দেশ মাতৃকার স্বাধীনতায়, প্রেমবাগ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকথা

মোঃ মিজানুর রহমান, অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি | পাঠক কলাম
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০২:২৭:৩৫ পিএম
দেশ মাতৃকার স্বাধীনতায়, প্রেমবাগ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকথা
লাল সবুজের পতাকার জন্ম দিয়ে সারা বিশ্বের মানচিত্রের বুকে যারা একে দিয়েছিলেন একটি নাম বাংলাদেশ। সেই মহান মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারনায় এবার প্রেমবাগ ইউনিয়নের ক’জন মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরা হলো। এর মধ্যে প্রেমবাগ ইউনিয়নের বনগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন সেই ঐ গ্রামের মোবারক আলী মোড়লের ছেলে, মায়ের নাম মরহুম ফাতিমা বেগম। বিবাহিত জীবনে তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক।

তিনি দেশ মার্তৃকার স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালের জুন মাসে, যখন তার বয়স মাত্র ১৪ বছর তখনি তিনি দেশকে পাক শত্রুমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ভারতের উত্তর প্রদেশের ঠান্ডুয়া ক্যান্টমেন্টের জেনারেল সুজন সিং ও ভান এর অধীনে ট্রেনিং গ্রহন করে মুক্তি যুদ্ধে যোগদান করেন। তিনি বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের উপ অধিনায়ক আলহাজ্ব শাহ রফিকুজ্জামানের অধীনে রানাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধা আ: মালেকের সংগে থেকে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ করে তিনি কি পেলেন বা কি পাননি এটা বড় কথা নয়, তিনি মনে করতেন এখন তিনি স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ, এটাই তার গর্ব। এই দেশে জন্মগ্রহন করে তিনি নিজেকে গর্বীত মনে করেন। স্বাধীনতার সুফল সবাই ভোগ করুক এটার তার চাওয়া।

তেমনি আর এক মুক্তিযোদ্ধা এ ইউনিয়নের পুড়াটাল গ্রামের মরহুম তোরাপ মোল্যা ও মাতা শুকলি বেগমের ছেলে মো: আ: সাত্তার মোল্যা। তিনি ১ পুত্র সন্তানের গর্বিত জনক। আ: সাত্তার ভারতের তান্ডুয়ায় ট্রেনিং নিয়ে পীরজাদা শাহ রফিকুজ্জামান ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আ: মালেক মোল্যার সংগে করে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। জীবনের এই পরন্ত সময়ে তার একমাত্র চাওয়া দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করুক এই স্বাধীন বাংলায়। তিনি বর্তমানে জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

অপরদিকে অত্র উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান যার কথা না বললেই হয় না। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ এর ভাষন তখন তিনি মাত্র ১৫ বছরের তরুন বালক। দেশের অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে দেশ ও মার্তৃকাকে পাক হানাদার মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যায়ে ১৯৭১ সালের জুন মাসের শেষের দিকে বাড়ী থেকে পালিয়ে যেয়ে বারাকপুরে অস্ত্র টেনিং ক্যাম্পে মাস ব্যাপী কঠোর অনুশীলন ও উপযুক্ত ট্রেনিং নিয়ে দেশকে পাক হানাদার মুক্ত করতে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেন। এই মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের বনগ্রামে। সে উক্ত গ্রামের মরহুম তোরফান মোল্যা ও মাতা সোনাভান বিবির ছেলে। তিনি ৩ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের গর্বিত জনক।

সাদামনের এই মুক্তিযোদ্ধার জীবনের শেষ বিকালে দেশ ও জাতীর কাছে একটাই চাওয়া বাংলাদেশ বিশ্বেরবুকে মাথা উচু করে দড়িয়ে থাকবে এটাই কাম্য, আমরা বীরের জাতী, ৭১ এ দেশকে পাক হানাদার মুক্ত করতে জীবন বাজি রেখে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছি তেমনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধহয়ে সকল পরাশক্তিকে পরাজিত করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বাংলাপত্রিকা/ওএন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন