ষিতার করুন আর্তনাদের স্বচিত্র। অনিয়মের খবর তুলে ধরা ব্যক্তিকে দিতে হচ্ছে চরম খেসারত। আস্তে আস্তে খাদ্য সংকটে করোনা ভয় ভূলে জনগন প্রতিবাদী হয়ে ওঠছে। এতটায় র্নিলজ্জ আপনারা জাতীয় দূর্যোগে আপনারা হিংস্বাত্বক ভাবে চাল পুকুরে ফেলছেন। তাহলে আপনারা কি চান না বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকুক? এ দেশের জনগন আরো একবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা যুদ্ধে জয়ী হোক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সৌভাগ্য আপনি আবারো এ জাতির চরিত্রগত বদ অভ্যাস দেখতে পেলেন। আল্লাহর রহমতে এ দেশ আবারো স্থিতিশীল হবে এ জাতি করোনা যুদ্ধে বীর দর্পে বিজয়ী হবে। আফসোস শুধু দেখতে হবে দেশের ক্রান্তিকালে পিচাশদের অসহায়ের হক বিনষ্টকারীদের মহোউৎসব। কালের আবর্তে এরাও নিগৃহীত হবে। উচ্ছিষ্ট হবে আস্তাকুড়ে শুধু সময়ের ব্যাবধান। তবে আপনার কাছে আমাদের মত ক্ষুদ্র মাপের মানুষ সহ ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রত্যাশা যুদ্ধ শেষে সরকারের সিদ্ধান্তের যারা বরখেলাপ করেছে, যারা রক্ষক হয়ে ভক্ষক সেজেছে, যারা জনগনকে অভূক্ত রেখে জন জীবনে দূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। প্রিয় মাতৃভূমিকে যারা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে সে সকল যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করে এই বাংলার মাটিতে তাদের অপরাধের ধারাবাহিক দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চত করবেন অবশ্যই। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিচারের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে রইলো।

লেখক: সাংবাদিক

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন