ডিবি পুলিশের নির্যাতনে গৃহবধুর মৃত্যুর অভিযোগ

লিটন হোসেন, গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১২:২২:৫২ পিএম
ডিবি পুলিশের নির্যাতনে গৃহবধুর মৃত্যুর অভিযোগ
গাজীপুরে ডিডি পুলিশের হেফাজতে ইয়াসমিন বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতা ইয়াসমিনের ভাই-বোনসহ স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়াবা টেবলেটসহ গ্রেপ্তার করা ওই নারীকে নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠে না। যদিও মরদেহটি যেখানে রাখা হয়েছে, সেই মর্গে ঢুকতে দেয়া হয়নি সাংবাদকিদের।

নিহত ইয়াসমিন বেগমের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রয়েছে শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের মেট্রো থানার ভাওয়াল গাজীপুর গ্রামের আব্দুল হাইকে ধরতে গেলে তাকে না পেয়ে তার স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম(৪০) কে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। তার ছেলে জানান, তার বাবাকে না পেয়ে মাকে ধরে মারধর শুরু করে ডিবি। পরে তার মা কে ধরে নিয়ে যায়। পরে রাত ১0 টার দিকে ফোন করে তাকে জানানো হয় তার মা খুব অসুস্থ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার মায়ের মৃত দেহ পড়ে আছে।

তবে পুলিশ বলছে, গ্রেফতারের পর অসুস্থজনিত কারণে ঐ নারী মারা গেছেন।

মৃত ইয়াসমিন বেগম ভাওয়াল গাজীপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর নগরীর গজারিয়া পাড়া এলাকা থেকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে ডিবি পুলিশ ইয়াসমিনকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে আনার পর রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মনজুর রহমান নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইয়াসমিনকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে গোয়েন্দা অফিসে নিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতিকালে ইয়াসমিন মারা যান। ইয়াসমিন ও তার স্বামী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ১০টা ১০মিনিটের দিকে ইয়াসমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় তার বুকে ব্যথা ও প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ছিল। পরে তার ইসিজিও করা হয়। লক্ষণ থেকে প্রাথমিকভাবে বুঝা গেছে তিনি স্ট্রোক করেছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান। হার্ট অ্যাটাকে তিনি মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে। নিহতের শরীরে বাহ্যিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কমিটি
এদিকে পুলিশের নির্যাতনে গৃহবধূ মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন তিন সদস্যের তদন্ত একটি কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটির প্রধান হলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আজাদ মিয়া। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাপত্রিকা/এসএ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন