পুলিশের ভুলে জেল খাটছেন ভুল চা দোকানী

নিজস্ব প্রতিবেদক | সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০ | ০৮:৩৩:২০ পিএম
পুলিশের ভুলে জেল খাটছেন ভুল চা দোকানী
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রকৃত আসামীর সাথে নাম ও বাবার নামে মিল থাকায় এক চা দোকানীকে জেলে পাঠালেন পুলিশ। গত পাঁচ দিন ধরে জেল খাটছেন নিরাপদ চা দোকানী রফিকুল ইসলাম। গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারী) বিকেলে তার চায়ের স্টল থেকে গ্রেপ্তার করে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মামলার মুল আসামী রফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্র ১৯৮০৩৩২৮৬০৮০৪১৮৯৭ নং অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ১৬ জানুয়ারি ১৯৮০, বাবা- নুর মোহাম্মদ, মা- রহিমা খাতুন এবং ভোটার সিরিয়াল নং- ১৬১১। পুলিশের ভুলে গ্রেপ্তার হওয়া কেওয়া পশ্চিম খন্ড মসজিদ মোড় এলাকার নুর মহোম্মদের ছেলে মো: রফিকুল ইসলাম। ৩৩২৮৬০৮০৪৪১৫২ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর ২ এপ্রিল ১৯৭৭, তাঁর বাবার নামও নূর মোহাম্মদ, মায়ের নাম জামিনা খাতুন।

জানা যায়, তিন-চার বছর আগে শ্রীপুর বনবিভাগ অবৈধ করাতকলে গজারী গাছ চেড়াইয়ের অভিযোগে শ্রীপুর পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের কেওয়া পশ্চিম খন্ডের নুর মোহাম্মদের ছেলে মো: রফিকুল ইসলামকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মো: রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে আদালত। গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারী) শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কফিল উদ্দিন আদালতের পরোয়ানা তালিম করতে কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকায় যান। সেখান গিয়ে তিনি নুর মোহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলামকে খুঁজতে থাকেন। মসজিদ মোড়ের পাশেই চা দোকানী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা আছে বলে জানান। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বললে স্থানীয়রা জানান, তিনি কখনই কাঠের ব্যবসা করেননি এবং মুল আসামী তিনি নন বলে জানান। এসময় চা দোকানী রফিকুলও পুলিশের কাছে খুব অনুনয় বিনয় করছিল। কিন্তু পুলিশ কারও কথা না শুনে চা দোকানী রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।  

মামলার প্রকৃত আসামী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘ ২০-২২বছর যাবত কাঠের ব্যবসা করছেন। এপর্যন্ত বন বিভাগ কারণে অকারণে কয়েকটি মামলা দিয়েছিল। যে মামলাটিতে পুলিশ ভুল বশত চা দোকানী রফিকুলকে গ্রেপ্তার করেছেন সেই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। জামিনের থাকার পরও পুলিশের এমন আচরণে হতবাক হয়েছেন তিনি।

এব্যাপারে শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কফিল উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন