একজন আলতাফ উদ্দিনের কথা আমরা কতটুকু স্মরণে রেখেছি? তবে সাধারণ মানুষ ঠিকই মনে রেখেছেন

মোঃ শহীদুল্লাহ (মেম্বার) সাংবাদিক | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ০৮:২১:০৮ পিএম
একজন আলতাফ উদ্দিনের কথা আমরা কতটুকু স্মরণে রেখেছি? তবে সাধারণ মানুষ ঠিকই মনে রেখেছেন
একজন আলতাফ উদ্দিনের কথা আমরা কতটুকু স্মরণে রেখেছি বা রাখতে পেরেছি তার হিসাব আমরা কি কোন দিন করেছি? না করতে পারিনি কারণ আমরা বাঙালি আত্মভোলা জাতি আমাদের হিসাব নিকাশও একটু আলাদা। যারা সামনে থাকে আমরা তাদের বেশী মনে রাখি। আর যারা আমাদেরকে আজ এই অবস্থানে আনতে নিজের রক্ত ঘাম ঝরিয়ে জীবনের সর্বশেষ বিলিয়ে দিতে কোন দিন কুণ্ঠা বোধ করেননি সেই মানুষ গুলোকে আমরা স্মরণ করতেও ভুলে যায়।

কে সেই আলতাফ উদ্দিন? কি তার পরিচয়? মাস্টার আলতাফ উদ্দিন দ্বিতীয় টুঙ্গিপাড়া খ্যাত মাতার বাড়ির সন্তান। যার জীবন যৌবন সবকিছু ত্যাগ করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তিনি বিনিময় চাইনি চেয়েছিলেন মাতার বাড়ির সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। আজ থেকে ১৫ বছর আগে ঠিক এই দিনে আমাদের সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। স্যারের ভালবাসা ও ভাললাগার একমাত্র দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। বঙ্গবন্ধুর আদরের হাসু আজ প্রধানমন্ত্রী। তাঁরই একান্ত ইচ্ছায় মহেশখালী মাতার বাড়িতে কোল পাওয়ার প্লান্ট ও গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনে স্থানীয় মানুষের জমি অধিগ্রহণ করে এক মহা কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন।

এই মহা কর্মযজ্ঞের সুফল জমির মালিকেরা যেমন পাওয়ার কথা ছিল তেমনি এই জমিতে যারা চাষাবাদ করতো, শ্রমিকেরা দিত তাদের শ্রম, জমির মালিক, চাষা ও শ্রমিকেরা সবাই যেন এর সুফল পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা মাতার বাড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত একটি বাজেট দিয়েছেন। যেই বাজেটে মাতার বাড়ি এলাকার  সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য বরাদ্দ রেখেছেন। আজ আলতাফ উদ্দিন স্যারের প্রাণের মাতার বাড়ির সেই সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ গুলোকি তাদের ন্যায্য পাওনা গুলো পাচ্ছেন?

আমার পরিসংখ্যান মতে বলতে পারি শতকরা ৮৫ জন সাধারণ মানুষ তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। এই বাজেটের বিরাট একটি অংশ ভোগ করতেছেন জনপ্রতিনিধি নামক একব্যক্তি। সেই জনপ্রতিনিধি একসময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলতেন।

তবে হাল সময়ে সেই জনপ্রতিনিধির হাতেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বেশী বঞ্চিত হচ্ছে । লাভবান হচ্ছে সে নিজে এবং তার সহযোগিতায় কতিপয় আওয়ামিলীগ বিরোধী চক্রের সদস্যরা। আমরা বঞ্চিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের ন্যায্য পাওনার জন্য প্রতিবাদ করিনা। আমরা নিজেদের ভাগের জন্য প্রতিবাদ করি। দ্বিতীয় টুঙ্গিপাড়ার ৮৫% ভাগ মানুষ কি প্রকল্পের কাজ পাচ্ছে? কি তাদের জন্য  রাখা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা প্রদত্ত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ক্ষতিপূরনের টাকা কি তারা পাচ্ছেন? এদিকে আমাদের কোন প্রকার খেয়াল নেই। কারণ আমাদের খেটে খাওয়া মানুষের প্রিয় নেতা আলতাফ উদ্দিন স্যার আমাদের মাঝে নেই। কে সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলবে?

আজ যদি আলতাফ উদ্দিন মাস্টারের মত একজন গর্বিত নেতা থাকতেন তাহলে মাতার বাড়ির সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কেউ খেলতে পারতেন না। তাই তৃণমূলের অনেক কর্মীদের বলতে শুনি আলতাফ স্যার এখনো তাদের হৃদয় মন্দিরে আছে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে। সকলেই বলে হে আল্লাহ আমাদের মাতার বাড়ির প্রকৃত মুজিব সেনা মরহুম আলতাফ উদ্দিন স্যারের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁকে জান্নাত বাসী করুন আমিন।  

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন