অদম্য চার জয়িতার সাফল্যের গল্প

মোফাজ্জল হক, কালিগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১১:২২:৫০ এএম
অদম্য চার জয়িতার সাফল্যের গল্প
সংগ্রামী অপ্রতিরোধ্য একজন নারীর প্রতীকী নাম জয়িতা। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতীক তারা। নিজের অদম্য ইচ্ছাকে সম্বল করে চরম প্রতিকূলতাকে জয় করে সমাজে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে জয়িতারা। সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এই জয়িতাদের খোঁজে বের করার উদ্যোগে নিয়েছে। যার নাম ’জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’।

কাপাসিয়া উপজেলার জয়িতাদের চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে ১. সফল জননী; ২. নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যে নারী; ৩. সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছে যে নারী; ৪. অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জণনকারী নারী। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাদের বাছাই কাজে সম্পৃত ছিলেন।

সফল জননী যে নারী
দুই ছেলে এক মেয়ে ও স্বামী নিয়ে দুঃস্বপ্নের মতে পথ চলা শুরু। তিনি নিজেও জানতেন না এ স্বপ্নের শেষ কোথায়। প্রবল ইচ্ছা ও আগ্রাহ থাকার পরও লেখাপড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তিন সন্তানকে নিয়ে জীবন যুদ্বে নেমে পড়েন। জয়ী তাঁকে হতেই হবে। হেরে যেতে চান না জীবন যুদ্বে। সংসার চালাতে ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়েছে তাঁকে। নিজের লেখাপড়ার স্বপ্ন তিনি সন্তানের মাঝে দেখতেন তাই খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন চিড়া, মুড়ি ও চানাচুর। অনেক সময় কাজও করেছেন মানুষের বাসায়। এটা হচ্ছে উপজেলার বড়ছিট গ্রামের আব্দুস সাহিদ শেখের স্ত্রী জোসনা বেগমের জীবনের গল্প। এখন বড় ছেলে আলম শেখ মাস্টার্স পাশ করে স্কয়ার লিঃ কর্মরত। দ্বিতীয় ছেলে ডিগ্রি পাস করে দেশের বাহিরে লেখাপড়া করছেন। মেয়ে আফিদা ইয়াসমিন নার্সিং অধ্যায়নরত।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যে নারী
বিয়ে হয় ১৪ বছর বয়সে। ১০ বছর সংসার করার পর সন্তান না হওয়ার কারণে স্বামী আবার বিয়ে করেন। শুরু হয় তার জীবদের কষ্ট। ফিরে আসে বাবার বাড়িতে। বাড়ির সবার অবহেলার মাঝে গবাদিপশু পালন ও সেলাই কাজ করে জীবন চলে। এটা হচ্ছে উপজেলার পাবুর গ্রামের ইয়াকুব আলী ফরাজীর মেয়ে সুফিয়ার জীবনের গল্প। এখন তার নিকট দুই লাখ টাকা রয়েছে বলে তিনি জানান।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছে যে নারী
১৯৭১ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয় অমেনার। শশুড়ের পড়ালেখার অগ্রাহ না থাকায় এসসির পর আর পড়ালেখা করা হয়নি। বেকার স্বামীর কারণে সংসার চালানোর সব দায়িত্ব ছিল তার উপর। এভাবে চলতে থাকার কিছুদিন পর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকে চাকরি নেন তিনি। তার পর থেকেই জীবনের দুঃখ দূর হতে থাকে। ৩০ বছর ধরে সমাজের দুঃস্থ মহিলাদের অক্ষর জ্ঞার প্রদান করে আসছে আমেনা। নির্যাতিত মহিলাদের আইনের আওতায় এনে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করছে। সঠিক চিকিৎসার জন্য মাতৃকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে। আমেনা বেগম উপজেলার চিনাডুলী গ্রামের আ. রশিদের স্ত্রী।

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জণ করেছে যে নারী
পরিবারের অর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে পড়া লেখা বেশি করতে পারেনি জহুরা বেগম। ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়। তিনি ছিলেন বাড়ির বড় বউ। তখন তার দায়িত্ব ছিল অনেক বেশি। তিনি তিন সন্তান ও বেকার স্বামীকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়লেন। স্বামী অর্থিক ভাবে তেমন স্বাবলম্বী না থাকায় সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়। তারপর তিনি হোমিও ওষধের শিশি কারখানা তৈরি করেন। পরবর্তীতে পোল্ট্রি ফার্মের মাধ্যমেতার জীবনের চাকা ঘুরে যায়। জহুরা বেগম উপজেলার আনজাব গ্রামের মোজ্জাম্মেল হকের স্ত্রী।

বাংলাপত্রিকা/এসএস

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন