মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্নয়ন ব্যহত করার চক্রান্ত চলছে!

মোঃ শহীদুল্লাহ | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০১:২৩:৫৭ এএম
মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্নয়ন ব্যহত করার চক্রান্ত চলছে!
মহেশখালী উপজেলার মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ ব্যহত করার চক্রান্ত করছে স্থানীয় এবং বহিরাগত কিছু চক্রান্তকারীরা। বর্তমান সরকারের গৃহীত মেঘা প্রকল্প মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ করা এবং অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতি পূরণের টাকা উত্তোলন থেকে শুরু করে, বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামীলীগ সরকারের বিরোধীতা কারী একটি শক্তিশালী চক্র এই প্রকল্পের কাজ ব্যহত করতে নানা ষড়যন্ত্র করেছিল। এখনো করে যাচ্ছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী প্রকল্প এলাকার আশেপাশে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার।

এই চক্রের হয়ে স্থানীয় বিএনপি জামায়াতের কিছু কট্টর সমর্থক প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তারা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য পৌঁছাচ্ছে চক্রটির স্থানীয় মুল হোতাদের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত বিদেশীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে স্থানীয় সহজ সরল জনসাধারণের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে সংঘাত সৃষ্টি করার চক আঁটছে বলে এমনটাই জানা যায়। প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ব্যহত করতে এই চক্রের তত্ত্বাবধানে মাতার বাড়ির বিভিন্ন পাড়া গ্রামে একাধিকবার গোপন মিটিং করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সূত্রটি।

সুত্রটি জানায়, সরকার বিরোধী চক্রটির মূল উদ্দেশ্য হল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারেন। নির্ধারিত সময়ে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারলে দেশের জনসাধারণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি ২০ সালের ভিতর বাংলার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবেনা। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলে সরকারের ইমেজ নষ্ট হবে এবং জনপ্রিয়তা হ্রাস পাবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ব্যহত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার বিরোধী এই চক্রটি।

মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরুর থেকে এই পর্যন্ত ঘটে যাওয়া নানা অনিয়ম দুর্নীতির মধ্যে অন্যতম দুর্নীতির ঘটনা হল জালিয়াতির মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ করা। এই দুর্নীতিতে যারা জড়িত রয়েছেন এবং দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সরকারি ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণীর কর্মকর্তা যেমন রয়েছে তেমনি সরকার বিরোধী দল বিএনপির তৃণমূলের স্থানীয় নেতারাও এই জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে।

বর্তমানে সেই দুর্নীতি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। এই মামলায় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর সরকার বিরোধী চক্রটি তাদের কর্মকাণ্ডের কৌশল বদল করে স্থানীয় জন সাধারণের মাঝে প্রকল্প বিরোধী উত্তেজনা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সেই সময় সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহন করায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।  

বর্তমান সময়ে এই চক্রটি নতুন করে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে উত্তেজনা ও সংঘাত সৃষ্টি করে প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এমনটাই জানা যায়। এই চক্রটি মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্নয়ন কাজে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বিদেশীদের এবং তাদের অধিনে কর্মরত দেশীয় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে রক্তক্ষয়ী মারাত্মক ঘটনা ঘটাতে অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়।    

সূত্রটি আরো জানিয়েছেন, এই চক্রটি প্রকল্প এলাকায় কর্মরত বিদেশীদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে এবং স্থানীয় শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ ছড়াচ্ছে বিদেশীদের বিরুদ্ধে। এই চক্রটি সুকৌশলে স্থানীয় এমন কিছু মানুষদের ব্যবহার করছে যাদের অনেকে বর্তমান সরকার দলীয় লোক হলেও তাদের অধিকাংশের অতীত ইতিহাস দেখলে বুঝা যায় এরা আওয়ামীলীগ বিরোধী পরিবারের সদস্য ছিল। তাদের সাথে যোগ হয়েছে কতিপয় স্বার্থবাদী দুর্নীতিবাজ আওয়ামিলীগ নেতা কর্মীরা।

এই চক্রটি প্রকল্প এলাকায় কর্মরত এমন কিছু বিদেশীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ আনছে যে বিদেশীরা সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে সততা এবং দক্ষতার সাথে কাজ করে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকার সাশ্রয় করে সরকারের তহবিলে ফেরত দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই রকম একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশের কর্মরত নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে নানা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। এর পেছনের মূল কারণ হল মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় স্থানীয় ও বিদেশিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা। সরকারের কাছে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত হল, অতিসত্বর মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে প্রকল্প এলাকায় যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে আগেভাগে ব্যবস্থা গ্রহনের জোর আহবান জানিয়েছেন।

মোঃ শহীদুল্লাহ, সাংবাদিক

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন