নীল দরিয়ার নেই মনে হয় দিল দরিয়া!

সাইফুল ইসলাম | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১১:৫৯:১২ এএম
নীল দরিয়ার নেই মনে হয় দিল দরিয়া!
গত সপ্তাহে জরুরী কাজে কক্সবাজার যেতে হয়েছিল। তাই মেরিন ড্রাইভ দিয়ে নীল দরিয়া গাড়ি যোগে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য গাড়ি কাউন্টারে উপস্থিত হলাম। শিক্ষক পরিচয় দেওয়ার পরও কাউন্টারে জনপ্রতি নিল ১৭০ টাকা। সাথে আমার এক সহকর্মী ছিলেন। যথারীতি ১০ ঘটিকায় নীল দরিয়া গাড়িটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিল। প্রথমে মেরিন ড্রাইভে পৌছলাম। তারপর শুরু হল ট্রাজিক যাত্রার পালা। ড্রাইভারের গাড়ি চালানো দেখে মনে হল গতি প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তিনি।

হেলে দোলে গাড়িটি দ্রুত বেগে চালক চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই অবস্হায় বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি পৌঁছতে ঘটল বড় দুর্ঘটনা। সাত অথবা আট বয়সী এক শিশুকে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জোরে দেয় ধাক্কা। অল্পের জন্য আমরাও দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। আমরা চালককে গাড়ি থামাতে বলি। নেমে দেখি শিশুটি অজ্ঞান হয়ে রাস্তা পড়ে আছে। চোয়াল ভেঙে মুখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল।

ঐ অবস্থায় শিশুটির বাবাসহ আমরা শিশুটিকে ঐ গাড়িতে তুলে নিয়ে কক্সবাজার মেডিক্যালের দিকে ছুটে চলি। কারণ পাশে কোন নির্ভরযোগ্য হাসপাতাল না থাকায়। গাড়িতে শিশুটির বাবার কান্না দেখে অপরাপর যাত্রীদের চোখেও জল চলে আসছিল। প্রায় আধাঘন্টা পর শিশুটির হুশ এল। হুশ ফিরে পেলেও শিশুটির অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং শিশুটি খুবই কান্না করছিল। শিশুটির বাবা জল ভরা চোখে শুধু সান্ত্বনা দিচ্ছিল।

ফোনে বিভিন্ন জনকে হাসপাতালে চলে আসার অনুরোধ করছিল। পথিমধ্যে বিভিন্ন চেকপোস্ট থাকলেও রোগী থাকায় থামাতে হয়নি। এরি মধ্যে এক যাত্রী গাড়ি থেকে নাম্বার নিয়ে কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার কথা বারবার বলছিল শিশুটির জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্হা করানোর জন্য। কিন্তু কক্সবাজারে তাদের কাউন্টারে পৌঁছে দেখি শিশুটির জন্য কোন ব্যবস্হা করে নাই। এই সময় আমরা সবাই জোর প্রতিবাদ করলে পরবর্তীতে তাদের টনক নড়ে।

তাদের এহেন ব্যবস্থাপনা দেখে খুব হতাশ ও রাগ হচ্ছিল। মনে মনে বললাম কিসের প্রতিযোগিতায় নেমেছে নীল দড়িয়া কর্তৃপক্ষ! টাকার নাকী গতির? যদি এই দুই প্রতিযোগিতায় নেমে থাকে তাহলে যাত্রীদের কপালে আরো বড় বড় বিপদ আসন্ন। তাই দক্ষ চালক ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানোর দিকে গভীর দৃষ্টি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। মনে রাখবেন একটি দুর্ঘটনা ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য সারা জীবনের কান্না।(চলবে)

সাইফুল ইসলাম, শিক্ষক ও ফ্রীল্যান্স লেখক

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন