‘স্বপ্ন পূরনে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে’

রুবেল আহমেদ, কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি | সাক্ষাৎকার
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০১:১২:৩১ এএম
‘স্বপ্ন পূরনে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে’
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কেন্দুয়ার গ্রামের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালে কমান্ডার এ এস এম নাসিমের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। মোঃ জালাল উদ্দিনের মত জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের ত্যাগের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

সম্প্রতি এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে আলাপে মুক্তিযোদ্ধের কিছু ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পেরেছেন আমাদের কাপাসিয়া প্রতিনিধি রুবেল আহমেদ।
সাক্ষাৎকারটি বাংলা পত্রিকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

বাংলা পত্রিকাঃ আপনি কি স্ব-শরীরে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
হ্যাঁ, যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন আমি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ছিলাম। চাকরী থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলাম। এলিভেন্ট ইস্ট ব্যাঙ্গল রেজিমেন্টের  অধীনে ছিলাম। ৩নং সেক্টরের অধীনে আমি ছিলাম। আমার কমান্ডার ছিল এ এস এম নাসিম।

বাংলা পত্রিকাঃ আপনি কোথায় প্রশিক্ষন নিয়ে ছিলেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
আমি প্রশিক্ষন নেওয়ার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম। আমার সাথে ছিল মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ ইদ্রিস আলী সাহেব। তারা আমার গ্রামেরই। ১৯৭১ সালের  অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ ট্রেনিং করার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম।

বাংলা পত্রিকাঃ আপনি কতদিন যুদ্ধ করেছিলেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
অক্টোবর থেকে নভেম্বর পযর্ন্ত ট্রেনিং করে আমরা ডিসেম্বরের ১তারিখে পাইক পাড়া গ্রাম দিয়ে ঢুকি। ঐদিন রাতে আমরা গ্রামে অবস্থান করি। পরদিন আমরা রওয়ানা হই।  আমাদের কমান্ডো ছিলেন এস এম নাসিম। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে ১২তারিখ পযর্ন্ত স্ব-শরীরে যুদ্ধ করি।

বাংলা পত্রিকাঃ যুদ্ধের সময়ের আপনার স্মরনীয় কোন ঘটনা আছে কি?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
অনেক ঘটনাই আছে। তবে আমরা যখন পাইকপাড়া দিয়ে আশুগঞ্জ যাচ্ছিলাম তখন আমাদের সামনে একটি ঘটনা ঘটে। যা আজও আমার মনে পড়ে। তখন কে এম সফিউল্লাহ ২ রেজিমেন্ট হাতে পাকবাহিনী পরাজিত হয়। পাকবাহিনী ও মুক্তি বাহিনী মুখমুখি হয়। এক সময় পাকবাহিনী সেলেন্ডার করে। তারা খোলা মাঠে হাত উপরে দিকে করে রাখে।  কিন্তু ঐ সময় ঐ ভঙ্গিমায় মুক্তি বাহিনীর উপর আক্রমন করেন। এবং অনেক মুক্তিবাহিনী আহত হয়।  সেদিন পাকবাহিনী  সেলেন্ডার করেও আক্রমণ করেছিল।

বাংলা পত্রিকাঃ বঙ্গবন্ধুকে আপনি সরাসরি দেখেছিলেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
হ্যাঁ, ৭ই মার্চ এর ভাষণের সময় আমি ছিলাম। তখন বঙ্গবন্ধুকে দেখেছিলাম। আবার ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফিরেছিল তখন আমি সেখানেও ছিলাম।এ ই দু’বার বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে আমি দেখেছিলাম।

বাংলা পত্রিকাঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে আপনি কতটুকু অনুপ্রানিত হয়েছিলেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
৭ই মার্চের ভাষণ আমাকে সবচে বেশী অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেছিলেন তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে মোকাবিলা করো।  রেডিওতে তখন বজ্রকণ্ঠ একটি অনুষ্ঠান হতো,  সেই অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ হতো। আমরা তা শুনতাম। আরেকটি অনুষ্ঠান হতো চরম পত্র নামে। এ অনুষ্ঠানটি পাকবাহিনীকে ব্যাঙ্গ করে করা হতো।

বাংলা পত্রিকাঃ যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন সে স্বপ্ন আজ কতটুকু পূরণ হয়েছে আপনার মনে হয়?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
স্বপ্ন পূরনে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে। এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা আমাদের ইচ্ছা ছিলনা। মানুষের মনে কেন যে এমন অস্থিরতা এমনটি চাই না। মানবিকতায় দেশ পরিপূর্ণ চাই।

বাংলা পত্রিকাঃ ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের আজ কতটুকু সম্মান দিতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
আওয়ামী লীগ ই তো স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।  শেখ মুজিবুর রহমান না থাকলে দেশ স্বাধীন হতো কি না সন্দিহান আমি।  শেখের মেয়ে হাসিনা আমাদের যতেষ্ট সম্মান দিয়েছেন। অনেক সুযোগ সুবিধা আজ আমরা পাই। শুনেছি মুক্তিযোদ্ধাদের নাকি পরিবহন ভাড়া লাগেনা। কিন্তু এক্ষত্রে শুধু আপমাণ ই পেলাম। কার্ড দেখানোর পর ও মানতে রাজি না। এখন আর বলি না আমি মুক্তিযোদ্ধা।

বাংলা পত্রিকাঃ ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয় রক্ষা করা কঠিন’এ কথা আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন:
স্বাধীনতার ভার বহন করা বড়ই কঠিন। অক্ষুণœ রাখতে হবে। আমার একটাই দাবি স্বাধীনতা সম্মান বৃথা যেন না যায়। আজকের জনগণ যেন স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানে।
বাংলা প্রত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।জাতি আপনাদের মূল্যায়ন করুক সবসময় এটাই আমার প্রত্যাশা।

বাংলাপত্রিকা/এসআর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন