রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধার ভুল তালিকা শুদ্ধ হবে কবে?

মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০২:৫৯:২৩ পিএম
রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধার ভুল তালিকা শুদ্ধ হবে কবে?
বিচারপতি হয় ভুয়া-সার্টিফিকেটে, সেই বিচাপতির বিরুদ্ধে আইনী বিচারের কথা শোনা যায়নি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া না করিয়ে সার্টিফিকেট বিক্রি করে, পত্র-পত্রিকায় অনেক খবর বের হয়, এ সমস্ত অন্যায়ের বিচার হওয়ার কথা কোনদিন জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মালিককের অনেক বড় শাস্তি এবং কতটি সার্টিফিকেট কাদের দেয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে ফেরত বা ওই সার্টিফিকেটধারীদের চাকরি দেয়া, প্রমোশন দেয়া অবৈধ ঘোষণার মাধ্যমে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা আইনজারির কথা শোনা যায় নি। অর্থাৎ সমাজে ন্যায়-অন্যায়ের মাঝে কোনো রেখা নেই।

অনেক বছর থেকে নানা সংবাদ মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি পেয়েছে অনেকেই। সরকারি সব চাকরিতেই এটা হয়েছে। এই ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের চাকরিচ্যুতির কোনো খবর কোনো সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায়নি। সেকারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন, এভাবে বেশীরভাগ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মারাও গেছে।

এখন কি কারণে সরকারের রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার প্রয়োজন হলো তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। এটা নিশ্চয় বড় কোনো প্রজেক্টে সম্পন্ন হয়েছে। প্রজেক্টের অর্থের পরিমাণ এবং কতজন লোক পরিশ্রম করে এই তালিকা প্রণয়ন করেছে সেটাই আগে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এমন কি হতে পারে মানুষের চিন্তাকে কোনো একটা ভুয়া কাজে কয়েক মাস ব্যস্ত রাখার জন্য এসব প্রকাশ করার প্রয়োজন। অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশ করা হয়েছে রাজাকারের তালিকায়। এই তালিকা প্রকাশের সর্বোচ্চ কর্ণধার ভুয়া তালিকাটিকে সঠিক বলে চালানোর জন্য ডিফেন্সও দিচ্ছেন। তিনি এই তালিকা তুলে না নিয়ে যেভাবে চালানোর জন্য জোড় দিচ্ছেন সেটাই হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নির্মাণের প্রধান গলদ।

বাংলাদেশের ইতিহাস কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে এভাবেই। এসবের প্রায় সবগুলোতে সত্য, ন্যায় কিংবা কলমের চেয়ে মিথ্যা, অন্যায় ও গায়ের জোড়ই বেশী। এত বড় একটা জনগোষ্ঠীকে কিভাবে মিথ্য এবং ভূয়া ইতিহাস চর্চায় সকল জ্ঞানপাপী নিয়োজিত রেখেছে মাঝে মাঝে ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। এই যে ভুল বা ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়া এবং ভুল বা ভুয়া তালিকা প্রকাশ করা এগুলো শুদ্ধ হবে কবে। শুদ্ধ করবে কে?

মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, সাংবাদিক

পাঠক কলামের কোন লেখার বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন দায় নিবে না। লেখক তার নিজের লেখার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন