গোলপাতার বন উজাড় করছে প্রভাবশালীরা, দেখার কেউ নাই!

ফরিদ উদ্দিন বিপু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০ | ০১:২১:৩৬ পিএম
গোলপাতার বন উজাড় করছে প্রভাবশালীরা, দেখার কেউ নাই!
কলাপাড়ায় বন কর্তাদের ম্যানেজের মাধ্যমে গোলপাতার বন উজাড় করে সরকারী সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ উপরে ফেলে প্রকাশ্যে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে করা হচ্ছে ঘের, পুকুর এবং বাড়ি নির্মান। আর এসব দখল করে দিতে রয়েছে একাধিক মামলার আসামীদের একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী চক্র। যাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না এলাকার সাধারণ মানুষ। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নেমে আসে মাদকাসক্তদের দ্বারা নির্যাতনের খড়গ।

দীর্ঘ বছর ধরে স্থানীয় এ সন্ত্রাসী চক্রটি সরকারী সম্পত্তি দখল, মাদক ব্যবসাসহ একাধিক অসাজিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থেকেও ক্ষমতাসীন দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সহজেই রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বালিয়াতলী ইউপির চরনজির এলাকার গোলপাতার বন উজাড় করে কয়েক একর সরকারী সম্পত্তি দখল করে ঘর, বাড়ি, পুকুর এবং মাছের ঘের নির্মানের দৃশ্য। আর এসব জমির কিছু অংশ রেকর্ডীয় মালিক দাবী করে শতাশং প্রায় ৪৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী হাজী মো. রুহুল-আমিন এমন দাবী জমি ক্রেতাদের।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে লালুয়া ইউপির ভুমি অধিগ্রহনে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষগুলোকে মূলত টার্গেট করে তাদের বালীয়তলীতে সরকারী সম্পত্তিতে বসত বাড়ির যায়গা দখল করে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ চক্রটি। আর এতে সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বালীয়াতলী ফরেষ্ট ক্যাম্পের নৌকা চালক মাহামুদ।

স্থানীয় বাসীন্দাদের অভিযোগ, আন্ধারমানিক নদীতীরবর্তী চরনজির এলাকায় সরকারী জমিসহ কিছু রেকর্ডীয় জমি ক্রয় করেন লালুয়া ইউনিয়নের বাসীন্দা সজু ফকির, কামাল তালুকদার, আনিচ হাওলাদার এবং ইউনুচ মুন্সি। আর এসব জমি ভরাট করতে চুক্তির মাধ্যমে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে দখল করে দিচ্ছেন স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান মৃধা, ইউনিয়ন শ্রমিক লীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু শিকদার, সাবেক ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি জাকির সরদার ও চিহ্নিত মাদকাসক্ত হাকিম।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ক্রয়ক্রিত জমির মালিক কামাল তালুকদার মুঠোফোনে জানান, আমি যখন জমি কিনেছি তখন রুহুল আমিন আমাকে গোলবনসহ বুঝিয়ে দিয়েছে। আর সলেমান ভেকু দিয়ে মাটি কেটে দখল দিয়েছে। অপর দিকে বিশালাকার সরকারী সম্পত্তির দখল নিতে জন প্রতি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বালিয়াতলী ফরেষ্ট ক্যাম্পের নৌকাচালক মাহামুদসহ কর্তারা। এমনই অভিযোগ করেন দখল চক্রের সদস্য জাকির সরদারসহ স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ বন কর্তাদের চোখের সামনেই বনায়ন ধ্বংস করে এমন দখলকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বনকর্তাদের এমন দুর্নীতির চিত্র দেখে অবাক বনে গিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পানিউন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তারাও। তাদের কথাতেও উঠে আসে দখলদারদের সাথে কতটা সখ্যতা রয়েছে বনকর্তাদের সাথে।

পটুয়াখালী পানিউন্নয়ন বিভাগের কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো.ওয়ালিউজ্জামান বলেন, স্বাভাবিক ভাবেই বন উজাড় করে কেউ জমি দখল করলে ফরেষ্ট বিভাগ আমাদের জানানোর কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাসহ তাদের ডাকা হলেও ফরেষ্ট সদস্যরা আমাদের ফোন রিসিভ করছে না।  

তিনি আরো জানান, এব্যাপারে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমাদের চেষ্টা অব্যহত আছে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন বিভাগ পটুয়খালী) আমনিুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। তবে এখন খতিয়ে দেখা হবে।

বাংলাপত্রিকা/এসএন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন